এম শরীফ ভূঞা সাহেব পেশায় একজন সংবাদকর্মী। দিনভর খবরের পেছনে ছোটা, ডেডলাইনের চাপ আর শহরের কর্মব্যস্ততা—সব মিলিয়ে তার জীবনটা বেশ কাঠখড় পোড়ানো। কিন্তু দিনশেষে যখন তিনি বাড়ির কলিংবেলটা চাপেন, মুহূর্তেই তার সব ক্লান্তি কর্পূরের মতো উড়ে যায়। কারণ তিনি জানেন, দরজা খুললেই সাড়ে তিন বছরের এক টুকরো আনন্দ তার জন্য অপেক্ষা করছে—যার নাম সাদিকা সুবহা।
বাবার কাছে সুবহা কেবল তার মেয়ে নয়, সে যেন তার সারাদিনের জমানো প্রশান্তির নাম। সুবহাও ঠিক উল্টো; মা বা অন্য কারো চেয়ে বাবার সান্নিধ্যেই সে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাদের এই রসায়নকে মা ডাকেন ‘বাপ-বেটির আত্মার টান’।
ছুটির দিনে শরীফ সাহেব সুবহাকে নিয়ে যখন ঘুরতে বের হন, তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। বাবা তার সাংবাদিকতার গাম্ভীর্য ঝেড়ে ফেলে একদম ছোট শিশু হয়ে যান। রাস্তার ধারের ঘাসফুল থেকে শুরু করে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া চিল—সবকিছু নিয়েই সুবহার হাজারো প্রশ্ন।
— “বাবা, ওই পাখিটা কোথায় যাচ্ছে?”
— “বাবা, আকাশ কেন নীল? ও কি মন খারাপ করে কাঁদবে?”
— “বাবা, রিকশার চাকা কেন ঘোরে?”
শরীফ সাহেব বিরক্ত হন না, বরং অতি আগ্রহে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় তিনি জানেন সত্য খুঁজে বের করতে হয়, আর বাবার অভিজ্ঞতায় তিনি শিখছেন কীভাবে শিশুর ছোট্ট পৃথিবীর কৌতূহল মেটাতে হয়। সুবহা যখন বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে হাঁটে, তখন শরীফ সাহেবের মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘ব্রেকিং নিউজ’ বা সাফল্যের চেয়েও এই ছোট হাতের স্পর্শটা অনেক বেশি দামী।
কাজের বাইরে তার পুরো জগতটাই এখন সুবহাকে ঘিরে। কখনো সে বাবার পিঠে চড়ে ঘোড়া দৌড়ায়, কখনো আবার বাবার চশমাটা পরে নিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে ‘সংবাদ’ পড়ার অভিনয় করে। শরীফ সাহেব মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে।
এক জন পেশাদার সাংবাদিক এবং এক জন অবুঝ শিশুর এই যে গভীর সখ্যতা, তা আসলে কোনো সাধারণ সম্পর্ক নয়; এ যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা দুটি হৃদয়ের গল্প, যেখানে ভালোবাসা আর বিশ্বাস কথা বলে নীরব ভাষায়।
মুক্ত কলম
মুহাম্মদ আবদুল্যাহ নয়ন :
বেতন বৈষম্য দূরীকরণ ও নিজেদের পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠাসহ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনে নামছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।
ইতোপূর্বে এসব শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডের দাবি জানালেও তা বাস্তবাইয়ন না হওয়ায় এবার সরাসরি দশম গ্রেডের দাবি নিয়ে রাজপথে নামছেন শিক্ষকরা। সহকারী শিক্ষকদের এই দফা দাবী অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিক।
এক.
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের সর্বশেষ নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ যোগ্যতা স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণির করা হয়েছে এবং শিক্ষগত জীবনে কোন তৃতীয় শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়। এই সম যোগ্যতা নিয়ে প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য ডিপার্টমেন্টে কর্মরতরা ১০ম গ্রেডে বেতন ভাতা পাচ্ছেন। যেমন-সকরারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, সাব-ইন্সপেক্টর, নার্স/সিনিয়র নার্স, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা,ইউনিয়ন পরিষদের সচিব,বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ১০ম গ্রেডে বেতন ভাতা পেয়ে থাকেন। এমনকি একই পাঠ্যবই,একই সিলেবাস,একই বয়সের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে কাজ করে পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর এদের সবার যোগ্যতা স্নাতক। উল্লেখিত যুক্তি গুলো তুলে ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় গত ৭ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ৩৬৪ নং স্মারকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীত করার জন্য অর্থ মন্ত্রনালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠান। অর্থ মন্ত্রনালয় সেই প্রস্তাব পে-কমিশনে প্রেরণ করে। পে-কমিশনের সাথে সহকারী শিক্ষক সমিতিসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন মিটিং করলে সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয় বেতন গ্রেড উন্নীত করা পে-কমিশনের কাজ নয়। এটা সার্ভিস কমিশনের কাজ।প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সরকার গঠিত ৯ সদস্যের একটি কনসালটেশন কমিটি করা হয়েছে, যার আহ্বায়ক হচ্ছেন ব্রাক বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইমিরেটস ড. মনজুর আহমদ। তাঁরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে শিক্ষকদেরকে এট্রি পদে ১২ তম গ্রেড ৪ বছর পর ১১ তম গ্রেড দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু আজকে পাঁচ/ছয় মাসে ও সেটার বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অন্তবর্তী কালীন সরকার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্রাচার্যের নের্তৃত্ব গঠিত জাতীয় শ্বেতপত্র কমিটি তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছেন-শিক্ষকতা এমন একটি পেশা যেখানে মনোযোগ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে গড়ে তোলা হয়। সেজন্য তাদের বেতন দেওয়ায় কার্পন্য করা যাবে না। এমন কি বেতন কাঠামোর গ্রেড ও অন্য পেশার সঙ্গে তুলনা করা ও বাস্তব সম্মত নয়। শিক্ষকদের স্বাভাবিক জীবনধারা নিশ্চিত করলেই কেবল যথাযথ বুদ্ধিবৃত্তিক আউটপুট পাওয়া সম্ভব। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিন্ম ও এশিয়ার মধ্যে ৪৫ তম। তাই শিক্ষকদের দাবী গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরী।
দুই.
