শিক্ষাঙ্গন
এম শরীফ ভূঞা, আজকের সময় :
ফেনী জেলার ১৮৫টি স্কুল থেকে ২০২৩ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ১৮ হাজার ১৯ জন অংশ নিয়ে ১৪ হাজার ২৭৭ জন কৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে শতভাগ পাশের তালিকায় উঠেছে ৬টি স্কুল। ফেনী সদর উপজেলায় ৪টি ও ছাগলনাইয়ার ২টি স্কুল রয়েছে। জেলায় পাশের হার ৭৯ দশমিক ২৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২১৬ জন।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে দাগনভূঞা উপজেলায়। এ উপজেলা থেকে ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৪০৩ জন অংশ নিয়ে ২৯৬০ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৯ জন। পাশের হার ৮৬ দশমিক ৯৮ ভাগ।
পাশের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে ফুলগাজী উপজেলা। এ উপজেলার ২১টি বিদল্যালয় থেকে ১৫০৫ জন অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১০০২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন। পাশের হার ৬৬ দশমিক ৫৮ ভাগ।
তবে জিপিএ-৫ এর তালিকা শীর্ষস্থানে রয়েছে ফেনী সদর উপজেলা। এ উপজেলার ৬৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৩১২ জন অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৫৯০৮ জন। জিপিএ-৫ লাভ করেছে ৮১৮ জন। পাশের হার ৮০ দশমিক ৮০ ভাগ।
ছাগলনাইয়া উপজেলার ৩০টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০৩১ জন অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৭০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ জন। পাশের হার ৮৪ দশমিক ১০ ভাগ।
পরশুরাম উপজেলায় ১৮ প্রতিষ্ঠানের ১২৭৮ জন অংশ নিয়ে ৯৪৯ জন পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৭ জন। পাশের হার ৭৪ দশমিক ৭৬।
সোনাগাজীর উপজেলায় ২৩টি বিদ্যালয় থেকে ২৪৯০ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১৭৫০ জন। পাশের হার ৭০ দশমিক ২৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬০ জন।
আজকের সময় ডেস্ক :
প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই সিলেবাস শেষ করে পরীক্ষাসহ জীবনের জন্য জরুরি সব দক্ষতা ও জ্ঞান দিয়ে শিক্ষার্থীদের তৈরি করার কথা স্কুল-কলেজগুলোর। বাস্তবে এর ছিঁটে-ফোঁটাও নেই দেশের প্রায় সব স্কুল-কলেজে। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম- সবখানেই একই পরিস্থিতি। শিক্ষার্থীদের সামনে বিকল্প তাই প্রাইভেট টিচার আর কোচিং। এতে অভিভাবকদের খরচ করতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের বাড়তি অর্থ। প্রশ্ন উঠছে, প্রাইভেটই যদি পড়তে হবে, তবে স্কুল কেন?
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে যে সারমর্ম মেলে- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব শিক্ষকদের কাছে এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে পড়তে বাধ্য হচ্ছে।
অভিভাবকদের প্রায় সবাইকেই ছেলেমেয়েদের পেছনে বাড়তি মোটা অংকের অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, স্কুল-কলেজে তাহলে কী হয়? শিক্ষকরা কী করেন? নিয়মতি পাঠদান করছেন না তারা? অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা পাঠদানের নামে দায় সারেন। এ ব্যাপারে কিছু বললে উল্টো সন্তানের স্কুলে পড়াশোনার ক্ষতির ভয়। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের কাছে কিংবা কোচিংয়ে পড়াতে হচ্ছে সন্তানকে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘শিক্ষা এখন বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে। এ কারণেই স্কুলে না পড়িয়ে কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন শিক্ষকরা। এটা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত। এমনটা প্রত্যাশিত ছিল না। এ থেকে উত্তরণ জরুরি। একজন শিক্ষক ক্লাসে পড়ালে কেন আবার সেই বিষয়ে শিক্ষার্থীকে কোচিংয়ে পড়তে হবে? গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে হবে।’ কোচিং বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো বাস্তবায়ন নেই বলে পর্যবেক্ষণ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবীর দুলু অভিযোগ করেন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের সদিচ্ছা নেই। তিনি বলেন, ওয়েবসাইটে কোচিং বন্ধে নীতিমালা জারি করেই দায় সেরেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোচিং বন্ধে মনিটরিংয়ের জন্য জেলা, উপজেলা ও বিভাগ পর্যায়ে যে কমিটি থাকার কথা বলা হয়েছে তা কোথাও নেই বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোচিংবাজ শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন। কিন্তু কার্যত পাল্টা কোনো ব্যবস্থা নেই’।
