ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধ সর্বদলীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি
গতকাল বুধবার বিকেলে ফেনী জেলা আদালত সংলগ্ন আইনজীবী ভবনে ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধ সর্বদলীয় কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক ও পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সংগ্রামের জেলা প্রতিনিধি একেএম আবদুর রহিম, ইসলামী আন্দোলন ফেনী জেলা সেক্রেটারী মাওলানা একরামুল হক ভূঁইয়া, ফেনী বারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসাইন, প্রতিরোধ কমিটির ফুলগাজী প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট হানিফ মজুমদার, আত্মার বন্ধন নামে সংগঠনের প্রতিনিধি নাজরানা হাফিজ, নারী সংগঠক জাহান আরা মণি, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার বাদল প্রমুখ।
সভায় বক্তাগণ ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধকল্পে সভা-সমাবেশ, প্রেস কনফারেন্স, লিফলেট বিতরণ, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সভা এবং বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জনগণকে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ফুলগাজী
প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
সোনালী ব্যাংক পিএলসি কতৃক আয়োজিত কৃষিঋণ বিষয়ক এক
প্রশিক্ষণ কর্মশালা গতকাল ২৭ নভেম্বর,২৪ দিনব্যাপি জেলা
প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত কর্মশালায় ফেনীতে অবস্থিত ৪৬টি ব্যাংকের ডিজি এম
,এজিএম, ম্যানেজার ও ঋণ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কর্মশালাটির
উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের নির্বাহি পরিচালক
আরিফ হোসেন খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষি ঋণ
কমিটির সভাপতি ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার সভাপতি ফেনী জেলা
প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক
চট্টগ্রামের পরিচালক মো: আরিফুজ্জামান । এছাড়া লিড ব্যাংক
সোনালী ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো: হারুন
অর রশীদ, এ এইচ এম রেজাউল করিম ডিজিএম বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
, যুগ্ম পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের রেজাউল করিম
উপস্থিত ছিলেন ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বক্তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের
নির্বাহি পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকারদের প্রধান
কাজ হচ্ছে কাস্টমারের যথাযত সেবা প্রদান করা । এবং কাস্টমারকে
বুঝতে পারা। বাংলাদেশ এখনো শতভাগ কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই
কৃষকদের নানা প্রকার ক্ষুদ্র মাঝারি ঋণ দিয়ে তাদের কে সাবলম্বী করে
তোলা। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংক গুলোতে এই ক্ষেত্রে বিমুখতা দেয়া যায়।
শুধু মাত্র ডিপেজিট নয় কৃষকদের কে ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে
আরো উদ্যোগি হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে ব্যাংক।
তাই দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি ব্যাংকারদেও অনেক দায়
দায়িত্ব রয়েছে। আমজনতা যাতে ব্যাংক থেকে সেবা পায় সে দিকে
ব্যাংকারদের নজর দিতে হবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে ১৮ কোটি মানুষের দেশ । কিন্তু খাদ্য ঘাটতি
নাগালের মধ্যে। এ সাফল্য কৃষকদের। করোনাকালিন সময়ে আমরা যখন
ঘরে, অফিসে বসে ছিলাম, কৃষকেরা কিন্তু তখনও মাঠে ছিল । তাই
নিজেদেও স্বার্থে হলেও কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংক চট্ট্রগ্রামের পরিচালক
আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনীতে প্রায় ৭৪ লাখ হেক্টর জমি রয়েছে । এর
মধ্যে একফসলী , দো ফসলি ও তিন ফসলী জমিও রয়েছে। কিন্তু মাত্র ১৮
ভাগ জমিতে চাষাবাদ হয়।
তিনি বলেন বাংলাদেশ হচ্ছে সবুজ ফসলের খেত। ফেনী ও এর ব্যতিক্রম
নয়। তাই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে কৃষকদের কে প্রনোদনা ও ঋণ দিতে
হবে। তিনি বলেন, কৃষিকে বাণিজ্যিক রুপ দিলে দেশ সমৃদ্ধ হবে।
কৃষক যদি তার উৎপাদিত পণ্যের দাম পায় তখন সে নিজেকে গর্ব করে
বলতে পারতো সে কৃষক। তাই কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে
তাদেরকে সুরক্ষা দিতে হবে। শুরুতে সভাপতির বক্তব্য দেন ফেনী জেলা