সরকারী চাকুরীতে কর্মরত কর্মচারীদের অধিকাংশই ব্লক পোস্টে চাকুরী করতে হয়। যদি ও উপরের পোস্টে অনেক ক্ষেত্রে সুপার নিউমারী পদ দিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার নিয়ম ও আছে। কিন্তু নিন্মের পোস্ট গুলো বেশীর ভাগই ব্লক হওয়ায় সককার কর্মচারীদেকে পদোন্নতি দিতে না পারলে ও যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগস্থ না হয় সেই জন্য ৭ম পে-স্কেল পর্যন্ত ৮/১২/১৫ বছরে তিনটি টাইম স্কেল দিয়ে আসছে। কিন্তু ৮ম পে-স্কেলে তৎকালীন সরকার এই সুবিধাটি বাতিল করে উচ্চতর স্কেল নামে ১০ ও ১৬ বছরে দুইটি স্কেল/গ্রেড সংযুক্ত করে। অর্থাৎ যেখানে পূর্বে ১৫ বছরে ৩ টি স্কেল/গ্রেড উন্নীত হতো ২০১৫ সালের পে-স্কেলে ১৬ বছরে সেটা ২ টা করা হয়েছে। ৮ম পে-স্কেলে এই উচ্চতর স্কেল বা গ্রেডে পাওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়-
উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা; (১) কোন স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ব্যতিরেকে একই পদে ১০ (দশ) বৎসর পূর্তিতে এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১১তম বৎসরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হইবেন।
(২) কোন স্থায়ী কর্মচারী তাহার চাকরির ১০ (দশ) বৎসর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্তির পর পরবর্তী ৬ (ছয়) বৎসরে পদোন্নতি প্রাপ্ত না হইলে ৭ম বৎসরে চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হইবেন। উচ্চতর গ্রেড পেতে পদোন্নতি ব্যতিরেকে ১০ বছর সময়সীমা লাগে কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেই উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাচ্ছেন না। ২০০৯ সালের পরে যারা যোগদান করেছেন তাদের কেউ এই উচ্চতর গ্রেড পায়নি। এই ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রনালয় শিক্ষকদের ২০২০ সালের গ্রেড উন্নীত করাকে অযুহাত দেখিয়ে শিক্ষকদেরকে উচ্চতর স্কেল/গ্রেড থেকে বঞ্চিত করছে। অথচ এটা কোন পদোন্নতি নয়। পে-স্কেলে বলা হয়েছে কোন স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ব্যতিরেকে একই পদে ১০ (দশ) বৎসর পূর্তিতে এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১১তম বৎসরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হইবেন। কিন্তু শিক্ষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। তারা শিক্ষকদেরকে ২০২০ সালের ১৩তম গ্রেড প্রদানের তারিখ ধরে সাবসটেন্টিভ গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করছে। অথচ যে সকল শিক্ষক ৭ম পে-স্কেল অনুযায়ী ১৫ বছরে তিনটা টাইম স্কেল পেয়েছে তারা ১৩তম গ্রেডের সাবসটেন্টিভ গ্রেড ধরে বর্তমানে ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আবার যারা ২০১৯/২০২০ সালে যোগদান করছেন তাদেরকে ও ১৩ তম গ্রেডের সাবসটেন্টিভ গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে আবার ১০ বছর গণনা করে শিক্ষকদেরকে উচ্চতর স্কেল/গ্রেড দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে ২০০৯ সালে যিনি যোগদান করছেন তিনি ও ২০৩০ সালে উচ্চতর স্কেল/গ্রেড পাবে। আবার ২০১৯ সালে যিনি যোগদান করছেন তিনি ও ২০৩০ সালে উচ্চতর স্কেল/গ্রেড পাবে। আবার যারা ৩ টা টাইমস্কেল পেয়েছে তারা ১৩ তমের সুবিধা নিয়ে ১০ম গ্রেডে বেতন পাবে। এখন কনসালটেশন কমিটির সুপারিশ বা শিক্ষকদের দাবীর প্রেক্ষিতে গ্রেড উন্নীত করা হলে এখন থেকে আবার দশ বছর গণনা করে উচ্চতর স্কেল/গ্রেড দেওয়া হবে।
আজকরর সময়, ফেনী :
ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক তৃতীয় মাত্রা পত্রিকার ফেনী জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবদুল আজিজ সায়েম। পত্রিকার সম্পাদক রবীন সিদ্দিকী গতকাল সকালে নিয়োগপত্র ও পরিচয় পত্র হস্তান্তর করেন।
বর্তমানে তিনি ফেনী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ফেনী সংবাদ পত্রিকার সদর উপজেলা প্রতিনিধি ও আজকের সময় পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এফটিভি নিউজ-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবেও কর্মরত আছেন।
পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন ফেনী সাংবাদিক ইউনিটির সাধারণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
আবদুল্লাহ নয়ন, আজকের সময় :
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়। এই দিন বিশ্বের সব শিক্ষকের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। আমি মাহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি তিনি আমাদেরকে সুস্থ ও সুন্দর ভাবে এখানে আসার ও বসার সুযোগ করে দেওয়ায়।
