আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর (নোয়াখালী) :
নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতাধীন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে নিন্মমানের ইট, বালুসহ যাবতীয় মালামাল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। ওই ঘরগুলোতে নিন্মমানের মালামাল ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চর দরবেশ গ্রামের ওই আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত নিন্মমানের মালামাল ফেরতসহ সংশ্লিষ্ট কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে অব্যাহতি প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের চর দরবেশ গ্রামে ২ একর ৪৬ শতাংশ সরকারি খাস জমিতে প্রতিটি ঘরের সামনে ১০ ফুট, পাশে ৬ ফুট ও পেছনে ৮ ফুট জায়গা রেখে ৮০টি ঘর নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্ধ করা হয় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। গত আগস্ট মাসে সরকারি ওই খাস জমি মাটি ভরাট শেষে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঘরগুলো নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে নির্মাণ সামগ্রহী সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয় হাজী নিজাম উদ্দিন নামের এক ঠিকাদারকে। ২০২৩ সালের জানুয়ারীর মধ্যে ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর প্রত্যেকটি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য আর্শিবাদ স্বরুপ। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সেই ঘরগুলো নির্মাণে নিন্মমানের মালামাল ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম করা হচ্ছে। এখানে জমিতে মাটি ভরাটের সাথে সাথে কাঁদা মাটির ওপর গত সপ্তাহ থেকে ঘরগুলো নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ঘরগুলোতে যে ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিন্মমানের। ঢালাই ছাড়াই কাঁদা মাটির মধ্যে ঘরের ওয়ালগুলো তোলা হচ্ছে। ঠিকাদর হাজী নিজাম উদ্দিন নিন্মমানের ইট-বালু ব্যবহারে নিষেধ করা হলেও তিনি তা মানেননি। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরে নিন্মমানের ইট-বালুর ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করলে তা মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ঘরগুলো নির্মাণে যেই ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, তা একেবারই নিন্মমানের। নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত মসলায় সিমেন্টের পরিমানও অনেক কম। ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে কাঁদাময় মাটির মধ্যে। সবমিলিয়ে ঘর নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত সকল মালামাল নিয়েই প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।
এদিকে, নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের কাজে মালামাল সরবরাহ করে আসছেন হাজী নিজাম উদ্দিন নামের এই ব্যক্তি। এরআগেও কোম্পানীগঞ্জ, সেনবাগ ও কবিরহাটে আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণে নিন্মমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগ ওঠে হাজী নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ওই ৮০টি ঘর নির্মাণের কাজ আমরাই তদারকি করছি। শুধু মাত্র মালামাল সরবরাহ করার জন্য হাজী নিজাম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ার সুযোগে হাজী নিজাম উদ্দিন কথা মতো ভালো মালামাল সরবরাহ না করে নিন্মমানের ইট-বালু সরবরাহ করে কাজ শুরু করেন। বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টি আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মালামাল সরবরাহের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে নিন্মমানের ইট-বালু ব্যবহারের বিষয়টি আমাদের নজরে আসায় আজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নিন্মমানের সকল মালামাল ফেরত দিয়ে মালামাল সরবরাহকারীকে এই কাজ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মানসম্মতভাবে আমরা নিজেরাই ঘরগুলো তৈরী করবো।
আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর
নোয়াখালী।
১৬.০৯.২২ইং
ফেনী সদর
ফেনী প্রতিনিধি :
স্ত্রী হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার ফেনী কারাগারে তার কক্ষ তল্লাশির অভিযোগ তুলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন। এমন অভিযোগকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. জেবুননেছা বেগমের আদালতে সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাবুল আক্তারের পক্ষে এ আবেদন করেন তার আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। আদালত আবেদনটি নথিতে রেখে ১৯ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টম্বর)ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিন শনিবার তিনি অন্য একটি মামলায় তদন্তের কাজে ওই কারাগারের জেল সুপারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তিনি বাবুল আক্তারের কক্ষে যাননি।
ওসি বলেন, ‘উনি (বাবুল আক্তার) যে এই কারাগারে রয়েছেন, সেটা আমার স্মরণেও ছিল না। উনার কক্ষে আদালতের অনুমতি ছাড়া যাওয়ার ক্ষমতা কী আমার আছে? এসব কথা কারা কেন বলে বুঝতে পারছি না, ওনার কক্ষে প্রবেশ করারতো প্রশ্নই আসে না, ওনার সঙ্গে ফেনীর কোনো বিষয়ের সম্পৃক্ততাই নেই। ’
