Home » ফেনী শাহীন একাডেমি এলাকায় ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে প্রতারক মুন্নার পরিবার উধাও

ফেনী শাহীন একাডেমি এলাকায় ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে প্রতারক মুন্নার পরিবার উধাও

by ajkersomoy

ফেনী প্রতিনিধি :

ফেনী শহরের শাহীন একাডেমি এলাকার হাশেম ম্যানশন নামে একটি তিনতলা ভবনের ৬টি ফ্ল্যাট ২৭ জনের কাছে বন্ধক দিয়ে দেড় কোটি টাকা নিয়ে পলিয়ে গেছে ভবন মালিক মৃত আবুল হাসেমের স্ত্রী বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে আবু ছাইদ মুন্না ও মেহেদী হাছান। র‌্যাব ক্যাম্পের পিছনে হাশেম ম্যানশনের সামনে প্রতারণার শিকার ১৭ জন ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো. আলমগীর বলেন, হাশেম ম্যানশনের মালিক একই পরিবারের বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে প্রতারনার মাধ্যমে ৬টি ফ্ল্যাট মোট ২৭ জনের কাছে বন্ধক দিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। তারা তাদের বাড়িটি ধাপে ধাপে গোপনীয়তার সহিত বিভিন্ন জনের কাছে বন্ধক দেন। বন্ধকদারদেরকে ভাড়ার টাকা নিয়মিত পরিশোধ করার আশ্বাস দেন। পরে গত ২০ অক্টোবর তারা পালিয়ে যান। খরব নিয়ে জানতে পারি তারা এভাবে করে ২৭ জনের কাছে ৬টি ফ্লাট বন্ধক দেয়। বর্তমানে তারা আমাদেরকে পাওনা টাকা দিব দিচ্ছি বলে তালবাহানা করে। এই বিষয়ে আমরা ফেনী মডেল থানায় ও র‌্যাবের কাছে বিষয়টি অবগত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ৮জন বন্ধকদার মামলা করেছি। যার মধ্যে বর্তমানে ৪টি ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, প্রতারক আবু সাঈদ মুন্না ব্যাংক চেক, স্ট্যাম্প ও দলিলের ফটোকপি দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। একই ঘটনা গোপন রেখে সবার সাথে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করেছে পুরো পরিবার। এফ টিভি পেইজে খবর প্রচারের পর বিষয়টি জানাজানি হয়। আবু সাঈদ মুন্নার বোন জাপান প্রবাসী বিবি রাবেয়া ও তার স্বামী ফিরোজ হাজারীর কাছে টাকা পাঠান। জাপানে প্রতারণার টাকায় একটি সুপার শপ দেয়। কথিত রয়েছে মুন্নাও জাপান পালিয়ে যায়। মুন্না পালিয়ে যাওয়ার পর তার মা বিবি আয়েশা ও ভাই মেহেদী হাসান আকাশ একএকসময় এক এক তথ্য দিয়ে পাওনাদারদের টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা শুরু করে। ফ্ল্যাট বিক্রি করে টাকা ফেরত দিবে বলে কালক্ষেপণ করে রাতের আধারে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী লিপি আক্তার বলেন, আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত, ক্ষতিগ্রস্থ অনেকে তার সারাজীবনের জমানো টাকা দিয়েছে, অনেকে তার চাকরির পেনশনের টাকা দিয়েছেন পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

তারা এই পলাতক প্রতারকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ন্যায়বিচার এবং কষ্টার্জিত অর্থ পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা চান।

এ ব্যাপারে বিবি আয়েশা ও তার দুই ছেলে আবু ছাইদ মুন্না ও মেহেদী হাছানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফ্ল্যাটর গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং ব্যবহৃত নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যায়।

আরো খবর