ইতালির রোমে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত কোম্পানীগঞ্জের একই পরিবারের তিনজন
নোয়াখালী প্রতিনিধি, আজকের সময় :
ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হামলায় নোয়াখালীর এক প্রবাসী বাংলাদেশি, তার স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়েসহ একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের জ্যেষ্ঠ ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টার দিকে রোমের অরেলিও এলাকার ভায়া মন্টিগ্লিও এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রবাসী কামাল হোসেন, তার স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তান। তারা দীর্ঘদিন ধরে ইতালির রোমে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। কামাল হোসেন স্থানীয় কাসাল সেলস এলাকার একটি সুপারমার্কেটে কর্মরত ছিলেন।
ইতালীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় এক হামলাকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা, মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। এ সময় পরিবারের জ্যেষ্ঠ ছেলে আহত হয়ে বাড়ির বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী পরিবারের পূর্বপরিচিত কেউ হতে পারে। আহত শিশুটি হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলতে চেয়েছিল বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পরপরই রোম পুলিশ, ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ ও হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানায়নি ইতালীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, এ ঘটনায় রোমের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পলাতক হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিরুনি অভিযান ও বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দেশে আশার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, টিকেট কেটে ফ্লাইটও করেছিলেন। হঠাত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে তাঁকে নিউইয়র্কের স্থানীয় একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিউ) রাখা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাংলাদেশে তাঁর দেশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড, খলিল মিয়ার বাড়ির এক মুসলিম সম্ভান্ত পরিবারের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। পরিবারে ৪ভাই ২বোনের মাঝে তিনি ছিলেন মেঝো। এছাড়াও বসুরহাট এ.এইচ.সি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিক মো: গিয়াস উদ্দিন রুবেল এর মেঝো ভাই।
কমিটির অন্যান্য পদের মধ্যে রয়েছেন— সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস দিদার (আমেরিকা) ও মোহাম্মদ নূরুল আলম (আবুধাবি), প্রচার সম্পাদক তারেক হোসেন সুমন (কাতার), সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন (সাউথ আফ্রিকা) ও মো: ইউনুস নবী (সৌদি আরব) এবং প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আবু নাছের (সাউথ আফ্রিকা)।
নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ জানান, দলের দুর্দিনে এই ফোরাম যেভাবে সবসময় পাশে ছিল, আগামীতেও সেই ধারা বজায় থাকবে। নতুন কমিটির মূল প্রত্যয় হলো—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে প্রবাস থেকে দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা। একই সাথে দাগনভূঞার প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এই ফোরাম আগামী দিনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।