বাবুল আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ গণমাধ্যমকে বলেন,‘বাবুল আক্তার বৃহস্পতিবার স্বীকারোক্তি আদায়ে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পিবিআই প্রধানসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন। সেই মামলার আসামিদের নির্দেশে ও প্ররোচনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ফেনী কারাগারে প্রবেশ করে বাবুল আক্তারের কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালান। গতকালের আবেদনে সেই অভিযোগ করা হয়েছে। ”
বাবুলের করা আবেদনে বলা হয় ‘জেল কোড অনুসরণ না করেই, বন্দীর কক্ষ তল্লাশির নামে জীবনের ক্ষতি সাধনের চেষ্টায় এ যাত্রায় সফল না হলেও আসামিরা যে কোনো সময় বাদী ও তার পরিবারের জীবননাশসহ যে কোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। ’
জেল কোড অনুসারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া থানার পুলিশ কর্মকর্তা কোনোভাবেই জেলখানায় প্রবেশ করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।
অভিযোগে বলা হয়, ‘আইন-আদালতের তোয়াক্কা না করে আসামিদের নির্দেশে বাবুল আক্তারের জীবনের ক্ষতি সাধন ও মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য (ওসি) এভাবে কারাগারে প্রবেশ করেন। ’
ওই ঘটনার ‘তদন্ত এবং বাবুল আক্তারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করার জন্য ফেনী কারাগারের সুপারকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে আবেদনে। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর ১১ ধারায় বাবুল আক্তারের জীবনের ‘ক্ষতি করা ও ভয় দেখানোর’ অভিযোগ আনা হয়েছে সেখানে।
‘স্বীকারোক্তি আদায়ে’ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে পিবিআই প্রধানসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার আদালতে মামলার আবেদন করেন স্ত্রী হত্যার ঘটনায় বাদী থেকে আসামি হওয়া সাবেক এসপি বাবুল আক্তার।
ওই অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে কিনা, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সে বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. জেবুন্নেছা বেগম। সেদিন বাবুলের নতুন আবেদনের ওপরও শুনানি হবে।
ওই মামলার আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বর্তমান প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, পিবিআইর চট্টগ্রাম জেলার এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মহানগরের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইর তৎকালীন পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার সাবেক পরিদর্শক এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও পিবিআই পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবিরকে বিবাদী করা হয়েছে।
বাবুলকে ২০২১ সালের ১০ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ‘আটকে রেখে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য হ্যান্ডকাফ পরিয়ে, ঘুমাতে না দিয়ে, গোসল করতে না দিয়ে অজু করার পানি না দিয়ে নির্যাতন’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলার আর্জিতে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ফেনীতে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ছাত্রদল-যুবদলের ২২৪ নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৩ আগস্ট) সকালে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজ মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলাল হোসেন, ছাত্রদল সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন, সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ, ছাত্রদল নেতা রিয়াদ পাটোয়ারী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, এসএম কায়সার এলিন ও নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম দুলাল, ফেনী পৌর সদস্য সচিব ইব্রাহিম হোসেন, যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন মাস্টার, রাহাত হোসেন, দিদারুল আলমসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শহরের ইসলামপুর রোডে মিলিত হয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ইসলামপুর রোডের মাথায় ছাত্রদল-যুবদলের দুই থেকে আড়াইশ নেতাকর্মী ছাত্রলীগের মিছিলে হামলা করে। এতে তিন ছাত্রলীগকর্মী আহত হন। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও সিসা বুলেটসহ ২৭ রাউন্ড ফাঁকাগুলি নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় ছাত্রদল যুবদল নেতাকর্মীদের ইটপাটকেলে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গ্লাস-সাইনবোর্ড ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা হয়রানি ও নির্যাতনমূলক এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ফেনী প্রতিনিধি, আজকের সময় :
ফেনী সদর উপজেলায় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ মো. শাহজাহান (৫১) নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শাহজাহান সুন্দরপুর এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী (অব.) আবদুল গফুরের ছেলে। তিনি ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের নয় নম্বর সুন্দরপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।
ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সামাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যবসায়ী শাহজাহান বাড়ি থেকে স্থানীয় বাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় মহাসড়ক পারপারের সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকাগামী একটি পিকআপভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আসিফ ইকবাল বলেন, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আবদুস সামাদ।
ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীতে ৫১৫ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৭০ পিস লেহেঙ্গাসহ ৪ চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকদের মধ্যে রাধানগর ইউপি সদস্য অভি রয়েছেন। সোমবার সকালে জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার রাতে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক সড়ক থেকে একটি সাদা রঙের কাভার্ডভ্যান আটক করে ডিবি পুলিশ। এসময় চোরায় পথে আসা বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়।
এতে জড়িত থাকায় ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের অজিউল হক চৌধুরীর ছেলে মো. নুরুল আলম তুষার চৌধুরী (২৮), মৃত শরিয়ত উল্লাহর ছেলে আনোয়ার হোসেন অভি (৩৫), আবুল বশরের ছেলে শাহাদাত হোসেন (১৮) ও আবু তাহেরের ছেলে আব্দুল হালিমকে (২৮) আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, এসব অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও লেহেঙ্গা ভারতীয় সীমান্তবর্তী রাধানগর ইউনিয়নের নুরে আলমের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪০) ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার আব্দুল মজিদের ছেলে মুন্নার (৩৫) কাছ থেকে তারা এনেছেন। ওই দুই ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। জব্দ মালামাল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কর ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে এসে ফেনী শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে চক্রটি।
আটকদের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
ফেনী প্রতিনিধি :
দৈনিক বনিক বার্তার ফেনী জেলা প্রতিনিধি ও ফেনী থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক নুর উল্লাহ কায়সারকে কর্মস্থলে ঢুকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিয়েছে ফেনী সদর উপজেলা যুবলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের জেলা সভাপতি মফিজ উদ্দিন মুন্না। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কস্থ দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে সাংবাদিক সমাজ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ হতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক নুর উল্লাহ কায়সার বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার রাতে তিনি দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে পেশাগত দায়িত্বপালন করছিলেন। এসময় যুবলীগ নেতা মুন্না অফিসে এসে একটি নিউজ প্রকাশ করার অনুরোধ জানালে নুর উল্লাহ কায়সার তাকে বসতে বলেন। বসতে বলাতেই মুন্না হঠাৎ করে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে নুর উল্লাহ কায়সারকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে চলে যায়। যুবলীগ নেতা মুন্না প্রকাশ্যে এমন ভীতিপূর্ণ হুমকি দেয়ায় অফিসে কর্মরত স্টার লাইন পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা হোসেন, সহযোগী সম্পাদক জসিম মাহমুদসহ উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক নুর উল্লাহ কায়সার বিষয়টি স্টার লাইন গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনের আশ্রয় নেন।
এবিষয়ে সাংবাদিক নুর উল্লাহ কায়সার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার রাতে ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করলে রবিবার রাতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কে দায়িত্ব দেয়া হয়।
এদিকে সাংবাদিক নুর উল্লাহ কায়সারের অফিসে ঢুকে হত্যার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছে ফেনীর বিভিন্ন সাংবাদিক, পেশাজীবি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ ও দোষীদের শাস্তি দাবী করেছে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরাম, পরিবেশ ক্লাব ফেনী ও বালিগাঁও ইয়ূথ সোসাইটি। এছাড়াও ফেনীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দোষীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তি যোদ্ধা সন্তান সংসদের নেতা আমিনুল ইসলাম হাজারী রুপক জানান, দীর্ঘদিন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যক্রম চলছেনা। এ সুযোগে কিছু ভুঁইফোড় সংগঠন সৃষ্টি হয়ে মানুষকে হয়রানি করছে।
ফেনী সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আফসার আপন জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো নিজাম উদ্দিন জানান, সাংবাদিক নুর উল্লাহ কায়সারকে হত্যার হুমকি সংক্রান্ত বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আজকের সময় রিপোর্ট :