প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।
কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে ছিল প্রশিক্ষণ কর্মশালা তাতে কৃষিঋণ
নীতিমালার উপর প্রশিক্ষন দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের যুগ্ম
পরিচালক রেজাউল করিম।
কৃষি ঋণ বিতরণে কৃষক/ গ্রাহক নির্বাচন , ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ও
বিতরণ বিষয়ে প্রশিক্ষন ছিলেন সোনালী পিএলসির ডেপুটি
জেনারেল ম্যানেজার মো: হারুন অর রশীদ। কৃষিঋণ সুপারভিশন,
ফলোআপও রিকভারী বিষয়ে প্র২ি০২২
৬+৮শক্ষন দেন এ এইচ এম রেজাউল করিম,
ডিজিএম বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।
এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ, নবাবপুর ও ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থানে ফল আর্মিওয়ার্ম পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে এ পোকা ভেসে এসেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জুলাই-আগস্টে পরপর তিন দফা বন্যায় জনপদে কৃষিখাতে হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। ফলে আগামীতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এর মাঝে কৃষকের নতুন ভীতি ফসল বিনাশী ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’ পোকার মারাত্মক আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফসলের জন্য ক্ষতিকর এ পোকা দমনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছেন কৃষি বিভাগ। অন্যদিকে কৃষকরা বলছেন, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন করা যাচ্ছে না।
সোনাগাজীর আমিরাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কালো রঙের অসংখ্য পোকা ফসলের মাঠে, রাস্তায়, বাড়িঘর ও আশপাশের বন-জঙ্গলে বিচরণ । পুকুর, ডোবা-নালাসহ আমন ধানের মাঠে পানি থাকলেও পোকাগুলো পানি ওপর দিয়েই হেঁটে বেড়াচ্ছে ও একস্থান হতে অন্যস্থানে চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বন্যার পর জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন তারা। এছাড়া বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম শীতকালীন সবজি লাউ, কুমড়া, করলা, জিঙ্গা, পাট শাক আবাদ করেছেন, সপ্তাহখানেক পর সেগুলো বিক্রির উপযোগী হতো। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এ পোকার ব্যাপক আক্রমণ। পোকার আক্রমণ কমাতে জমিতে কীটনাশক ছিটিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। পোকার আক্রমণে ফসল উৎপাদনে বিপর্যয়ের শঙ্কা করছেন তারা। একই কথা বলছেন ফুলগাজী উপজেলার কৃষকরাও। সেখানেও ফসলের মাঠে এ পোকার আক্রমণ প্রকট আকার ধারণ করেছে।
কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ১২ শতক জমিতে লাউ গাছের চারা রোপণ করেছিলাম। হঠাৎ এ পোকা এসে সবগুলো গাছের মূল কেটে দিয়েছে। এতে গাছগুলো শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করেও লাভ হয়নি। পোকাগুলোকে কীটনাশকের পানিতে রাখলেও মরে না।
কৃষি বিভাগ বলছে, ফসলের জন্য ক্ষতিকর এ পোকা দমনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছেন তারা। অন্যদিকে কৃষকরা বলছেন, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, এতো পোকা আমার ৫৫ বছরের জীবনে কখনো দেখিনি। দেখতেও কেমন ভয় লাগে, কাছে গেলে শরীরে উঠে যায়। জমির পাশাপাশি এখন বাড়িঘরেও ঢুকে পড়েছে। এভাবে হলে মাঠের ফসল আর বাড়িতে তোলা সম্ভব না।
কৃষক মোস্তফা বলেন, বন্যার ক্ষতি কাটাতে ৬০ শতক জমিতে আগাম শাকসবজি আবাদ করেছিলাম। এখন সেগুলোও পোকায় নষ্ট করে ফেলছে। চেষ্টা করেও ফসল বাঁচাতে পারছি না।
সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আহমেদ সোহাগ বলেন, এ পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পোকা দমনে ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের টিম কাজ করছে। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে থেকে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