আজ আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি মানবতার মহান শিক্ষক,পৃথীবিকে সভ্যতার আলো পৌঁছিয়ে দেওয়ার মুক্তির দূত প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)কে। স্মরণ করছি আমার শৈশবের শিক্ষক আমার প্রথম শিক্ষক আমার বাবা-মা সহ প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত যাদের হাতে আমার শিক্ষা জীবন গঠিত হয়েছে ও যাদের থেকে আমি একটি শব্দ ও শিখেছি সেই সকল মহান শিক্ষকদেরকে। তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। আর যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশে দেশে যখন নতুন ভাবনা নিয়ে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়, তখন ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (ইউনেস্কো) এক সভায় বিশ্বের শিক্ষকদের জন্য একটি ‘সনদ’ প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ঘোষণা করে, ‘শিক্ষা লাভ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশের হাতিয়ার।’ এরই ফলে ১৯৫২ সালে বিশ্ব শিক্ষক সংঘ (ডাব্লিউটিপি) গঠিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিশেষজ্ঞদের এক সভায় শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা এবং তা সমাধানের জন্য কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কোর এক সভায় শিক্ষকতা পেশার জন্য কী দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং কী অধিকার ও মর্যাদা, তা নিয়ে ১৪৬ ধারা-উপধারাবিশিষ্ট একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়। এই ইউনেস্কো/আইএলও’র সুপারিশকেই ‘শিক্ষক সনদ’ বলা হয়। বিশ্বের ১৭২টি দেশের ২১০টি শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থা এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের (EI) ক্রমাগত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনেস্কোর তৎকালীন মহাপরিচালক ড. ফ্রেডারিক মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষণার ফলে ওই বছর থেকে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। এর লক্ষ্য শিক্ষক সনদ বাস্তবায়ন করা। ১৯৯৫ সালে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়।
ইউনেস্কো গতিশীল মনের অধিকারী কর্তব্যনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০২৫ সালে ৩১তম বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল বিষয় হিসেবে ‘Reacasting Teaching as a Collaborative Profession বা শিক্ষকতা পেশা: মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি’ নির্ধারণ করেছে। এই দিবসটি উদ্যাপনকালে সারা বিশ্বের শিক্ষকদের মতো আমাদের দেশের শিক্ষকদেরও অতীতের সব অর্জন ও ব্যর্থতার সমীক্ষা করতে হবে এবং সেই সঙ্গে বিশ্বমানের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সম্মিলিতভাবে সচেষ্ট হতে হবে।
শিক্ষককে ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ এবং ‘আলোর দিশারি’ হিসেবে দেখা হয়। শিক্ষকতা সৃষ্টিকর্তার দেয়া মহান দায়িত্ব। আমি গর্বিত পৃথিবীর সকল পেশার মধ্যে সেরা পেশার একজন হতে পেরে। আমি আরো গর্ব বোধ করি এই জন্য যে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি নিজেই এ পরিচয় তুলে ধরে ঘোষণা করেছেন- বুয়েছতু মুয়াল্লেমুন ‘শিক্ষক হিসেবে আমি প্রেরিত হয়েছি (ইবনু মাজাহ :২২৫)।’
শিক্ষকদের কল্যাণার্থে তাঁর অন্যতম একটি দোয়া ছিল – “ হে আল্লাহ! সকল শিক্ষককে ক্ষমা করো। তাঁদের দীর্ঘজীবী নেক হায়াত দান করো।’’ পবিত্র ইসলাম ধর্মও শিক্ষকদের উচ্চ আসনে আসীন করেছে। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন- “ তোমরা জ্ঞান অর্জন কর এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব-শিষ্টাচার শিখো। তাকে সম্মান কর যার থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন কর। (আল-মুজামুল আউসাত :৬১৮৪)
পবিত্র কুরআন মাজীদের প্রথম নাজিলকৃত আয়াত হচ্ছে- (خَلَقَ الَّذِي رَبِّكَ بِاسْمِ اقْرَأْ), “পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন”। যা জ্ঞানার্জনের প্রতি ইসলামের অটুট আহ্বানের প্রতীক। পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রহমানের দ্বিতীয় আয়াত, যা আল্লাহ তা’আলা বলেন- (ٱلْقُرْءَانَ عَلَّمَ) (যার অর্থ “তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন”। তিনি মানুষ ও জ্বিনকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। يَعْلَمُونَ لَا وَالَّذِينَ يَعْلَمُونَ الَّذِينَ يَسْتَوِي هَلْ قُلْ
