Home » বাবার রাজকন্যা | ছোট গল্প | এম শরীফ ভূঞা

বাবার রাজকন্যা | ছোট গল্প | এম শরীফ ভূঞা

by ajkersomoy

এম শরীফ ভূঞা সাহেব পেশায় একজন সংবাদকর্মী। দিনভর খবরের পেছনে ছোটা, ডেডলাইনের চাপ আর শহরের কর্মব্যস্ততা—সব মিলিয়ে তার জীবনটা বেশ কাঠখড় পোড়ানো। কিন্তু দিনশেষে যখন তিনি বাড়ির কলিংবেলটা চাপেন, মুহূর্তেই তার সব ক্লান্তি কর্পূরের মতো উড়ে যায়। কারণ তিনি জানেন, দরজা খুললেই সাড়ে তিন বছরের এক টুকরো আনন্দ তার জন্য অপেক্ষা করছে—যার নাম সাদিকা সুবহা।
​বাবার কাছে সুবহা কেবল তার মেয়ে নয়, সে যেন তার সারাদিনের জমানো প্রশান্তির নাম। সুবহাও ঠিক উল্টো; মা বা অন্য কারো চেয়ে বাবার সান্নিধ্যেই সে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাদের এই রসায়নকে মা ডাকেন ‘বাপ-বেটির আত্মার টান’।
​ছুটির দিনে শরীফ সাহেব সুবহাকে নিয়ে যখন ঘুরতে বের হন, তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। বাবা তার সাংবাদিকতার গাম্ভীর্য ঝেড়ে ফেলে একদম ছোট শিশু হয়ে যান। রাস্তার ধারের ঘাসফুল থেকে শুরু করে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া চিল—সবকিছু নিয়েই সুবহার হাজারো প্রশ্ন।
​— “বাবা, ওই পাখিটা কোথায় যাচ্ছে?”
— “বাবা, আকাশ কেন নীল? ও কি মন খারাপ করে কাঁদবে?”
— “বাবা, রিকশার চাকা কেন ঘোরে?”
​শরীফ সাহেব বিরক্ত হন না, বরং অতি আগ্রহে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় তিনি জানেন সত্য খুঁজে বের করতে হয়, আর বাবার অভিজ্ঞতায় তিনি শিখছেন কীভাবে শিশুর ছোট্ট পৃথিবীর কৌতূহল মেটাতে হয়। সুবহা যখন বাবার আঙুল শক্ত করে ধরে হাঁটে, তখন শরীফ সাহেবের মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘ব্রেকিং নিউজ’ বা সাফল্যের চেয়েও এই ছোট হাতের স্পর্শটা অনেক বেশি দামী।
​কাজের বাইরে তার পুরো জগতটাই এখন সুবহাকে ঘিরে। কখনো সে বাবার পিঠে চড়ে ঘোড়া দৌড়ায়, কখনো আবার বাবার চশমাটা পরে নিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে ‘সংবাদ’ পড়ার অভিনয় করে। শরীফ সাহেব মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে।
​এক জন পেশাদার সাংবাদিক এবং এক জন অবুঝ শিশুর এই যে গভীর সখ্যতা, তা আসলে কোনো সাধারণ সম্পর্ক নয়; এ যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা দুটি হৃদয়ের গল্প, যেখানে ভালোবাসা আর বিশ্বাস কথা বলে নীরব ভাষায়।

আরো খবর