ফেনী ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (এফডিসি) কেন্দ্রীয় অফিস পরিদর্শন করতে আসেন, ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমান মহোদয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাসুদুর রহমানকে বরণ করার লক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ফেনী ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (এফডিসি)র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা হোসেন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শান্তি রঞ্জন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এফডিসির উপদেষ্টা জাফর উদ্দিন।
সভায় ফেনী ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (এফডিসি)র ১১৬ সদস্য বিশিষ্ট পুর্নাঙ্গ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির নাম প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য বিগত মে মাসে গোলাম মাওলা চৌধুরীকে সভাপতি, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা হোসেনকে সিনিয়র সহসভাপতি, শান্তি রঞ্জন চৌধুরীকে সাধারন সম্পাদক এবং জি,এম আজিম মহিমকে অর্থ সম্পাদক করে একটি আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছিল। সেই আংশিক কমিটি আজ পুর্নাঙ্গ রুপ পেল।
সভায় দৈনিক ফেনী মিডিয়া এওয়ার্ড ২০২২ পুরস্কার অর্জন করায় এফডিসির সাধারণ সম্পাদক শান্তি রঞ্জন চৌধুরী কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এবং প্রথম এফডিসিয়ান হিসাবে পদ্মাসেতু পরিদর্শন করায় আনোয়ার হোসেন কেও ফুল দিয়ে অভিনন্দিত করা হয়।
ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের পাঁচগাছিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় ট্রাকচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকটি ছিল নোয়াখালীমুখী আর অটোরিকশাটি ছিল ফেনীমুখী।
নিহত দুজন হলেন- অটোরিকশাচালক আবুল হোসেন শাকিল (১৮) ও জেসমিন আক্তার (৫৫)। আহতরা হলেন- জেসমিন আক্তারের দুই মেয়ে জান্নাতুল আফরান (৩০) ও জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮), রাজীব চন্দ্র দাস (৩০), তরিকুল ইসলাম (২২)।
২৫০ শয্যা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে তরিকুল প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। অপর আহতদের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) আবদুস সামাদ জানান, এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক ও এক নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন।
ফেনী প্রতিনিধি :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ফেনীতে জেলা যুবদলের উদ্যেগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাতের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিল ও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দীন খন্দকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান রতন, জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক আল ইমরান, সহ-সম্পাদক আবুল কালাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন বাবলু, সদস্য সচিব নিজাম উদ্দীন সোহাগ, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাস্টার নিজাম উদ্দীন, সদস্য সচিব শাহদাত হোসেন, পৌর যুগ্ম আহ্বায়ক নুর ইসলাম, শরিফুল ইসলাম রাসেল, নুর নবী ডালিম, আবু সাইদ, সদর যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, মীর সবুজ, ফরিদুর ইসলাম রাহাত, ই¯্রাফিল মাসুদ, শাহদাত হোসেন (লিটন মেম্বার), সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইমাম হোসেন প্রবির, দাগনভূইঁয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দীন হুদন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
ফেনীর কৃতি সন্তান সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক জাতীয় কমিটির সদস্য, সাবেক সহ-সভাপতি ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কাজী এবাদুল হকের ইন্তেকালে গভীর শোক জানিয়েছে সুজন ফেনী জেলা কমিটি।
কমিটির সভাপতি এডভোকেট লক্ষন বণিক ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এক বিবৃতিতে জানান, তাঁর মৃত্যুতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সহ সমাজঅগ্রগতি আন্দোলনের যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা আর পূরণ হবার নয়। নেতৃবৃন্দ প্রয়াত বরেণ্য এই ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
এর আগে একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক কাজী এবাদুল হক বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে মারা যান তিনি। ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের বালিগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বরেণ্য এই ব্যক্তি। ১৯৫২ সালে ফেনীতে ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৫৪-৫৫ সালে তিনি ফেনী ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। তিনি এর আহ্বায়ক ছিলেন। ফেনী সরকারি কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় তৎকালীন ছাত্র মজলিশের (বর্তমান ছাত্র সংসদ) সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।