Home » অফিস ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি: প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’

অফিস ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি: প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’

থানায় অভিযোগ ও জিডির পরও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি

by wp_500elo

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, অফিসে ভাঙচুর, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সরকার স্বীকৃত ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ খালেদ সাইফুল্লাহ। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ এম এ হক শিপন ও মোহাম্মদ আলী আজিম তার পল্টন চায়না টাউনস্থ অফিসে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি, ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করেন। ঘটনার সময় তিনি ব্যবসায়িক কাজে চীনে অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ফোন, ফেসবুক ও বার্তার মাধ্যমে তাকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পল্টন মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ এবং ২৯ মার্চ ২০২৬ সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৮৭১) করেন। তবে এসবের পরও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।

খালেদ সাইফুল্লাহর অভিযোগ, এম এ হক শিপনের বন্ধু হিসেবে পরিচিত বরিশালের জুয়েল ও মাদারীপুরের শেখ ফরিদও বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি করেছেন। তার দাবি, তাদের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে বিষয়টির সমাধান দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং তিনি ধারাবাহিকভাবে হয়রানি ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন।

খালেদ সাইফুল্লাহর অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে তার জীবন, পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত এম এ হক শিপন কখনো রাজনৈতিক পরিচয় এবং কখনো প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রভাবিত ও প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সত্য হলে তা প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তির জন্যও বিব্রতকর বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন খালেদ সাইফুল্লাহ।

তিনি আরও আবেদন করেছেন, ভবিষ্যতে অভিযুক্ত বা তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর, প্রাণনাশের চেষ্টা কিংবা শারীরিক ক্ষতির মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হোক।

অভিযোগে খালেদ সাইফুল্লাহ উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে মামলায় কারাভোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের একজন হিসেবে দেশে ফিরে তিনি পরবর্তীতে সরকার স্বীকৃত ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পান।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের হয়রানি, একাধিক হুমকি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সময়ক্ষেপণের পরিপ্রেক্ষিতে এখন আর শুধু তদন্ত নয়—অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই তার প্রধান প্রত্যাশা।

আরো খবর