নিজস্ব প্রতিবেদক, কোম্পানীগঞ্জ :
আমেরিকার নিউইয়র্কের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক প্রবাসী বাংলাদেশী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন আমেরিকায় দীর্ঘদিন থাকা অবস্থায় হঠাৎ শরীরে ক্যান্সারের জীবাণু ধরা পড়ে। তখন থেকেই নিউইয়র্কের একটি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বেশ কয়েকবার টিউমার অপারেশন করা শেষে থেরাপীও চলছিলো। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েকমাস হলো আবার পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। দীর্ঘ একবছর মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২৫/৩০ কোটি টাকা চিকিৎসা ব্যয় করেও মৃত্যুর কাছে অবশেষে হেরে গেলেন। তার মৃত্যুতে আমেরিকা কমিউনিটি এবং তার নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনিবিপদে আপদে সবসময় এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন। সবার খোজখবর রাখতেন, সবার কাছেই অত্যন্ত সদালাপী হাস্যজ্বল মানুষ ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দেশে আশার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, টিকেট কেটে ফ্লাইটও করেছিলেন। হঠাত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে তাঁকে নিউইয়র্কের স্থানীয় একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিউ) রাখা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাংলাদেশে তাঁর দেশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড, খলিল মিয়ার বাড়ির এক মুসলিম সম্ভান্ত পরিবারের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। পরিবারে ৪ভাই ২বোনের মাঝে তিনি ছিলেন মেঝো। এছাড়াও বসুরহাট এ.এইচ.সি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিক মো: গিয়াস উদ্দিন রুবেল এর মেঝো ভাই।
নিউইয়র্কে তাঁর দীর্ঘদিনের বাস ছিল এবং তিনি স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির একজন সদস্য ও পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর এই অকাল ও বেদনাদায়ক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটি এবং তাঁর স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, নিউইয়র্কেই মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে পরবর্তীতে দ্রুত সকল আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে পরিবারসহ দেশে নিয়ে আসবেন। আগামীকাল/ পরশুর মধ্যে বাংলাদেশে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হবে, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।