এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
১১০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মঙ্গলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে পাশের হাইস্কুলের পুকুর পাড়ের দুটি কক্ষ সাময়িক অনুমতি নিয়ে চলছে পাঠদান। তাতেও সংকুলান না হওয়ায় ছাদের সিঁড়িঘরে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনের চাহিদার কথা জানানো হলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
শতর্বষ পেরোনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো ভুগছে নানা সংকটে। ফেনী জেলার প্রাচীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান অগ্রগামী। স্কুলে মূল আঙ্গিনা থেকে পৃথক পুকুর পাড়ে হাইস্কুলের পরিত্যক্ত ভবনে নির্জন স্থানে পাঠদান নিয়ে শঙ্কিত থাকে অভিভাবকরা। তারা বলছেন এভাবে স্কুলের আঙ্গিনার বাইরে ক্লাস করা তাদের মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরম। কাঠের অবকাঠামো নড়বড়ে হওয়ায় ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বৈদ্যুতিক পাখাও চালানো যায় না। অসহনীয় গরমে কষ্ট করে কচিকাচা শিক্ষার্থীরা। আবার বর্ষায়ও দেখা দেয় বিপত্তি। টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। সেই পানিতে ভিজে যায় বø্যাকবোর্ড। নষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের বই খাতাও।
৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জয়িতা জানায়, আমাদের এই রুমে ক্লাস করতে খুবই কষ্ট হয়। স্কুলের মেইন বিল্ডিংয়ের বাইরে হওয়ায় আমরা পানি খাওয়ার জন্য টয়লেটে যাওয়ার জন্য স্কুলের ভেতর যেতে হয় যা আমাদের জন্য দূরে হয়ে যায়।
অভিভাবকরা বলছেন, শঙ্কার মধ্যে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হয়, স্কুলের আর কয়েকটি কক্ষ বর্ধিত করলেও সমস্যাটির কিছুটা সমাধান মিলতো। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরাও স্বস্তি পেতাম।
বিদ্যালয়টির অভিভাবক মাষ্টার মীর হোসেন বলেন, শ্রেণীকক্ষের সংকটে এ স্কুলটিতে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না। পুকুরের পাড়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের দুটি ভবনে শিক্ষাথীরা ক্লাস করে। পুকুর পাড়ের এই জায়গা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদও না। উচ্চ বিদ্যালয় এ কক্ষ দুটি আপাতত দিয়েছে। দরকার হলে নিয়েও নিতে পারে। তখন শ্রেণীকক্ষ সংকট আরও প্রকট হবে।
নুরুল হুদা মিজান নামের আরেক অভিভাবক বলেন, প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আজ করুণ অবস্থা। কক্ষ সংকটে মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি শ্রেণীকক্ষ আছে, যা বর্তমান শিশু ও শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন পরিপন্থি। প্রচন্ড গরমে ভেঙে পড়ার ভয়ে পাখাগুলো চালানো যায় না।
স্কুল কমিটির সভাপতি ও মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বাহার বলেন, আমরা বারবার শিক্ষা অফিস, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। প্রতি বছর ভবনের জন্য চাহিদা দেওয়া হলেও ভবন অনুমোদন হয়ে আসছে না। পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিদারুণ কষ্ট করে।
কর্মরত শিক্ষকরা বলেন, পিডিপি ৩ এর যে ভবনটা রয়েছে। সেটি ৪ তলা ফাউন্ডেশনের। এখন সেখানে একতলা ভবন রয়েছে। সে ভবনটিতে আরেক তলা বর্ধিত করলেও শ্রেণীকক্ষ সংকট অনেকটাই মিটবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক (চ.দা) মো. নুরুল হুদা জানান, বছর বছর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে জানিয়েও এ বিষয়ে কোনো সুরাহা হয় না। পিডিপি ৩ এর যে ভবনটি আছে তা বর্ধিত করার জন্যও বারবার আবেদন করা হয়েছে। তাতেও কোনো সমাধান মিলছে না। সিঁড়িরুমেও ক্লাস করাতে হয় আমাদের। স্কুলে শ্রেণীকক্ষ আছে সাকুল্যে ৪টি, শিক্ষার্থী আছে তিন শতাধিক। দুই শিফট করেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে ঠিকমতো জায়গা দেওয়া যায় না। স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে শির্ক্ষাথীদের পাঠদানেও বিঘœ ঘটে। কক্ষগুলো আকারে ছোট।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমানের জানান, বিদ্যালয়ের ভবন অনুমোদন দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আমরা চাহিদা চাইতে পারি অধিদপ্তরের কাছে। এর চাইতে বেশী কিছু করার আমাদের নেই।