যুমার-আয়াত- ০৯, বল- যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? (يُوحَىٰ إِ وَحْيٌ لَّا هُوَ إِنْ الْهَوَىٰ ۚعَنِ يَنطِقُ وَمَا সুরা নজম । অর্থাৎঃ ( রাসুল সাঃ ) নিজ প্রবৃত্তি হতে কিছুই বলেন না বরং তিনি যা বলেন তা আল্লাহর পক্ষ হতে ওহী বটে । জ্ঞানীর কলমের কালী শহীদের রক্তের চেয়ে উত্তম। একজন আবেদের ইবাদত অপেক্ষা একজন জ্ঞানীর ঘুম উত্তম। বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (সঃ) বলেন- رَسُولِهِ وَسُنَّةَ اللَّهِ كِتَابَ بِهِمَا تَمَسَّكْتُمْ مَا تَضِلُّوا لَنْ أَمْرَيْنِ فِيكُمْ تَرَكْتُ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ তোমরা সে দু’টি জিনিস আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না- আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রসূলের হাদীস।
শিক্ষক নামটি বেশ ওজনদার। second mother খ্যাত শিক্ষক, প্রাণিত্বকে মনুষ্যত্বে কনভার্ট করার মহান দায়িত্বে ব্রত। শিক্ষকের কাজ সম্পর্কে বলতে গেলে Burtrand Russell –এর কথাটি না বললেই নয়। তিনি বলেন- শিক্ষকের কাজ দুটি। (১) শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি আগ্রহী করে তোলা। (২) সেই আগ্রহকে নিবৃত করা । কিতাবে- কলমে কাজ দুটোকে সহজ মনে হলেও প্রাক্টিকালি কাজ দুটো খুবই কঠিন। যারা এ দুটো কাজ সুচারুরূপে করতে পারেন তারাই শিক্ষক। তাদের পদতলে শিক্ষার্থীরা মাথা ঝুঁকাতে বাধ্য। শিক্ষকদের ও মনে রাখা উচিৎ , “ সবাই যদি পারদকে স্বর্ণ করতে জানে তাহলে স্বর্ণের দামটা থাকবে কোথায় ?” অর্থাৎ প্রকৃত শিক্ষক হয়ে উঠা বহু সাধনার বিষয়।
অসম্ভব সুন্দর যাদু দেখায় জুয়েলাইট । হাতের যাদুর কাঠি হয়ে উঠে ফু
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, ফেনী ও আগামীর বাংলাদেশ- সাংবাদিক এম. শরীফ ভূঞা
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, ফেনী ও আগামীর বাংলাদেশ
– সাংবাদিক এম. শরীফ ভূঞা
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। সেটি শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং তা ছিল এক সামাজিক ঘুরে দাঁড়ানোর নাম।
ফেনীর তরুণ সমাজ, নাগরিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের ভূমিকায় এ আন্দোলন পেয়েছে একটি ইতিবাচক রূপ।
এখন সময় এসেছে এই চেতনার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার।
যেখানে থাকবে না দমন-পীড়ন, থাকবে না দুঃশাসন। থাকবে স্বচ্ছতা, সম্মান ও সংলাপ।
২০২৪ সাল—বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাঁকবদলের বছর। নির্বাচনী প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধে মানুষের যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা অনেকটাই গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিয়েছিল। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত মানুষের কণ্ঠে একটাই সুর—জবাবদিহি চাই, স্বচ্ছতা চাই, অধিকার চাই।
এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা ফেনী একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক সচেতনতা, তরুণ প্রজন্মের সোচ্চার অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক শক্তির কারণে ফেনী ২০২৪-এর গণআন্দোলনের এক বলিষ্ঠ মঞ্চে পরিণত হয়।
বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে অংশগ্রহণহীন নির্বাচন, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বেকার সমস্যা, দুর্নীতি এবং সরকারি সেবার অকার্যকারিতা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
এই বিক্ষোভ বা আন্দোলনকে অনেক বিশ্লেষক ‘আধুনিক যুগের গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে দেখেছেন। কারণ, এটি ছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ, সংগঠিত এবং নাগরিক দাবির ভিত্তিতে পরিচালিত।
নিরব বিপ্লবের শহর ফেনী একসময় ছিল মফস্বলের নিভৃত জনপদ। অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ভাষা আন্দোলন হোক কিংবা মুক্তিযুদ্ধ, কিংবা ১৯৭৪ সালের ১৭ জুলাইয়ের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’, ফেনী তার প্রতিরোধের পরিচয় রেখে এসেছে বারবার।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানেও ফেনী থেমে থাকেনি। শহরের প্রাণকেন্দ্র মহিপাল, ট্রাংক রোড, রেল স্টেশন এলাকা থেকে শুরু করে দাগনভূঁইয়া, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া—সব জায়গায়ই দেখা যায় নাগরিক প্রতিবাদ।
তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত শিক্ষার্থীরা, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদে নামে।
তাদের কণ্ঠে ছিল কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুশাসনের দাবি।
তারা রাস্তা বন্ধ করেনি, গাড়ি ভাঙচুর করেনি; কিন্তু মানববন্ধন করেছে, তথ্যভিত্তিক স্লোগান দিয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়েছে।
