এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
অতিরিক্ত রোগীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। পুরো হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের ভিড় লেগেই আছে। এতে যেমন বেড়েছে ভোগান্তি, তেমনি বেড়েছে রোগী ও স্বজনদের বিড়ম্বনা।
চিকিৎসকরা জানান, প্রায় সব চিকিৎসককে ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগী দেখে তারপর বহির্বিভাগে রোগী দেখতে হয়। কিন্তু গত কয়েকদিন ওয়ার্ডে ও বহির্বিভাগে রোগী বেড়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মাঝে বেশির ভাগই জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। বহির্বিভাগের রোগীদের বেশির ভাগই চোখের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা করে ফেনী সদর হাসপাতাল। পরে রোগীর ভিড় সামলাতে না পেরে ১৯৯৯ সালে ‘আধুনিক সদর হাসপাতাল’ নাম ধারণ করে এটিকে ১০০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে ১৫০ শয্যা ও ২০১৩ সাল থেকে এ হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি ১৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের মেঝেতে রোগী, বারান্দায় রোগী এমনকি প্রবেশপথের সামনেও বেঞ্চ বসিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৬ জন রোগীর স্থলে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৩ জন, শিশু ওয়ার্ডে গিয়েও দেখা যায় একই অবস্থা। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৪ জনের স্থলে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪১ রোগী। নির্ধারিত কক্ষের বারান্দায়ও স্থান না পেয়ে বাইরে চেয়ারে বসিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকেই।
মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ২৬টি আসনের বিপরীতে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৫ জন রোগী। ইউনিটে রোগীর নির্ধারিত শয্যার ডানে, বামে, মাথার পাশে ও পায়ের পাশে মেঝেতে অতিরিক্ত শয্যা লাগিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অনেক রোগী ইউনিটের মেঝেতেও স্থান না পেয়ে বারান্দা ও প্রবেশপথে শয্যা বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। বিশেষ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়া, জ্বর, ঠান্ডা, শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধ রোগী বেশি। এ অবস্থায় কাঙ্খিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশে পাসকার্ড বাধ্যতামূলক থাকায় রোগীর স্বজনদের চাপ কিছুটা কম দেখা গিয়েছে।
রোগীর স্বজনরা জানায়, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় তেমন কোনো ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। রোগীর সমস্যায় নার্স স্টেশনে খবর দিলেও তারা আসতে চান না। এছাড়া দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক পাওয়া গেলেও বাকি সময় জরুরি বিভাগ ছাড়া পরামর্শ পাওয়া যায় না। এ সময় নার্সদের ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র নার্স জানান, ২৬ জন রোগীর স্থলে ৭৫ জন রোগীকে সেবা দিতে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দিতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তা ইউনিটে নেই। তার পরও আমরা সাধ্যানুযায়ী রোগীর সেবা দিয়ে আসছি। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী রোগীদের ওষুধও দেয়া হচ্ছে। তবে এ বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় সব রোগীকে ওষুধ দেয়া সম্ভব হয় না।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসিফ ইকবাল জানান, হাসপাতালটিতে বছরজুুড়েই শয্যার অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকে। মৌসুমি আবহাওয়াগত কারণে গত কয়েকদিন মেডিসিন, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে তিন-চার গুণ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে জনবল সংকট থাকার কারণে রোগীদের চাহিদামতো সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার পরও কর্তব্যরত চিকিৎসক-নার্সসহ সবাই আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
ভিডিও
রোববার (২৪ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সুপারের কার্যালয় উদ্বোধন করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ঢাকা হেডকোয়ার্টারের অ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর মো. মাহাবুর রহমান।
মাহাবুর রহমান বলেন, উদ্বোধনের পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ শিল্প এলাকায় শিল্প-প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি নিরসনে শিল্প এলাকায় শিল্প-প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের যাত্রা কুমিল্লার জন্য একটি মাইলফলক। এখন আমাদের অর্থনীতির সিংহভাগ আসে শিল্পকারখানা থেকে। শ্রমিকরা যেন নিরাপদ থাকেন আর কারখানার মালিক যেন তার পণ্যটি নিরাপদে পৌঁছে দিতে পারেন, সে জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ কাজ করে। তারা মালিক-শ্রমিক উভয়ের জন্যও সমানভাবে কাজ করে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এফএম আবদুল মঈন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ১০ বিজিবি কুমিল্লার উপপরিচালক কর্নেল মারুফুল আবেদীন, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৭ কুমিল্লা পুলিশ সুপার আবু আহাম্মদ আল মামুন, কুমিল্লা ইপিজেডের ডিজিএম জিল্লুর রহমান, বিসিকের ডিজিএম মুনতাসির মামুন, কুমিল্লা চেম্বারের সহসভাপতি জামাল আহমেদ।
এম শরীফ ভূঞা / আজকের সময় / কুমিল্লা / পুলিশ।
সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি নোয়াখালীর সেনবাগ 3 অবস্থায় শপিং ব্যাগে মিলল ১টি দেশীয় পাইপগান ও ২ রাউন্ড কার্তুজ।বুধবার (২৯ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেন, জানায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউনিয়নের পূর্ব ইয়ার পুর গ্রামের মেহেরাজের দধি দোকানের পূর্ব পাশের রেইনট্রি গাছে নিচে একটি শপিং ব্যাগ থেকে ১টি দেশীয় পাইপগান ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারে ঘটনায় তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