aadmin
সে সব সম্মানিত অভিভাবকদের নিয়ে আগামী ২৬ই নভেম্বর ২০২২ই তারিখে ফেনী গ্রান্ড সুলতান কনভেনশন সেন্টারে সকাল ৯ টায় হোম প্লাস সুপার সপ, ইথেরিয়াল স্কুল ও জেড ইউ মডেল হাসপাতালের সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পুষ্টি বিষয়ক পেরেন্টিং সেমিনার। উক্ত সেমিনারে দেশের স্বনামধন্য পুষ্টিবিদ, ডাক্তার,সাইকোলজিস্ট ও রন্ধন শিল্পী গন উপস্থিত থাকবেন। সুস্থ থাকার নানবিধ কৌশল ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়তে এখনই রেজিষ্ট্রেশন করুন।
রেজিস্ট্রেশন করতে কল করুন-01567974141 ও 01842628188 নাম্বারে এবং সরাসরি রেজিষ্ট্রেশন করতে চলে আসুন #হোম_প্লাস_সুপার_সপ ও #ইথেরিয়াল_স্কুল-এ।
এছাড়াও রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেন গুগল লিংক-এ।
https://forms.gle/YPthhZZt1dhb5KSU6
রেজিষ্ট্রেশন চলবে আগামী ২৫ ই নভেম্বর,২০২২ তারিখ পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে স্পটে রেজিষ্ট্রেশন এর সুযোগ থাকবে।
আজকের সময় প্রতিবেদক :
এটিএম আতিকুল ইসলাম (বাদল) ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার দাগনভূঞা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন।
দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার প্রকাশক ও সম্পাদক ড. খান আসাদুজ্জমান তার হাতে নিয়োগপত্র ও পরিচয় পত্র তুলে দেন। সংবাদ সংক্রান্ত কাজে তিনি

সকলের সহযোগিতা ও কামনা করেছেন।
এছাড়া তিনি আলোকিত বার্তা ও দৈনিক নোয়াখালী ওয়েব দাগনভূঞা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। স্বেচ্ছাসে
বী ও সামাজিক সংগঠন দাগনভূঞা ইয়ুথ সোসাইটির প্রকাশনা সম্পাদক ও দাগনভূঞা প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চাটখিল উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা সহ দলীয় ৪৭৭ জন কাউন্সিলরের সমর্থনে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও পৌর মেয়র শহিদ উল্ল্যাহ খাঁন সোহেল এই ঘোষণা দেন।স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :
ফেনী সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) উপজেলা পরিষদ হলরুমে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, পুলিশ সুপার জাকির হাসান, জজ কোটের পিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ, উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল৷
সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার হোসাইন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও ভাইস চেয়ারম্যান এ. কে শহিদ উল্যাহ খোন্দকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল মোতালেব, মুক্তিযুদ্ধকালীন ত্রিপুরা মুহুরী ইউথ ট্রেনিং ক্যাম্পের ডেপুটি চীপ মোস্তফা হোসেন, সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার নুরুল আফছার, ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান করিম উল্যাহ বি.কম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ফাজিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক রিপন, শর্শদী ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম ভূঞা, লেমুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ উদ্দিন নাছিম, ধলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার আহমদ মুন্সিসহ স্থানীয় চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ৭২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার :
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন মো.আরাফাতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট করে ওই কর্মকর্তার রোষানলে পড়েছেন দুই দিনমজুর।