নেতৃত্ব ও সংগঠনের দিক
ফেনীর গণপ্রতিরোধকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এটি ছিল সুসংগঠিত ও সচেতন নেতৃত্বের ফল। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক পরিষদ, ছাত্রসংগঠন ও সামাজিক সংগঠনগুলো শিক্ষিত, নিরপেক্ষ ও চিন্তাশীল নেতৃত্বের জন্ম দিয়েছে।
তরুণরা শুধুই ক্ষোভ নয়, বিকল্প চিন্তাও তুলে ধরেছে। অনেক জায়গায় তারা “অধিকার হোক আলোচনার বিষয়”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজন করেছে ওপেন ডায়ালগ, ক্যাম্পাস টক, এবং ভিডিও কনটেন্টের।
এই ধরণের সচেতন প্রতিরোধই প্রমাণ করে, ফেনী কেবল সমস্যার কথা বলে না, সমাধানের দিকও দেখাতে চায়।
সম্ভাবনার ফেনী: আগামীর মডেল। যদি স্থানীয় স্তরে সচেতনতা, সংগঠন ও অংশগ্রহণকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করা যায়, তবে ফেনী হতে পারে বাংলাদেশের একটি নেতৃত্বদায়ী মডেল জেলা। এর জন্য প্রয়োজন:
তরুণদের জন্য প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ:
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্টার্টআপ ইনকিউবেটর এবং ফ্রিল্যান্সিং একাডেমি স্থাপন করা জরুরি।
নতুন শিক্ষাব্যবস্থা:
বাস্তবমুখী কারিকুলাম, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষায় ফেনীকে একটি আঞ্চলিক শিক্ষা-হাব বানানো সম্ভব।
স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি:
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাজ মনিটর করার জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে করে গণতান্ত্রিক চর্চা আরো গভীর হবে।
কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ উন্নয়ন:
ফেনীর গ্রামীণ অঞ্চল যেমন দাগনভূঁইয়া ও ফুলগাজীতে আধুনিক কৃষি ও হিমাগার স্থাপন করে কৃষকের আয় বাড়ানো সম্ভব।
রাজনীতি নয়, নাগরিক অধিকারই মূল। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা হলো—মানুষ রাজনীতি করতে চায় না, মানুষ অধিকার চায়। তারা চায়—ভোট দিতে, কর্মসংস্থান পেতে, নিরাপদে চলতে।
ফেনীর তরুণ সমাজ এটি ভালোভাবেই বুঝেছে। তারা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক পরিচয়কে বড় করে দেখছে। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।
ফেনী যদি জাগে, বাংলাদেশ বদলাতে বাধ্য।
গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি দিন নয়, এটি একটি আন্দোলনের ধারা, একটি সচেতন সমাজের আত্মপ্রকাশ।
লেখক: সম্পাদক, আজকের সময়, সাধারণ সম্পাদক, ফেনী সাংবাদিক ইউনিটি।
এম শরীফ ভূঞা :
বহু প্রতীক্ষিত ও বহু আকাঙ্ক্ষিত এক সফরের সূচনা। আল্লাহর অশেষ রহমতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সৌদি এয়ারলাইন্সে ঢাকা থেকে পবিত্র মদিনা শরীফের উদ্দেশ্যে রওনা হই। হজ্জ ও ওমরাহর উদ্দেশ্যে জীবনের প্রথম এই সফর ছিল আত্মা ছুঁয়ে যাওয়া অভিজ্ঞতায় ভরপুর।
মদিনায় ৬ দিন অবস্থান করি আর মক্কায় ০৮ দিন। মসজিদে নববীতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমআ আদায় করি—প্রতিটি রাকাত যেন হৃদয়ের ভেতরে প্রশান্তির স্রোত বইয়ে দেয়। রওজা মোবারক জিয়ারতের সময় অন্তর কেঁদে উঠে। জান্নাতুল বাকি, জ্বীনের পাহাড়, ক্বুবা মসজিদসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সফর আমাকে প্রিয় নবীজির (সা.) জীবন ও সাহাবিদের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শান্ত মদিনা শহর আর প্রবাসী ভাইদের আন্তরিকতা হৃদয়গ্রাহী ছিল।
শুক্রবার জুমআ নামাজ শেষে মিকাত থেকে এহরাম পরে সড়কপথে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। হারাম শরীফে পৌঁছে প্রথমবার কাবা শরীফ দর্শনে মন ভরে আসে। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখর। মোয়াল্লেমের সহায়তায় তাওয়াফ, সাঈ করে প্রথম ওমরাহ সম্পন্ন করি।
পরবর্তী দিনগুলোতে মরহুম পিতা, মাতা, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং সন্তানদের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে ওমরাহ আদায় করি। প্রতিটি ওমরাহ ছিল ভিন্ন এক আত্মিক অনুভব। জেদ্দা শহর, আয়েশা মসজিদ, তায়েফ শহর, লোহিত সাগরের তীর ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সফর করি। কাবা শরীফের পাশে অবস্থান যেন জান্নাতের সন্নিকট।