কোচিং বন্ধে ২০১২ সালে নীতিমালা করে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন শ্রেণিসময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেন না। কোনো শিক্ষক তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না। নীতিমালা অনুযায়ী অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে নিজ বাসায় পড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি লাগবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিতভাবে ছাত্রছাত্রীর তালিকা, রোল ও শ্রেণি উল্লেখসহ জানাতে হবে।
নীতিমালা না মানলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কোচিং-বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার এমপিও স্থগিত বা বাতিল, বেতন ভাতাদি স্থগিত, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, বেতন এক ধাপ অবনমিতকরণ, সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত ইত্যাদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফেনী প্রতিনিধি :
শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল, প্রতি ঘর হবে একটি স্কুল এ স্লোগানকে সামনে রেখে জেলায় প্রথম বারের মত সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের আরবিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদার্স ক্লাব উদ্বোধন করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন আহমেদ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া আচার্যীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার পাল, উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবদুল গণি, মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, কানিজ ফাতেমা, পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস এম আলা উদ্দিন ভূঁইয়া, পিটিএ সভাপতি আইয়ুব আহাম্মদ, সহকারি শিক্ষক সালমা, মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, বিশুদেব দাস, আবু জাফর সালেহ্ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারি শিক্ষক কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সহকারি শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব এর অনুপ্রেরণায় মাদার্স ক্লাব ও মনের আয়না কর্নার প্রতিষ্ঠিত হয়। শেষে সেরা ৫ জন মা কে সংবর্ধনা দেয়া হয় এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী ) প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতী ইউনিয়নের রহমানিয়া মাদ্রাসার নতুন ছবক দান ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে৷৷
বুধবার সকাল ১০ টায় চরপার্বতী ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাজী আসলাম মাষ্টার বাডির দরজায় অবস্থিত মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে এই নতুন ছবক দান ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়৷
পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও চরপার্বতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা কাজী মোঃ হানিফের সভাপতিত্বে ও হাফেজ মাওলানা মোঃ বাকের এর সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আলোচক ড. মোজাম্মেল হক আল আজহারী।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার মহতামিম হাফেজ মোঃ ইয়াসিন, সমাজ সেবক আবদুল কাদের, আবুমাঝির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল হাকিম বিএসসি, মেহেরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, ব্যাংকার আবুল বাসার, পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি আবদুল হালিম সহ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এতে উপস্থিত ছিলেন৷
উল্লেখ্য,২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৭৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে৷ যার মধ্যে নুরানি বিভাগে রয়েছে ৫৩০ জন ও হিফস বিভাগে রয়েছে, ২২০ জন শিক্ষার্থী৷ ২০২২ সালে বিভিন্ন পর্যায়ের বৃতি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে এই প্রতিষ্ঠানের ৩২জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে যা কোম্পানীগঞ্জের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে৷ ৪৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ১৭ টি নিজস্ব পরিবহন যার মাধ্যমে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী দৈনিক মাদ্রাসায় যাতায়াত করেন৷ তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে এই প্রতিষ্ঠানটিতে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী ভর্তি করানো অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে৷ এলাকার বিত্তবানদের নিকট সহযোগিতা ছেয়েছেন মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মোঃ ইয়াসিন৷