একই প্রসঙ্গে ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, ফুলগাজীর আমজাদহাট ইউনিয়নের মনিপুর ও মুন্সীরহাটের দক্ষিণ শ্রীপুর এলাকায় পোকার আক্রমণ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পোকার উপদ্রব ঠেকাতে তিন ধরনের ওষুধ ছিটানো হয়েছে। কীটনাশক নাইট্রো ও কোরাজেন মিশ্রিত স্প্রে করে পোকা দমন করা হচ্ছে। বন্যার সময় কিছু কীটের লার্ভা ফসলের মাঠে আগাছার সঙ্গে মিশে থাকায় এ পোকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন মিলন বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা এ পোকার উপদ্রবের অন্যতম কারণ হতে পারে। পোকাটি সাধারণত মাঝারি ঠাণ্ডা ও গরমে বেশি বংশবিস্তার করে। বর্তমান সময়ের আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি অনুকূলে রয়েছে। যা আমাদের জন্য বাড়তি শঙ্কার বিষয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ একরাম উদ্দিন বলেন, জেলায় প্রথমবারের মতো এ পোকার উপদ্রবের বিষয়ে অবগত হয়েছি। এখন পর্যন্ত সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ও আমিরাবাদ এবং ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর এলাকায় এ পোকার দেখা মিলেছে বলে জেনেছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। বিভিন্ন বালাইনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিদেরও এতে যুক্ত করা হয়েছে। পোকার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে জমিতে আলোর ফাঁদ ও পাখি বসার মত কিছু বসাতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্টাফ রিপোর্টার, আজকের সময় :
ফেনীতে ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পানিতে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। এতে জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ বাংলা দ্বিতীয় পত্র বিষয়ে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
ফুলগাজীর উত্তর দৌলতপুর এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান হোসেন বলেন, বন্যার পানিতে রাতে ঘরে পানি ওঠায় খুব কষ্টে আছি। পড়াশোনা করাও সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আমাদের দ্বারা পরীক্ষায় বসা সম্ভব না। সকালে কষ্ট করে কেন্দ্রে আসার পর পরীক্ষা স্থগিতের কথা জেনেছি।
এ ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া ভূঁইয়া বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তিনটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এবার উপজেলায় চারটি কেন্দ্রে ১ হাজার ১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পানিতে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের চারটি স্থান ভেঙে জেলার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ফেনীর ফুলগাজীর মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধে ৩টি জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আজকের পরীক্ষা স্থগিতের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা তিনবোর্ডকে (সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ও ভোকেশনাল) চিঠির মাধ্যমে অবগত করি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এবার ফুলগাজীতে চারটি ও পরশুরামে দুইটি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফুলগাজীর জামমুড়াতে মাতৃভাষা দিবস পালিত
ফুলগাজী প্রতিনিধি :
সারা দেশের ন্যায় ফুলগাজীর জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অমর শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাস্তবায়িত হয়েছে নানান পরিকল্পনা।
জাহেদ হোসেনের পরিচালনায় একুশের চেতনা _ হারিয়ে যেতে দেব না “, সালাম রফিক জাব্বার ভাই _আমরা তোমায় ভুলিনাই, ” মোদের গরব মোদের আশা- আ মরি বাংলা ভাষা,” প্রভৃতি চমকপ্রদ শ্লোগানে মূখরিত করে গ্রামের সকল রাস্তা প্রদক্ষিন করে শতধিক উচ্ছসিত শিক্ষার্থীদের সুন্দর প্রভাত ফেরী পদক্ষিন করে।
আবু সাঈদ সঞ্চালনায় মাস্টার আবুল কালাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ভাষা শহীদদের স্মরনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল, শিশুদের মধ্যে চিত্রাংকন, সুন্দর হাতের লিখা, বাংলা ভাষার গান, রচনা প্রভৃতি বিষয়ে প্রতিযোগিতা ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
চিত্রাঙ্কনে আরিফা, সুন্দর হাতের লিখায় নাবিলা, গানে মুনতাহা, রচনা প্রতিযোগিতায় ফৌজিয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী প্রথম পুরষ্কার লাভ করে।
ফেনী প্রতিনিধি :
উন্নত জাতি গঠন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ বিনির্মান, মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার, মাদক ও গুজব বিরোধী বাংলাদেশ বিনির্মানে সরকারের পদক্ষেপ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সোমবার বিকেলে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর আদর্শগ্রাম এ জেলা তথ্য অফিস ফেনী এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেনী জেলা তথ্য অফিসার।