গত রোববার (১৩ নভেম্বর) মো. আবুল কালাম নামে এক দিনমজুরকে রামগড় বাজার থেকে রাজনৈতিক ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয়। পরে ইউএনও অফিস কক্ষে তাঁকে নিয়ে সাদা কাগজে কয়েকটি স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেন। এ সময় তাঁকে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। আরেক দিনমজুর মো. আমিনকে কয়েকজন অপরিচিত লোক খোঁজাখুজি করছে বলে তিনি জানান। ওই অবস্থায় দুজনেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার রাতে এই বিষয়ে ভুক্তভোগী দু’জন রামগড় থানায় জিডি করতে গেলে তাঁদের জিডি গ্রহন না করে ফিরিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। অবশ্য থানার পরিদর্শক(তদন্ত) রাজীব রায় বলেছেন, বিষয়টি আমার জানা নাই।
শেষমেষ ভুক্তভোগী দিনমজুরের রোববার রাতে বিজিবি ৪৩ ব্যাটালিয়ন জোনে নিরাপত্তা চেয়ে একটি আবেদন করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রামগড় ইউএনও খন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন মো.আরাফাতের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহা সচিব এড. আহসান হাবীব বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা সরেজমিন গিয়েছি আমরা কাজ করছি। ইউএনও সাহেব অন্যায় ভাবে তাঁদের জেলে পাঠিয়েছেন, তাঁরা প্রতিকার চেয়ে মহামান্য হাইকোটে রীট পিটিশন করেছেন। এ অবস্থায় ইউএনও সাহেব তাঁদের জোর করে স্বাক্ষর নিতে পারেন না। বিচারাধীন বিষয়টি তারাও আরও একবার অন্যায় করেছেন।
এর আগে রামগড় বিজিবি বিওপি সংলগ্ন ক্যাম্পে কাজ করতে গেলে রামগড় ইউএনও মোবাইল কোর্ট করে ৫ দিনের সাজা দেন দিনমজুর মো. আবুল কালাম ও মো. আমিনকে। বিষয়টি নিয়ে সংক্ষুদ্ধ হয়ে দুই দিনমজুর সরকারের কাছে ক্ষতিপুরন চেয়ে এবং রামগড় ইউএনও খন্দকার ইখতিয়ার উদ্দিন মো.আরাফাতের বিচারকি ক্ষমতা বাতিল চেয়ে গতমাসে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস আজকের সময়কে বলেন, রামগড় ইউএনও বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট পিটিশনের কথা জানা নাই। তবে আমার কোন অফিসার ক্যাডার দিয়ে কাউকে অফিসে ডেকে আনে স্বাক্ষর নিতে পারেননা।
এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
ফেনীতে শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনিতে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের স্বজনদের কণ্ঠে উদ্বেগ। রোগীর চাপে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসকদের।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে আসা রোগীর অর্ধেকই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে জরুরি বিভাগের সামনে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে অভিভাবকদের।
হাসপাতালটির শিশু বিভাগের কয়েকজন নার্স জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর আগের দিন ছিল ৭৮ জন, মোট ১০৭ জন ভর্তি রয়েছে। অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে বেশির ভাগই জ্বর, ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের ফ্লু কর্নার, শিশু বিভাগে রোগীদের জায়গা হচ্ছে না। কোনো শয্যাই খালি নেই। শয্যার অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দা ও করিডোরে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেকটা বেসামাল তারা। কারণ, এমনিতেই হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন পদে প্রয়োজনীয় জনবলের সঙ্কট রয়েছে।
এক শিশুর অভিভাবক নুর নাহার বলেন, তার ছেলে আদিলের বয়স ২ মাস ২০ দিন। গত ৩ দিন দিন যাবত জ্বর থাকায় হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছেন। ডাক্তাররা চিকিৎসা করলেও হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি না থাকায় ছোট শিশুটিকে নিয়ে করিডোরের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।