সংবাদদাতা : ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কেবল বাঙালির রাজনৈতিক বিজয় নয়, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিজয়। শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ফেনী মিজান রোডস্থ গ্রীনল্যান্ড কলেজের এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গ্রীনল্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল দিন ১৬ ডিসেম্বর। বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। বিজয় আমাদের সুযোগ দিয়েছে দেশমাতৃকার সেবা করার। ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি কলেজ অধ্যক্ষ এম এম ইউ আলমগীর বলেন, ‘বাঙালি কয়েক হাজার বছর ধরে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কেবল বাঙালির রাজনৈতিক বিজয় নয়, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিজয়। বিজয় দিবসে আমাদের স্মরণ করতে হবে সেই রক্তের ইতিহাস, দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস যা আমাদের বিজয়ের পথে ধাবিত করেছে। এই বিজয়কে সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততা, মমতা, দেশপ্রেম ও দক্ষতা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জনাব শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের শক্তি হলো বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির অপরিমেয় বোধের শক্তি। আমাদের বোধের মাধ্যমেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেছিলাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতিসন্তান হিসেবে আমরা উন্নয়নের ধারায় অগ্রসর হতে চাই এবং বিশ্ববাঙালি হিসেবে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
এছাড়াও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টায় গ্রীনল্যান্ড কলেজের উদ্যোগে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কলেজের প্রভাষক ফাহমিদা ফেরদৌসের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
(আজকের সময়/আইআই/ডিসে ১৬, ২০২২)
স্টাফ রিপোটারঃ
দাগনভূঞার বেকের বাজারস্থ দারুস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা উসমান গণির সঞ্চালনায় বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। জয়নগর আলিম মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শিহাব উদ্দিন, মাওলানা ইউছুপ, মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ সাদ্দাম হোসেন, মমারিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাংবাদিক এটিএম আতিকুল ইসলাম, মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জামাল উদ্দিন।
দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুশাররফ হোসেন। মনোজ্ঞ ইসলামি সংস্কৃতির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
মোঃ আলাউদ্দিন লিংকন, স্টাফ রিপোর্টারঃ নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট পূর্ব বাজার দারুল আযহার হিফয মাদ্রাসা অভিভাবক সমাবেশ ও হাফেজ ছাত্রদেরকে সবক পাগড়ী ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রাসার প্রাঙ্গনে বুধবার সকালে অনুষ্ঠানে মাওলানা মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান এর নেতৃত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন হযরত মাওলানা হাফেজ আব্দুর রহমান সাহেব (মুহতামিম, নাজিরপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসা, নোয়াখালী।)
আমন্ত্রিত মেহমান হযরত মাওলানা মুফতী নুরুল ইসলাম, পরিচালক, জামিয়া আমানিয়া মাদ্রাসা সেনবাগ,
হযরত মাওলানা মুফতি ইউসুফ কাসেমী, পরিচালক আশ্রাফুল উলুম মাদ্রাসা দাগনভূইয়া, হাফেজ মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক দারুল কুরআন ইন্টারন্যশনাল হিফজ মাদ্রাসা নোয়াখালী, হযরত মাওলানা আশরাফ আলী দিদার, মহাসচিব নুরানী তালীমুল কুরআন বোর্ড চটকিবাড়ী নোয়াখালী।
মাদ্রাসার পরিচালক নিজামুদ্দিন বলেন প্রতিটি মুসলামকে দ্ধীনি শিক্ষা অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানদের জন্যে ফরজ।
মোহাম্মদপুর ইউপির সদস্য কাজী জহিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন যারা মুসলমানদের মাদ্রাসা দ্ধীনি শিক্ষার ব্যপারে কুচক্র করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।
কাদরা ইউপির সাবেক সদস্য আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা ইমাম উদ্দিন সহ আরো অনেকই অত্র প্রতিষ্ঠানের ৪ জন ছাত্রকে পাগড়ি এবং ১০ জনকে সবকের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ করে।