সকলের সহযোগিতাপূর্ণ সফর কিভাবে কেটে গেলো টের পায়নি। এর মাঝে আমাদের আসার খবর পেয়ে নাজরান শহর থেকে মক্কায় বিমানে উড়ে আসেন বিজয়পুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান একরামুল হক। উনার সাথে কয়েকবার ওমরাহ পালনের সৌভাগ্য হয়েছে। দেশে ফেরার দুইদিন আগে দেখা করতে আসেন জেদ্দা কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা জালাল আহমেদ। ছুটির দিনে জেদ্দা শহর ও সী বিচ ঘুরে দেখান। সন্ধ্যার পর আল বাইকে খাবার শেষে হোটেলে নিজস্ব রুমে ফিরে আসি। প্রবাসী ভাই ফারহানুল হক নিশান অফিসের কাজে জর্ডান থাকায় মদিনায় দেখা না হওয়ায় তিনদিন পর মক্কায় দেখা করতে ছুটে আসেন। স্বল্প সময়ে ভালো লাগার মুহুর্ত ছিলো। মদিনায় এফ টিভি ব্যুরো চীফ দেলোয়ার হোসেন সুমন ভাই, আলমগীর হোসেন ভাই সহ অসংখ্য প্রিয় মানুষের আপ্যায়ন ভুলার মত নয়। অনেকে দেখা করার ইচ্ছে থাকলে সময় সুযোগের কারনে সম্ভব না হওয়ায় খোঁজ খবর নিয়েছেন।
দেশে ফেরার দুই সপ্তাহ পর আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার পুত্র এম শেহজাদ ভূঞা জন্ম নেয়। একমাত্র কন্যা সাদিকা সুবহা বাবাকে কাছে পেয়ে পরিপূর্ণ হয়।
এই সফর শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং জীবন বদলে দেওয়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আল্লাহ যেন সকল মুসলমানকে হজ্জ ও ওমরাহ পালনের সৌভাগ্য দান করেন—আমিন।
লেখক, সাধারণ সম্পাদক, ফেনী সাংবাদিক ইউনিটি।
সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতাকে বলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের সমান্তরালে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন করতে হয় অপেক্ষাকৃত কম সুযোগ সুবিধা পেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে। যেখানে সুশাসন ও গণতন্ত্র থাকেনা সেখানে ঝুঁকি থাকে আরো বেশি। দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নে জড়িত ব্যক্তিদের আঁতে ঘা লাগলে তেঁতে ওঠেন তারা সংবাদপত্র, মিডিয়া তথা সাংবাদিকের উপর। যা “মুক্ত গণমাধ্যম” ধারণার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।
দাবি করার মোটেই কারণ নেই যে সকল সাংবাদিকই ধোয়া তুলসী পাতা। তাদের অন্যায়ও প্রচলিত আইনের অধীনে বিচার্য। কিন্তু তাই বলে নিরপরাধ সংবাদ মাধ্যম কর্মী কেন ঈর্ষার কারণে জিঘাংসার শিকার হবে?
সম্প্রীতি “রাজনীতি সমাচার” ও Nadira Kesob নামক ফেক ফেসবুক পেইজে একটি তথ্য বিভ্রাটে ভরা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভিডিও বার্তা দেখলাম! যেখানে অন্যায়ভাবে একজন সিনিয়র সাংবাদিক, তার স্ত্রী এমনকি তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেধাবী বাচ্চাদেরও আক্রমণ করতে ছাড়েনি।
০৩ মে আন্তর্জাতিক মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রাক্কালে নিউজটি দেখে কৌতূহলী পাঠক ও অনুসন্ধিৎসু প্রাক্তন সংবাদ কর্মী হিসেবে চুপ থাকা মোটেই সমীচীন মনে করছি না। বিশেষত যে সাইফুল্যাহ কামরুল (স্টাফ রিপোর্টার, সময় টিভি) কে অন্যায় আক্রমণ করে তার চরিত্র হনন ও সামাজিকভাবে মান-সম্মান ক্ষুন্ন করা হয়েছে। তিনি আমার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সুপরিচিত পরিচ্ছন্ন ক্যারিয়ারের মেধাবী ও পরিশ্রমী সাংবাদিক। পারিবারিকভাবেও পরিচিত হওয়ায় তার বনেদি ও সম্ভ্রান্ত ফ্যামিলি সম্পর্কে আমার জানবার সুযোগ হয়েছে বেশ।
শিক্ষানুরাগী জনাব সাইফুল্যাহ কামরুল তার দুটি কন্যাকে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল খুলনায় পড়ালেখা করাচ্ছেন কেবল লেখাপড়ার প্রতি আন্তরিক হওয়ায়। পড়ালেখার খরচ চালাতে তিনি কতটা কষ্ট করে যাচ্ছেন তা তিনি তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন।শুধু তাই নয় অহিংস এ সাইফুল্যাহ কামরুল নিজের সন্তানদের পাশাপাশি নিজ জেলার ছেলেমেয়েদেরকেও স্বপ্নের ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য সম্প্রতি সুধী সমাবেশ করে তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলা সদরে রংপুর ক্যাডেট কোচিং এর একটি শাখা মাইজদীতে পরিচালনা করে আসছেন। যে প্রতিষ্ঠানে নোয়াখালী জেলার বিশিষ্টজনদের সন্তানেরা ক্যাডেট কোচিং করে আসছে,যা নোয়াখালী বাসীর শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ কল্যাণকর প্রতিষ্ঠানটিকেও আক্রমণের নিশানা করা থেকে তারা মুক্ত থাকেনি।
দীর্ঘদিন একই এলাকায় বসবাস করার সুবাদে প্রায় দেখতাম জনাব সাইফুল্যাহ কামরুল ভাড়ায় চালিত পরিবহনে করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যেতেন। কিন্তু তথাকথিত মিডিয়া লিখে দিল যে তার ২০ টি সিএনজি রয়েছে এবং দুটি দামী গাড়ি রয়েছে। ওই সুযোগ সন্ধানী লোকটির তথ্য যে পুরোটাই বিভ্রান্তিকর তা জানা যায় এসব কোনো গাড়ির কাগজপত্র বা অন্য কোনো ডকুমেন্ট তিনি উল্লেখ করতে পারেননি। নম্বর প্লেট মুছে প্রচার করা হয়েছে।
