Home » কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা পদকে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আবদুল্যাহ নয়ন

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা পদকে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আবদুল্যাহ নয়ন

by ajkersomoy

নোয়াখালী প্রতিনিধি, আজকের সময় :

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টানা তৃতীয়বারের মতো উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে গৌরব অর্জন করেছেন মুহাম্মদ আবদুল্যাহ নয়ন। তিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।
২০১৪ সালে থানারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পেশাগত দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাকে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবদুল্যাহ নয়ন বলেন, “শ্রেষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কখনও কাজ করিনি। নিজের দায়িত্ববোধ ও ব্যক্তিগত আনন্দ থেকেই কাজ করি। আমি আমার পেশা নিয়ে গর্বিত। সকল শিক্ষার্থী আমার নিজের সন্তানের মতো। দিনের সেরা সময়টুকু আমি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটাই। তাদের নিখাঁদ ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। ধৈর্য, ভালোবাসা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরাও সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে। শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষা বুঝে পড়া, নিজের ভাব প্রকাশ এবং দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ গণনায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমি কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষকের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন তিনি সব শিক্ষার্থীকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আলোর পথে এগিয়ে নিতে পারেন।”
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দক্ষ বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে শ্রম, কর্ম ও আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে যেতে চান তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখিতেও তিনি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। শিক্ষা ও আর্থসামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হয়। শিক্ষা বিষয়ক কলাম ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি শিক্ষক সমাজেও প্রশংসিত হয়েছেন।
এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ২০২৪ সালে নোয়াখালী জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২৫ সালে শিক্ষক পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তিনি ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে টানা তিনবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এছাড়া ২০২৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গুণী শিক্ষক হিসেবেও নির্বাচিত হন।
পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২৩ সালে বাংলা বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচিত হয়ে কুমিল্লা পিটিআইতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং পরে উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। ২০২৫ সালে এটুআই-এর অধীনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার একমাত্র জেলা অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০২৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজার লিডারশিপ ট্রেনিং সেন্টারে ইংরেজি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের পর থেকেই তিনি সহকর্মী শিক্ষকদের বিভিন্ন পেশাগত কাজে সহযোগিতা করে আসছেন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ে সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। শিক্ষক সমাজের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে তিনি শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ ভোটে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
শিক্ষাগত যোগ্যতায়ও তিনি অনন্য। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) পরীক্ষায় সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩.৫৯ পেয়ে মাইজদী পিটিআইয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ২০৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১তম স্থান অর্জন করেন। তথ্যপ্রযুক্তিতেও তিনি দক্ষ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।
প্রায়োগিক শিক্ষার প্রসার ও কার্যকর শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে চলেছেন তিনি।
টানা তৃতীয়বার উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় আবদুল্যাহ নয়ন সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন, যাতে আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষা উন্নয়নে আরও সফলভাবে কাজ করে যেতে পারেন।

২০২৬ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠত্বের পদক প্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকরা হলেন- শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা হলেন যোগিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জনাব শুক্লা রানী বৈষ্ণব। শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হলেন মুছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানুর ফরহাদ। শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা হলেন রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব তাহমিনা সুলতানা। শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ আলী, প্রধান শিক্ষক,ফকিরের তাকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার, তিনি মধ্য পশ্চিম চরকাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
শ্রেষ্ঠ কর্মচারি নির্বাচিত হয়েছেন জনাব জনি আইচ, হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী। শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে মধ্য চরকাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোম্পানীগঞ্জ,নোয়াখালী। শ্রেষ্ঠ সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হলেন নিজাম উদ্দিন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, কোম্পানীগঞ্জ।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় গত ১৭ মে, পদক কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাং আশরাফ-উল -আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটির সভাপতি হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাসুদুর রহমান চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন।

আরো খবর