মঙ্গলকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয় : তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চার শ্রেণিকক্ষে
এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
১১০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মঙ্গলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে পাশের হাইস্কুলের পুকুর পাড়ের দুটি কক্ষ সাময়িক অনুমতি নিয়ে চলছে পাঠদান। তাতেও সংকুলান না হওয়ায় ছাদের সিঁড়িঘরে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনের চাহিদার কথা জানানো হলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
শতর্বষ পেরোনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো ভুগছে নানা সংকটে। ফেনী জেলার প্রাচীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান অগ্রগামী। স্কুলে মূল আঙ্গিনা থেকে পৃথক পুকুর পাড়ে হাইস্কুলের পরিত্যক্ত ভবনে নির্জন স্থানে পাঠদান নিয়ে শঙ্কিত থাকে অভিভাবকরা। তারা বলছেন এভাবে স্কুলের আঙ্গিনার বাইরে ক্লাস করা তাদের মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরম। কাঠের অবকাঠামো নড়বড়ে হওয়ায় ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বৈদ্যুতিক পাখাও চালানো যায় না। অসহনীয় গরমে কষ্ট করে কচিকাচা শিক্ষার্থীরা। আবার বর্ষায়ও দেখা দেয় বিপত্তি। টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। সেই পানিতে ভিজে যায় বø্যাকবোর্ড। নষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের বই খাতাও।
৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জয়িতা জানায়, আমাদের এই রুমে ক্লাস করতে খুবই কষ্ট হয়। স্কুলের মেইন বিল্ডিংয়ের বাইরে হওয়ায় আমরা পানি খাওয়ার জন্য টয়লেটে যাওয়ার জন্য স্কুলের ভেতর যেতে হয় যা আমাদের জন্য দূরে হয়ে যায়।
অভিভাবকরা বলছেন, শঙ্কার মধ্যে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হয়, স্কুলের আর কয়েকটি কক্ষ বর্ধিত করলেও সমস্যাটির কিছুটা সমাধান মিলতো। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরাও স্বস্তি পেতাম।
বিদ্যালয়টির অভিভাবক মাষ্টার মীর হোসেন বলেন, শ্রেণীকক্ষের সংকটে এ স্কুলটিতে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না। পুকুরের পাড়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের দুটি ভবনে শিক্ষাথীরা ক্লাস করে। পুকুর পাড়ের এই জায়গা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদও না। উচ্চ বিদ্যালয় এ কক্ষ দুটি আপাতত দিয়েছে। দরকার হলে নিয়েও নিতে পারে। তখন শ্রেণীকক্ষ সংকট আরও প্রকট হবে।
নুরুল হুদা মিজান নামের আরেক অভিভাবক বলেন, প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আজ করুণ অবস্থা। কক্ষ সংকটে মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি শ্রেণীকক্ষ আছে, যা বর্তমান শিশু ও শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন পরিপন্থি। প্রচন্ড গরমে ভেঙে পড়ার ভয়ে পাখাগুলো চালানো যায় না।
স্কুল কমিটির সভাপতি ও মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বাহার বলেন, আমরা বারবার শিক্ষা অফিস, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। প্রতি বছর ভবনের জন্য চাহিদা দেওয়া হলেও ভবন অনুমোদন হয়ে আসছে না। পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিদারুণ কষ্ট করে।
কর্মরত শিক্ষকরা বলেন, পিডিপি ৩ এর যে ভবনটা রয়েছে। সেটি ৪ তলা ফাউন্ডেশনের। এখন সেখানে একতলা ভবন রয়েছে। সে ভবনটিতে আরেক তলা বর্ধিত করলেও শ্রেণীকক্ষ সংকট অনেকটাই মিটবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক (চ.দা) মো. নুরুল হুদা জানান, বছর বছর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে জানিয়েও এ বিষয়ে কোনো সুরাহা হয় না। পিডিপি ৩ এর যে ভবনটি আছে তা বর্ধিত করার জন্যও বারবার আবেদন করা হয়েছে। তাতেও কোনো সমাধান মিলছে না। সিঁড়িরুমেও ক্লাস করাতে হয় আমাদের। স্কুলে শ্রেণীকক্ষ আছে সাকুল্যে ৪টি, শিক্ষার্থী আছে তিন শতাধিক। দুই শিফট করেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে ঠিকমতো জায়গা দেওয়া যায় না। স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে শির্ক্ষাথীদের পাঠদানেও বিঘœ ঘটে। কক্ষগুলো আকারে ছোট।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমানের জানান, বিদ্যালয়ের ভবন অনুমোদন দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আমরা চাহিদা চাইতে পারি অধিদপ্তরের কাছে। এর চাইতে বেশী কিছু করার আমাদের নেই।