তদুপরি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দুইশএকরসহ ঢাকা, খুলনা, নোয়াখালী ও চৌমুহনীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জনাব সাইফুল্যাহ কামরুলের ভূমি আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই বায়বীয় তথ্য গুলোর বিপরীতে কোন ডকুমেন্ট ঐ ফেসবুক পেজটি উল্লেখ করতে পারেনি।
ডিজিটাল এই যুগে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির দলিল দস্তা বেজ বের করা মোটেই কঠিন কাজ নয়। কথাগুলো যে মিথ্যা ও হাস্যকর তার প্রমাণই হলো ডকুমেন্ট ছাড়া কথা বলা। তাহলে আর মুক্ত ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম হলো কই? মিথ্যা তথ্য সংবলিত রিপোর্টে জনাব সাইফুল্যাহ কামরুলের ২ কোটি টাকার যে ফ্ল্যাটটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা ৪৩ লক্ষ টাকা দিয়ে জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে তিনি ২০ বছরের কিস্তিতে নিয়েছেন। একজন সাংবাদিক ৩৫ বছর দেশের প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমে সাংবাদিকতা করে এবং তার স্ত্রী রিয়ান্তা সুলতানা ১৯ বছর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করে একটি ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া তাও আবার কিস্তিতে খুব খুবই অস্বাভাবিক কিছু?
শিক্ষক পিতার সন্তান জনাব সাইফুল্যাহ কামরুল কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর চৌমুহনী প্রি ক্যাডেট নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন তার এক বন্ধুসহ যৌথ উদ্যোগে। আমার পরিবারের সদস্য যেহেতু ওই বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে পরবর্তীতে এমবিবিএস ডাক্তার হয়েছে সেহেতু বিদ্যালয়টি আমি ভালো করেই চিনি জানি। চৌমুহনীতে এ বিদ্যালয়টি তার সুনামের কারনে মানুষ এক নামে চেনে।মজার বিষয় হলো তার স্ত্রীকেও বানিয়ে দেয়া হয়েছে এই স্কুলের মালিক। তার স্ত্রী রিয়ান্তা সুলতানা ডিপার্টমেন্টে আমার এক বছরের সিনিয়র বড় বোন। আমার জানামতে তাদের বিয়ে হয়েছে ২০ ০৪ সালে ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যোগদান করেন ২০০৬ সালে। তাহলে কী করে উনার স্ত্রী ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্কুলের মালিক হন?? আরো হাস্যকর বিষয় হচ্ছে উনার স্ত্রীকে একটি নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের ক্যাডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে কখনোই সম্পৃক্ত ছিলেন না। এই আপুকে আমরা দেখতাম প্রতিষ্ঠানে এসে ক্লাস করে চলে যেতেন এমনকি কোনো সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তেমন অংশগ্রহণ করতে দেখিনি, রাজনীতি তো দূরে থাক। বাংলা বিভাগের বেশিরভাগ মেয়েদের মত তিনি ও পর্দা করেই কলেজে আসতেন ও শালীন চলাফেরা করতেন যা উক্ত বিভাগের সকলেই জানেন। অথচ এ বয়সে এসে তাকে মানহানিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে স্বামীর সাংবাদিকতা পেশার কারনে। সাংবাদিকতার নামে এই অপসংবাদিকতার বিরুদ্ধে আমি তীব্র প্রতিবাদ নিন্দা ক্ষোভ এবং ঘৃণা জানাচ্ছি। পাশাপাশি মুক্ত গণমাধ্যম চিন্তার উন্মেষ কামনা করছি।
মানুষ মাত্রই ভুল বা অপরাধ করতে পারেন। প্রচলিত আইনে তার বিচারেরও সুযোগ আছে। কিন্তু তা না করে কারো সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে বা তার দায়িত্ব পালনে সমাজ ও রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা রক্ষা হওয়ায় যে নির্লজ্জভাবে তার চরিত্র হনন করা হলো তা মোটেও মুক্ত গণমাধ্যমের পথচলার জন্য শুভ ইঙ্গিত নয়। এভাবে চলতে থাকলে কেউই আর সৎ ও সাহসিকতার সাথে সংবাদ পরিবেশনের চিন্তা করবে না। পরিবার পরিজন নিয়ে নোংরামি বন্ধ না করা গেলে ভবিষ্যতে আরো অনেকেই এই সাইবার ক্রাইমের শিকার হবে।
তাছাড়া জনাব সাইফুল্যাহ কামরুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের রিপোর্টে নেটিজেনরা যে মতামত দিয়েছেন সেখানে শত শত লোক সাংবাদিক কামরুলকে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের সাহসী কর্তব্যপরায়ণ ন্যায়নিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিক হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। তদুপরি জনাব সাইফুল্যাহ কামরুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব কিছু ক্লিয়ার করেছেন যা একজন মানুষের মধ্য সততা না থাকলে করা বা বলা সম্ভব না।
মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আমার একটাই দাবি নাম গোত্র ও পরিচয়হীন অপসংবাদিকতায় লিপ্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাইট মিডিয়াগুলো চিহ্নিত করে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা ও মাধ্যমকে কলঙ্কমুক্ত করা হোক।