আনন্দপুর গ্রামের শিক্ষা বিস্তারের জন্য করণীয় এবং সরকার যেসব সুবিধা বিনামূল্যে দিচ্ছে তা আলোচনা করেন।মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মানে সরকার যে “জিরো টলারেন্স” অবস্থায় আছে তা জানিয়ে তিনি মাদকের ভয়াবহ কুফল তুলে ধরেন।
সার্বজনীন পেনশন স্কীম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন, গ্রামবাসী এই স্কীম সম্পর্কে আগে থেকে অবগত না থাকায় এ বিষয়ে তারা নানা প্রশ্ন করেন এবং এ স্কীমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উক্ত এলাকায় যৌতুকের প্রভাব ও প্রচলন থাকায় যৌতুক প্রতিরোধে নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন – ” সরকার মেয়েদেরকে শিক্ষিত করতে যেসব সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে তা গ্রহণ করে মেয়েদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়ানোর দায়িত্ব আপনাদের,এরপর মেয়েরাই আপনাদের দায়িত্ব নেয়ার সক্ষমতা অর্জন করে নিবে”।
এস.এম.আল আমিন।
তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা চতুর্থবার এবং পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান এবং নির্বাচনকে অর্থবহ করে তোলার জন্য উক্ত এলাকার জনগনকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আসাদুল্লাহ, মো. সিরাজ ও মো. ফারুক প্রমুখ।
স্টাফ রিপোর্টার, আজকের সময় :
ভিআইপি আসন খ্যাত ফেনী-১ । বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া)থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। সকাল-বিকাল প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। গণসংযোগের সময় দোকানপাট ও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষকে কেন্দ্রে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অবিরাম এ প্রচারণায় দলীয় নৌকার পালে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে।
আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম গণসংযোগকালে বলেন, ৭ জানুয়ারি সবাই দলবেঁধে ভোট দিতে যাবেন। আমায় যত বেশি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন তত বেশি উন্নয়ন হবে। ভোট বেশি হলে এমপির ওজন বাড়ে। কম ভোট পেলে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন বরাদ্দ কম দিতে পারেন। উন্নয়নে কোনো দল নাই। বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্য সব রাজনৈতিক নেতা যেন ভোটকেন্দ্রে যান এ ব্যাপারে সবাই অনুরোধ করবেন।
ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর ও বসন্তপুর এলাকার ব্যবসায়ী এবং যুবকসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন আলাউদ্দিন নাসিম।
ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পেল ফ্রি ডেন্টাল চেকআপ। বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) দিনব্যাপি এই ফ্রি ডেন্টাল চেকআপ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন মজুমদার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি ফেনী জেলা শাখার সভাপতি ডা: কাজী মো: ইস্রাফিল।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন,ডা: মো: মশিউর রহমান, ফুলগাজী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরাম পাটোয়ারী।
ফ্রি ডেন্টাল চেকআপ ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীদের দাঁত পরীক্ষা ও দাঁতের বিভিন্ন সমস্যার পরামর্শ দিয়েছেন বিডিএস সার্টিফায়েড ডেন্টিস্টরা।
ক্যাম্পেইনে ডা: বেলায়েত হোসেন নয়ন, ডা: শরফুদ্দিন, ডা: ইরফান হোসেন মজুমদার, ডা: শাম্মি আক্তার, ডা: জুবায়ের হোসেন, ডা: আরিফ বিন ইসলাম, ডা: আবদুল্লাহ রিয়াদ, ডা: ইসতিয়াক আহম্মদ ভূঁইয়া, ডা: অয়ন, ডা: মিসবাহ, ডা: রাফি, ডা: অনিক, ডা: সৌরভ শিক্ষার্থীদের সেবা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে চিকিৎসকরা বলেন, আত্মবিশ্বাসী হাসি ধরে রাখতে দাঁতকে ভালো রাখাটা খুব জরুরি। নিয়মিত দুই বেলা দাঁত ব্রাশ যেমন প্রয়োজনীয়, ঠিক তেমনই নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ আমাদের দাঁতকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফ্রি ডেন্টাল চেকআপ ক্যাম্পেইনে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদেরকে পেপসোডেন্ট এর সৌজন্যে একটি করে টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট উপহার দেওয়া হয়।