Home » গ্রিন কার্ডের জন্য প্রতারণা ও নির্যাতন: মার্কিন দূতাবাসে প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ

গ্রিন কার্ডের জন্য প্রতারণা ও নির্যাতন: মার্কিন দূতাবাসে প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ

by ajkersomoy

ইকবাল মোর্শেদ, ঢাকা :

​​বৈবাহিক প্রতারণা, শারীরিক নির্যাতন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে হুমায়ুন কবির নামের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার স্ত্রী ইয়াদি রাজ্জাক। অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির ও অভিযোগকারী ইয়াদি রাজ্জাক উভয়ের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে।
​গত ৮ ফেব্রুয়ারি দূতাবাসে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র এবং ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে পাওয়া তথ্যে এক চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে।
​সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে সিভিল ম্যারেজের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। ইয়াদি রাজ্জাকের দাবি, বিয়ের পর থেকেই হুমায়ুন কবির তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। নির্যাতনের অভিযোগে ২০০৮ সালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছিল।
​অভিযোগকারী জানান, তাদের দাম্পত্য জীবন বহাল থাকা অবস্থাতেই হুমায়ুন কবির বাংলাদেশে একাধিক বিয়ে করেছেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে গোপনে একটি বিয়ে করেন এবং সেই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তিনি অন্য এক নারীকে ‘স্ত্রী’ সাজিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিয়ে হুমায়ুন কবির তার পরকীয়া প্রেমিকার কাছে পাঠাতেন বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি স্ত্রী বা সন্তানদের কোনো প্রকার ভরণপোষণ দিচ্ছেন না। আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী ইয়াদি ফিজিওথেরাপিস্ট হসপিটালে কর্মরত। ​নিজের অর্জিত সব অর্থ স্বামী ও সন্তানদের জন্য খরচ করেছেন।
ইয়াদি রাজ্জাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে হুমায়ুন কবির তাকে আইন বা পুলিশের কাছে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেন। অন্যথায় স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
​​অভিযোগপত্রে ইয়াদি রাজ্জাক উল্লেখ করেন, হুমায়ুন কবির তাকে সরাসরি জানিয়েছেন যে—তিনি কেবল গ্রিন কার্ড পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে বিয়ে করেছিলেন, তাকে কখনোই ভালোবাসেননি। সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তিনি মার্কিন গ্রিন কার্ড হাসিল করেছেন।
স্ত্রী ইয়াদি রাজ্জাক জানান, ​”২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে তিনি ঘরছাড়া এবং পরিবারের সাথে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন। সন্তানরা বাবার অপেক্ষায় থাকলেও তিনি কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। আমি এই জালিয়াতি ও প্রতারণার বিচার চাই এবং তার গ্রিন কার্ড বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
​বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার এই বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
অভিযুক্ত হুমায়ুন কবিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
নোয়াখালী পুলিশ প্রশাসন জানান, মার্কিন এ্যাম্বাসী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে গুরুত্ব সহকারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো খবর