ফেনী প্রতিনিধি :
‘কিছু কিছু দুষ্ট মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিএনপিকে যখন এ দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে, বিএনপি তার সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে—আইন সবার জন্য সমান। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমরা দেখছি, কিছু রাজনৈতিক দল কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।’
কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফেনীর পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে বহু মুরব্বি উপস্থিত আছেন, যাঁরা এখন অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। ১৯৭১ সালে তাঁদের কী ভূমিকা ছিল, আমরা দেখেছি। সেই সময় তাঁরা যেভাবে অন্যায় করেছিলেন, মা-বোনদের হয়রানি-নির্যাতন করেছিলেন, আমরা দেখেছি।’
‘১২ তারিখের নির্বাচনে কয়েকজন মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাঁরা কিছু আসনে নির্বাচিত হয়েছেন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে একাত্তর সালে মা-বোনদের ওপর তাঁরা নির্যাতন করেছিলেন, ঠিক একইভাবে আবারও তাঁদের নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। এই গুপ্ত বাহিনীর সদস্যরা কীভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করছেন, আমরা তা দেখছি। শুধু নির্যাতন করেই তাঁরা ক্ষান্ত হননি। তদন্তাধীন বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। একটি মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছেন তাঁরা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সময় এসেছে আমাদের সতর্ক হওয়ার। সময় এসেছে ভাবার—কাদের কথা বিশ্বাস করব আর কাদের কথা বিশ্বাস করব না।’
বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কীভাবে নারী নির্যাতন করছে, কীভাবে কী করছে, সেটি আগে সামাল দেন। তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।’
নিজের নানাবাড়িতে আসার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বহু বছর পর নানাবাড়িতে আসলাম। প্রথম আমি এখানে এসেছিলাম ১৯৮৪ সালে সম্ভবত। তারপর ১৯৯১ সালে আপনাদের মেয়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে যখন নির্বাচিত করেছিলেন, তখন নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন এ রাস্তা ছিল না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘কাজ করতে হবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। কাজ করতে হবে নানাবাড়ির মানুষের জন্য। সেই কাজের অংশ হিসেবে আজ মুহুরী-কহুয়া নদীর পুনঃখনন কাজ শুরু করেছি।’
মুহুরী-কহুয়া নদী খননের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশি দিন আগের কথা নয়, দুই-আড়াই বছর আগে বিশাল একটি বন্যা হয়েছিল। এখানকার মানুষসহ নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের লাখ লাখ মানুষের বাড়িঘর ভেসে গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদী-খাল খনন করব—নির্বাচনের আগে এ কথা আমরা বলেছিলাম। কারণ, বিএনপি রাজনীতি করে মানুষের জন্য। খাল খনন করা যে কতটা প্রয়োজন, তা বন্যা হোক বা কৃষিজমিতে পানি দেওয়া কিংবা মানুষের পানি ব্যবহারের সুবিধার জন্য হোক—বিভিন্ন কারণে বোঝা যায়।’
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্যের দাবির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৩০ বেডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তৈরি করেছিলেন। পরে আপনাদের সন্তান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসেন, তখন ২০ বেড বাড়িয়ে সমগ্র দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ বেডের করেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁদের রেখে যাওয়া দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে দেড় শ শয্যায় উন্নীত করবে। উপজেলার মানুষকে যেন কষ্ট করে বাইরে যেতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। এখানে বসে সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক বছর ধরে মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি। স্বৈরাচার গত ১৭ বছর ধরে মানুষের টুঁটি চেপে ধরে রেখেছিল। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। মানুষকে তারা কথা বলতে দেয়নি। মানুষের কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশা তারা দূর করেনি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২৪-এর ৫ আগস্ট দেশের মানুষ সেই স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিদায় করেছে। এই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দায়িত্ব দিয়েছে।