Home » নোয়াখালী বিএনপির ঘাঁটিতে ভাগ বসাতে চায় জামায়াত

নোয়াখালী বিএনপির ঘাঁটিতে ভাগ বসাতে চায় জামায়াত

by ajkersomoy

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুনভাবে উন্মোচিত হয়েছে নোয়াখালীর রাজনীতির বাস্তবতা। বিএনপির ঐতিহ্যগত ঘাঁটিতে এবার ভাগ বসাতে চায় জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

উপকূলের রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র নোয়াখালী দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ঠিক সেই কারণে বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রভাব, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বর্জন এবং প্রশাসনিক আধিপত্যের কারণে সব আসনই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার কিংবা রাজনৈতিক চাপ কোনোভাবেই থামাতে পারেননি বিএনপির মাঠমুখী কর্মীদের। দমে যায়নি দলটির মিত্র জামায়াতও। দুই দলের শক্তিই জনমনে রয়ে গেছে অবিকল।

নোয়াখালী-১ : আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএমএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। মনোনয়ন পাওয়ার পর চাটখিল ও সোনাইমুড়ীতে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়নবঞ্চিত ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদের তেমন কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী উপজেলা আমির মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ গত ১১ মাস ধরে প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় গণসংযোগ করছেন। গণসংযোগে ব্যস্ত দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী, সক্রিয় নারী কর্মীরাও। একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন জহিরুল ইসলাম।

নোয়াখালী-২ : আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, যিনি পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাঁর মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমানের অনুসারীরা। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। তিনি স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী হলেও ফল জালিয়াতির অভিযোগে হেরে যান; পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিজয়ী হন। এ ছাড়া এই আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খলিলুর রহমান বলেন, ইসলামী দলগুলো শেষ পর্যন্ত জোটবদ্ধভাবে ভোট করতে পারে।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) : আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা বরকত উল্লাহ বুলু চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। মনোনয়ন ঘোষণার পর কোনো বিরোধ দেখা যায়নি। মনোনয়ন ঘোষণার আগ থেকেই তিনি নিয়মিত উঠানবৈঠক, সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন, যিনি দুই মেয়াদে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এবং গোটা উপজেলায় পরিচিত। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুর উদ্দিন আমানতপুরী এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মো. মাসুমও প্রচারে সক্রিয়।

নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) : আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চারবারের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ভাবমূর্তির কারণে প্রার্থিতার পর কোনো বিরোধ দেখা যায়নি। মনোনয়ন ঘোষণার আগে থেকেই তিনি এবং তাঁর পক্ষে দলীয় নেতারা নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার গত নয়-দশ মাস ধরে মাঠে সক্রিয়। এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের আব্দুজ জাহের এবং ইসলামী আন্দোলনের ফিরোজ আলমও প্রচারে ব্যস্ত।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের দুটি ইউনিয়ন) : এটি প্রয়াত মওদুদ আহমদের আসন হিসেবে পরিচিত। এবার এখানকার বিএনপির প্রার্থী ব্যবসায়ী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে সরব রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহপল্লীবিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ। তাঁর অনুসারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। অসন্তোষ প্রশমনে জেলা বিএনপির নেতারা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী উপজেলা আমির বেলায়েত হোসেন। এই আসনে শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে লড়বেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়রা নুর। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবু নাছেরও নিয়মিত এলাকাজুড়ে প্রচার চালাচ্ছেন।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) : আসনে ব্যক্তি নির্ভর রাজনীতির প্রবণতা বেশি। এবার বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। প্রার্থিতার পর সাবেক এমপি ফজলুল আজিম ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তানভীর উদ্দিন রাজিব প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।  এ আসনে এনসিপির প্রার্থী জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, যিনি ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন এবং গত এক বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। জামায়াতের প্রার্থী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম শরীফও নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছেন।

আরো খবর