অন্যদিকে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের স্বজনরা হাসপাতালের নানা অনিয়ম আর ভোগান্তির অভিযোগ করে ক্ষোভ জানান। শুধু শিশুরা নয়, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে জ্বর-সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন রোগে সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ ইকবাল ঢাকা টাইমসকে বলেন, ২৬ জনের শিশু ওয়ার্ডে ১০৭ জন রোগী ভর্তি আছে। মৌসুমি জ্বর-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে জনবল সঙ্কট রয়েছে। সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সব সময় সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার জমাদার বাজারে ডাকাতদের কোপে গুরুতর আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী অর্জুন ভাদুড়ী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রামের অ্যাপোলো ইম্পেরিয়াল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত অর্জুনের বাড়ি সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নে। বর্তমানে তার পরিবার ফেনীতে ভাড়া বাসায় থাকেন।
নিহত ব্যবসায়ীর ভাতিজা মানিক ভাদুড়ী জানান, তার (অর্জুন) মাথায় অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে) রাখা হয়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) তিনি স্ট্রোক করেন। পরে তার অবস্থা ধীরে ধীরে আরও অবনতি হতে থাকে।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর সোনাগাজী উপজেলার জমাদার বাজারে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির পর অর্জুন জুয়েলার্সের মালিককে কুপিয়ে দোকান থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় মুখোশধারী ডাকাতদল। ডাকাতদল ওই দোকান থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় গত ২ নভেম্বর অর্জুনের জামাতা রনি বণিক বাদী হয়ে ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হলেও ডাকাতদলের কোনো সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
তবে এ মামলায় সন্দিগ্ধ তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে গত ৩ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন- সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ বোমা সিরাজ (৪০), হেলাল হাসান সৌরভ (২৭) ও মো. মোস্তফা (৪২)।
প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার জমাদার বাজারে দুটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা ছয়জন সশস্ত্র ডাকাত ছিল। দলটি অর্জুনের দোকানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে আহত করে বাজারে ককটেল ফাটিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে বাজারের উত্তর দিকে পালিয়ে যায়।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. খালেদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ডাকাতদের চিহ্নিত করতে পুলিশের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।
এম শরীফ ভূঞা, ফেনী, আজকের সময় :
ফেনীর সবকটি উপজেলায় বিয়েতে অতিরিক্ত দেনমোহর নিয়ে চলছে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এই প্রবণতা যেমন অস্বস্তি আর কলহ বাড়াচ্ছে, তেমনি গড়াচ্ছে বিচ্ছেদ পর্যন্ত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আদালত পর্যন্ত এর সংখ্যা হিসাব করে শেষ করা যাবে না।
গত অর্থবছরে ফেনীতে ১২ হাজার ৬৪৯টি নিবন্ধিত বিয়ের মধ্যে ৪৭২টি তালাকের ঘটনার তথ্য রয়েছে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে।
ফেনী জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের তথ্য মতে, চলতি বছরের ৯ মাসে তাদের অফিসে স্বামী-স্ত্রীর বিভিন্ন বিরোধে ৪২৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। যার আড়াইশটির বাদী নারী আর ১৭৮টির পুরুষ। অভিযোগের ৯০ ভাগই স্বামী-স্ত্রীর লড়াই। পর্যালোচনায় ৯০ ভাগ পুরুষ ভুল সুধরিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখতে চাইলেও নারীদের ক্ষেত্রে ৯৫ ভাগের বেশি কাবিনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ বুঝে নিয়ে সংসার জীবনের ইতি টানার পক্ষে। বিচ্ছেদ চাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের দেনমোহর ৫ লাখ টাকার নিচে হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ১০ লাখ টাকার ওপরে। মাত্রাতিরিক্ত দেনমোহরের ফলে স্ত্রীদের পক্ষ থেকে তালাক দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন অনেকে।
চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত দেনমোহর ও খোরপোষ দাবিতে ফেনীর পারিবারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৮৮টি। বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৩৬টি। এদিকে ৬০০টির অধিক মামলা নিষ্পত্তির পরও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে চলমান ১৭৬০টি মামলা। যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকই যৌতুকের মামলা।
সাইফুল ইসলাম নামে একজন জানান, ৫ বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ে করে চলে যান দেশের বাইরে। এর মাঝে দুবার দেশে এসেছেন। হয়েছে একটি পুত্র সন্তানও। কিন্তু আবার বিদেশে যাওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন কারণে সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত তালাকের পর্যায়ে যায়। অবশেষে দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা শোধ করে বিচ্ছেদ হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এমন আরও ঘটনা আছে। সামাজিক অবস্থানের কারণে তারা বলতেও পারছেন না আবার সইতেও পারছেন না।
ফেনী শহরের এক তরুণ ব্যবসায়ী কয়েক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবেই বিয়ে করেন। বিয়ের সময় দেনমোহর ধরা হয় ২৫ লাখ টাকা। পরিবার বিশাল অংকের এই দেনমোহরের কারণে নাখোশ থাকলেও কনের পরিবার এই শর্তেই বিয়েতে রাজি হয়। প্রথম দুই বছর দুজনের সম্পর্ক ভালোই ছিল। এরপর শুরু হতে থাকে টানাপোড়েন। নানা বিষয়ে বিভিন্ন সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। ঝগড়া হলেই উঠে আসে কাবিন প্রসঙ্গ। স্ত্রীর একটাই কথা, ‘ভালো না লাগলে দেনমোহরের টাকা দিয়ে বিদায় দাও। আর যদি সেই মুরোদ না থাকে যা বলি তাই শোনো। ’
ওই ব্যবসায়ী জানান, প্রায়ই শারীরিকভাবে আঘাত করেন তার স্ত্রী, মানসিকভাবেও যন্ত্রণা দেন। লজ্জায় কাউকে বলতেও পারি না আবার সইতেও পারি না, কিছু বললেই শুনতে হয় দেনমোহরের টাকার কথা। এমনটা জানলে এত টাকা দেনমোহরের শর্তে বিয়ে করতাম না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমন ঘটনা একটি-দুটি নয়, অসংখ্য। সম্প্রতি প্রবাসী অধ্যুষিত ফেনীতে এমন ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন মহল। সেখানকার তালাকপ্রাপ্ত নারী-পুরুষের তথ্য, পারিবারিক আদালতের নথি ও অভিযোগে যে বর্ণনা-তার বেশিরভাগেরই উদ্যেশ্য হলো দেনমোহর ও খোরপোষের টাকা আদায় করা।
সামাজিক বিয়ে মানেই ধুমধাম স্বজনদের হৈ হুল্লোড়, আনন্দ আর আতশের ঝলকানি। দেনমোহরের টাকা হয়ে যায় হরিষে বিশাদ। এই টাকার জন্য প্রতিনিয়তই ভাঙছে অনেক সংসার। অনেক সংসারে লেগে আছে কলহ।
এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, সকিনা আক্তার নামের বিচারপ্রার্থী নারী। ফেনী জজ কোর্টের আঙিনায় দেখা হওয়া এ নারী জানান, বিয়ে হয়েছে তিন বছর হয়েছে। হঠাৎ করে তিনি জানতে পেরেছেন স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসারতো আর সম্ভব নয়। দেনমোহর যেহেতু অধিকার তাই অধিকার বুঝে নিতে হবে। এটি একজন নারীর নিরাপত্তার প্রশ্ন।
বৃহত্তর নোয়াখালী ফোরামের সদস্য এটিএম আতিকুল ইসলাম বাদল জানান, মাত্রাতিরিক্ত দেনমোহরের বিষয়টি সম্প্রতি উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ধরনের দেনমোহর প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দেশীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা এবং আর্থিক অবস্থানের আলোকে দেনমোহর নির্ধারিত হওয়া উচিৎ।
দাগনভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য চম্পা কলি জানান, ইসলামে দেনমোহর নারীর অধিকার। এটি স্বামীকে পরিশোধ করতে হয়। তবে বর্তমানে সমাজে যেভাবে কাবিনের বিষয়টি প্রচলন হচ্ছে, অনেক টাকা লিখে রাখা হয় কিন্তু তাৎক্ষণিক নগদে পরিশোধ করা হয় না। এটা ইসলামী রীতি নয়। আর দেনমোহর হতে হবে সামর্থ্য অনুযায়ী।
সানরাইজ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সদস্য কবি মু. ইকবাল চৌধুরী বলেন, শুধু আইন দিয়ে নয়, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।