Home » সেনবাগে তাবিজ-কবজের আড়ালে ভয়াবহ প্রতারণার জাল, নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ

সেনবাগে তাবিজ-কবজের আড়ালে ভয়াবহ প্রতারণার জাল, নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ

by ajkersomoy

নিজস্ব প্রতিবেদক, সেনবাগ : 

​নোয়াখালীর সেনবাগ থানার উত্তর সাহাপুর গ্রামে ধর্মের দোহাই ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসার আড়ালে এক ভয়ংকর প্রতারক চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। আমির হোসেন (ওরফে খোনার) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কালো জাদু, প্রতারণা, পারিবারিক ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ আত্মসাতের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ব্যক্তি কেবল সাধারণ মানুষকে ঠকিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিজের মেয়েদের ব্যবহার করে ‘কাবিন ব্যবসা’ ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে একাধিক পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, আমির হোসেন নিজেকে চৌমুহনী কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের ‘প্রেসক্রিপশনার’ হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছেন। নিজের বাড়ির দরজায় একটি গোপন কক্ষে তিনি তথাকথিত ‘কালো জাদুর’ চর্চা করেন। তার মূল টার্গেট হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল নারী ও বিপদগ্রস্ত মানুষ।

​ভিকটিমদের অভিযোগ, কাজ করে দেওয়ার গ্যারান্টি দিয়ে তিনি শুরুতেই ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে ‘কাজ চলছে’ বলে আরও টাকার দাবি করেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে বা কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে, ‘অসমাপ্ত কাজে অমঙ্গল হবে’ বা ‘পরিবারের বড় ক্ষতি হবে’ বলে ভয়ভীতি ও অভিশাপ দিতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত কাজ না হলে বা টাকা ফেরত চাইলে তিনি ফোন ধরা বন্ধ করে দেন।

​আমির খোনারের প্রতারণার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে তার নিজের কন্যারা। তার বড় মেয়েকে রফিকপুর গ্রামের এক কুয়েত প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অর্থ আদায়। অভিযোগ আছে, জামাইকে বশ করতে তিনি জাদুটোনার আশ্রয় নেন। এক পর্যায়ে মেয়ের অশান্তির অজুহাত তুলে ৩৫০০০০ (সাড়ে তিন লক্ষ) টাকা যৌতুক ও কাবিন আদায়ের মাধ্যমে সেই সংসার ভেঙে দেন। বিচ্ছেদের মাত্র এক সপ্তাহ আগেও তিনি সেই প্রবাসীর কাছ থেকে ১২০০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

​একইভাবে দ্বিতীয় মেয়ের ক্ষেত্রেও তিনি আপন ভায়রা-ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে বিদেশগামী জামাইয়ের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। জামাই তার দাবি পূরণ না করে বিদেশে চলে গেলে, তিনি মেয়েকে ফুসলিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং জামাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে সেই প্রবাসীকে দেশে ফেরার পথ বন্ধ করে দিয়ে ৬০০০০০ (ছয় লক্ষ) টাকা দাবি করছেন মামলা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে। এমনকি দুই বছর ধরে ওই প্রবাসীকে তার নিজের সন্তানের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দিচ্ছেন না এই পাষণ্ড কবিরাজ।

​তৃতীয় মেয়ের ক্ষেত্রেও একই ছক। বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পর বেশি যৌতুক ও আর্থিক সুবিধার আশায় আগের ঠিক হওয়া বিয়ে ভেঙে দিয়ে গোপনে নারায়ণগঞ্জের এক ঠিকাদারের ছেলের সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দেন তিনি।

​আমির হোসেনের বিরুদ্ধে আরও একটি লোমহর্ষক অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের স্ত্রীকে ‘স্লো পয়জনিং’ (ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ) করে হত্যা করেছেন এবং পরবর্তীতে নিজের শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ মুখে মুখে ফিরছে।

​এতোসব অপরাধ এবং অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আমির হোসেন এলাকায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার এই প্রতারণার জালে পড়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলো এখন দিশেহারা। তারা প্রশাসনের কাছে এই ভণ্ড ও প্রতারক কবিরাজের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​এই বিষয়ে অভিযুক্ত আমির হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী পরিবার তার প্রতারণার বলি হবে।

আরো খবর