অপসংবাদিকতা নিপাত যাক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী কলম ও কন্ঠ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাক। সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতে থাকা ভূঁইফোড় মিডিয়া নামের বেনামি অপপ্রচার যন্ত্রগুলোর দৌরাত্ম বন্ধ হোক।।
লিখেছেন-
মহিব উল্লাহ খান ভুট্ট
প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, সোনাইমুড়ী সরকারি কলেজ
প্রধান শিক্ষক ফারুক ভূঞা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সেলাই মেশিন উপহার বিতরন
স্টাফ রিপোর্টার :
ভালোর সঙ্গে আলোর পথে এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকার অনুমোদিত ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন প্রধান শিক্ষক ফারুক ভূঞা মেমোরিয়াল যুব ফাউন্ডেশনের আয়োজনে পরিবারের হাসি প্রজেক্টে সেলাই মেশিন উপহার বিতরন ২৪ মার্চ সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ফেনীর উপপরিচালক সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ হাছান আলী।
ফারুক ভূঞা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক এম শরীফ ভূঞার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ফেনীর সহকারি পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি একেএম আবদুর রহিম, বিজয়পুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান একরামুল হক, ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মাখজাম হায়দার মিরাজ, উপদেষ্টা জালাল আহমেদ, ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরাম ফেনী জেলা শাখার সভাপতি শাহজালাল ভূঞা, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন, দাগনভূঞা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইফতেখারুল আলম, ব্যবসায়ী আনোয়ারুল করিম, দৈনিক নিখাদ খবরের জেলা প্রতিনিধি আবদুল আজিজ সায়েম, বিডি লাইভ প্রতিনিধি কামরুল হাসান নিরব প্রমুখ।
শেষে অতিথিবৃন্দ দুজন উপকারভোগীদের মাঝে সেলাই মেশিন উপহার হস্তান্তর করেন।
স্টাফ রিপোর্টার :
হাঁটি হাঁটি পা পা করে ফেনী জেলা শহরে প্রতিষ্ঠিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১৭ বছর ধরে বেকারত্ব দূরীকরণে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফেনী আইটি সেন্টারের সেবা চলমান। সাফল্যের এ ধারায় দেশ-বিদেশে অসংখ্য প্রশিক্ষনার্থী আজ স্বাবলম্বী।
ফেনী আইটি সেন্টার এন্ড কম্পিউটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক এম শরীফ ভূঞা জানান, বর্তমান প্রতিযোগিতার এ সময়ে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনেক বেশি হয়ে উঠেছে।
বর্তমান চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র। কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এক ধাপ এগিয়ে থাকেন কারণ তাদের কাছে বিশেষ দক্ষতা এবং জ্ঞান থাকে যা কর্মক্ষেত্রে অপরিহার্য। বিভিন্ন অফিস, কর্পোরেট সংস্থা, এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার জ্ঞান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আমাদের বিভিন্ন দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। যেমন: টাইপিং, ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, এবং আরও অনেক কিছু। এই দক্ষতাগুলি আমাদের পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনে কার্যকর হতে পারে।
কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন কাজ খুব দ্রুত এবং সহজভাবে করতে পারি। এতে সময় এবং শ্রমের সাশ্রয় হয়। উদাহরণস্বরূপ, ইমেইল, অনলাইন ব্যাঙ্কিং, এবং অনলাইন শপিং।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আমাদের চিন্তাধারাকে আরও উদ্ভাবনী এবং সমস্যা সমাধানে দক্ষ করে তোলে। প্রোগ্রামিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ আমাদের লজিক্যাল চিন্তা এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আমাদের ব্যক্তিগত উন্নতি এবং স্ব-নির্ভরতা বাড়াতে সহায়ক। আমরা আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন প্রোজেক্ট এবং কাজ সম্পন্ন করতে পারি যা আমাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা সহজেই সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। এর ফলে, আমরা বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ভাষার সাথে পরিচিত হতে পারি এবং আমাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারি।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আমাদের শিক্ষাগত ক্ষেত্রেও অনেক উন্নতি আনে। ই-লার্নিং, অনলাইন কোর্স, এবং বিভিন্ন শিক্ষা সফটওয়্যার ব্যবহার করে আমরা আমাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারি।