

এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না পেরে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলেরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। পেটের দায়ে অনেকে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। প্রজনন মৌসুমে সামুদ্রিক মাছ রক্ষায় গত ২০ মে থেকে ৬৫ দিন নদী, সমুদ্র ও সাগরের মোহনায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ১১ দিন পরও ফেনীর সোনাগাজীতে নিবন্ধিত প্রায় দুই হাজার জেলে পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নিরাপদ করার জন্য মৎস্য বিভাগ মাছ ধরার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা করে। এসময়ে নদী ও সমুদ্রের মাছ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, মজুত ও বিনিময় করা যাবে না। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থেকে কাজ করছেন। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ৬৫ দিন নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চর খোন্দকার, দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া ও পূর্ব চর চান্দিয়া এলাকার জেলেপাড়ায় সহায়তা না পেয়ে জেলারা অনেক কষ্টে দিন পার করছেন। অনেকে আবার পেটের দায়ে রাতের আধারে নদী ও সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করে সূর্য ওঠার আগেই তীরে ফিরে এসে মাছগুলো আড়তদার ও ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করছেন।
নিবন্ধিত জেলেরা জানান, সোনাগাজীতে প্রায় তিন হাজার জেলে রয়েছে। সরকারিভাবে মাত্র দুই হাজার জেলেকে নিবন্ধিত করা হয়েছে। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেরাও সরকারি সহায়তা না পেয়ে মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
চর খোন্দকার জেলেপাড়ার প্রিয়লাল জলদাস বলেন, নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ। অনেক কষ্টে তাদের জীবিকা চলছে। কেউ কেউ বিভিন্ন সড়কের পাশে জলাশয় ও পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে পরিবারের খাবার জোগাড়ের ব্যবস্থা করছেন। অনেক জেলে বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না পারায় ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারছে না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার চর দরবেশ, চর চান্দিয়া, সোনাগাজী সদর ও আমিরাবাদ ইউনিয়নে ১ হাজার ৯৯৭ জন নিবন্ধিত জেলে পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে কার্ডধারী জেলের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন। মাছের প্রজনন মৌসুমে উপজেলার নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে মাত্র ৩৪৫ জেলে পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ১১ দিনেও কোনো বরাদ্দ আসেনি।
স্থানীয় জেলে হরলাল জলদাস জানান, গত কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড় হওয়ায় নদী ও সাগরের মাছ ধরতে যেতে পারেননি। এতে করে অনেক জেলে পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যান না। সরকারি সহায়তাও পাননি। সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ চাল পাওয়া মাত্রই জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবার রয়েছে। তবে সরকারিভাবে মাত্র ৩৪৫ পরিবারের জন্য প্রথম দফায় ৫৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ আসবে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও ৩০ কেজি কেজি চাল বিতরণ করা হবে। সরকারিভাবে আর কোনো সাহায্য আসার সম্ভাবনা নেই। তবে অন্য জেলেদের জন্যও সাহায্য পেতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই কামাল উদ্দিন ও মামা উপজেলা আ.লীগের সদস্য মোহাম্মদ রফিক জানান, সোনাগাজী বাজারের তাকিয়া রোডের ব্যবসায়ী নুর আলমের পাশাপাশি একটি চা ও একটি ইলেক্ট্রনিক্স দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গেলে রাত দশটার দিকে এক যুবক তাকে মুঠোফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। রাত ১১টার দিকে তার লাশ সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে ওই যুবক পালিয়ে যায়। তাদের দাবি ১৫-২০জন সন্ত্রাসী তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তারা এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের করবেন। সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদেকুল করিম আরাফাত বলেন, রাতে ১১টার দিকে রাফি নামে এক যুবক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে মর্মে নূর আলম নামে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। তাৎক্ষণিক ইসিজি করে দেখা যায় নূর আলম মারা গেছেন। তবে ময়না তদন্ত করলে তার মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ জানা যাবে। পরে তার পরিবারের সদস্য তার লাশ শনাক্ত করেছেন।
এস.এন আবছার, সোনাগাজী :
বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহোচর, ফেনী-৩ আসন থেকে তিন বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাস্টার এবিএম তালেব আলীর ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী কেটে গেলো নিরবে। দিবসটিতে কোন আয়োজন ছিলোনা স্থানীয় আওয়ামীলীগ বা কোন সামাজিক সংগঠনের। ০৭মে ২০১৯ তারিখে বার্ধক্যজনিত কারনে অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যু বরণ করেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও দক্ষ রাজনিতীবিদ এবিএম তালেব আলী ফেনী-৩ সংসদীয় আসন থেকে যথাক্রমে ১৯৭০ সাল, ১৯৭৩ সাল ও ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৩ বার সংসদ সদস্য, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবিএম তালেব আলী ৭মে ২০১৯ তারিখ সকাল ৯টায় ফেনী শহরের নাজির রোড়স্থ নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮৯ বছর।
বর্ষিয়ান এই রাজনিতীবিদের মৃত্যুদিবসে কোন আয়োজন না থাকার বিষয়ে তার জম্মস্থান চরমজলিশপুরের ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ হোসেন বলেন, তালেব আলী আমাদের ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, তার মৃত্যু বার্ষিকীতে একটা অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিলো, তবে চলমান এসএসসি পরীক্ষা সহ নানাবিধ কারনে সেটা আর হয়ে উঠেনি। সোনাগাজী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজিজুল হক হিরণ বলেন, তালেব আলী ছিলেন জাতির পিতার বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহোচর, সোনাগাজী বাসীর গর্ব, উনার মৃত্যু বার্থিকীতে একটা আনুষ্ঠানিকতা আসলে প্রয়োজন ছিলো।
সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রফেসর মফিজুল হক বলেন, তালেব আলী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নিবেদিত কর্মি, দলের জন্য অনেক শ্রম ঘাম উনার রয়েছে। তার মৃত্যু বার্ষিকীতে কোন আয়োজন না থাকা দুঃখজনক, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ উদ্যোগ নিলে আমরা সবাই থাকতাম, তারা কেন উদ্যোগ নেননি সে বিষয়ে আমি খোঁজ নিবো।
সোনাগাজী প্রতিনিধি, আজকের সময় :
ফেনীর সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবেলায় সকল সরকারি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করেছেন ফেনী জেলা প্রশাসক। এছাড়া প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৩টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মহামুদ উল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাসলিম হুসাইন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম অনীক চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াতুল হক বিটু, সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ মুহাম্মদ খালেদ হোসেন দাইয়্যান, চরমজলিশপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম এ হোসেন, বগাদানা ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বাবুল, মঙ্গলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বাদল, চরদরবেশ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভুট্টু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান উম্মে রুমা, আমিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক হিরন, নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ঘূর্ণিঝড় মোকা মোকাবিলায়, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, মেডিকেল টিম, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, ইসলামীক ফাউন্ডেশন, উপজেলা প্রশাসক, আনসার ভিডিপি, জরুরি খাদ্য সরবরাহ সহ প্রয়োজনীয় সকল বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সোনাগাজী উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধিকে ঘূর্ণিঝড় প্রভাবিত এলাকায় সর্বদায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে তিনি ২১ নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮-১০জনের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ শরীফ ওরফে জামাই শরীফ (৩৭) এবং তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বানু (৩০) কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন। শরীফ একই গ্রামের হোসেন মেম্বার বাড়ির মজিদ মিয়ার ছেলে। শনিবার বিকাল চারটায় নিহত মিজানুর রহমানের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। রাতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে নামাজে জানাজা শেষে দাফন করার কথা রয়েছে।
সোনাগাজি প্রতিনিধি :
আলোচনা সভা, র্যালি, কেক কাটা ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে ফেনীর সোনাগাজীতে দৈনিক যুগান্তরের দুই যুগে পদার্পণ উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে যুগান্তর প্রতিনিধি জাবেদ হোসাইন মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান।
সোনাগাজী প্রেসক্লাবের সভাপতি, কালের কন্ঠের সোনাগাজী প্রতিনিধি শেখ আবদুল হান্নানের সঞ্চালনায় উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র, উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, সোনাগাজী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম অনিক চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা তারেক আহাম্মদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফেরদৌসি বেগম, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ উদ্দিন আত্তার, উপজেলা আ.লীগের প্রচার সম্পাদক শাহাদাত হোসেন জুয়েল, উপজেলা আ.লীগের সদস্য মোহাম্মদ রফিক, উপজেলা আ.লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক দাউদুল ইসলাম মজনু, উপজেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, পৌর কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রিপন, মউপজেলা আ.লীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আকবর হোসেন, মতিগঞ্জ আর এম হাট কে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, সোনাগাজী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান, পৌর কাউন্সিলর জামাল উদ্দিন নয়ন, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রানাও সহকারি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সমকালের দাগনভূঞা-সোনাগাজী প্রতিনিধি মো. ইমাম হাছান কচি, সোনাগাজী মডেল থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক প্রথম আলো প্রতিনিধি আমজাদ হোসাইন, আমাদের নতুন সময় প্রতিনিধি বাহার উল্যাহ, যায়যায় দিন প্রতিনিধি, হাসান মাহমুদ, দৈনিক আমার ফেনীর প্রতিনিধি মোতাহের হোসেন ইমরান, দৈনিক সকালের সময় প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম, স্কাউট লিডার বেলাল উদ্দিন, উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ রনি, উদ্যোক্তা নুরুল আবছার, খুরশিদ আলম প্রমুখ।
পরিষদ প্রাঙ্গনে ইউপি সচিব আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে ও প্যানেল চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ফরিদের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য জিয়া উদ্দিন, ইমাম হোসেন গঠন, শেখ ফরিদ, খোদেজা আক্তার নাজমা, মোহছেনা খাতুন ও আ.লীগ নেতা আবদুল শুক্কুর প্রমুখ। ইউনিয়ন পরিষদের এক শতাংশ বরাদ্দ থেকে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।স্টাফ রিপোর্টার :
ফেনীর সোনাগাজীতে সোনার দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার মধ্যরাতের কোনো এক সময় পৌর শহরের তাহের জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। ওই দোকান মালিকের দাবি, দুর্বৃত্তরা দোকান থেকে লকার ভেঙে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তাহের জুয়েলার্স স্বত্ত্বাধিকারী মো. রুবেল বলেন, গতকাল রাতে তিনি দোকানের স্বর্ণালংকারগুলো লকারের ভেতরে রেখে তালাবন্ধ করে বাড়িতে যান। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি দোকান খুলে দেখেন, পেছনের দরজা ও লকারের তালা খোলা। এ ছাড়া দোকানের ভেতরে ঢুকে সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি থানা–পুলিশ ও উপজেলা জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের জানান।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর উপজেলার জমাদার বাজারে অর্জুন জুয়েলার্সের মালিক অর্জুন চন্দ্র ভাদুড়িকে (৫২) কুপিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাতের দল। ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনা রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
সোনাগাজী মডেল থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার জমাদার বাজারে ডাকাতদের কোপে গুরুতর আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী অর্জুন ভাদুড়ী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রামের অ্যাপোলো ইম্পেরিয়াল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত অর্জুনের বাড়ি সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নে। বর্তমানে তার পরিবার ফেনীতে ভাড়া বাসায় থাকেন।
নিহত ব্যবসায়ীর ভাতিজা মানিক ভাদুড়ী জানান, তার (অর্জুন) মাথায় অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে) রাখা হয়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) তিনি স্ট্রোক করেন। পরে তার অবস্থা ধীরে ধীরে আরও অবনতি হতে থাকে।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর সোনাগাজী উপজেলার জমাদার বাজারে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির পর অর্জুন জুয়েলার্সের মালিককে কুপিয়ে দোকান থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় মুখোশধারী ডাকাতদল। ডাকাতদল ওই দোকান থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় গত ২ নভেম্বর অর্জুনের জামাতা রনি বণিক বাদী হয়ে ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হলেও ডাকাতদলের কোনো সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
তবে এ মামলায় সন্দিগ্ধ তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে গত ৩ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন- সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ বোমা সিরাজ (৪০), হেলাল হাসান সৌরভ (২৭) ও মো. মোস্তফা (৪২)।
প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার জমাদার বাজারে দুটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা ছয়জন সশস্ত্র ডাকাত ছিল। দলটি অর্জুনের দোকানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে আহত করে বাজারে ককটেল ফাটিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে বাজারের উত্তর দিকে পালিয়ে যায়।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. খালেদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ডাকাতদের চিহ্নিত করতে পুলিশের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।