আজকের সময় রিপোর্ট :
সহকারি শিক্ষক মু. আবদুল্লাহ নয়ন উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় ফারুক ভূঞা মেমোরিয়াল (এফবিএম) ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে থানারহাট প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
হেডমাস্টার ফারুক ভূঞা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহান আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেনী সাংবাদিক ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এম শরীফ ভূঞা।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা: আনোয়ার হোসেন, থানারহাট মডেল মাদ্রাসার পরিচালক মিজানুর রহমান সবুজ, ইন্টার্নি চিকিৎসক আবদুস সবুর, সুফফা গার্লস মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসাইন, বামনী বাজার জামে মসজিদের ইমাম রাফি উদ্দিন রাফি, সুফফা মডেল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, মাষ্টার কাজল, ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ প্রমুখ।
শেষে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।
aadmin
মুহাম্মদ আবদুল্লাহ নয়ন :
পৃথিবীতে নানা ধরনের পেশা আছে, একাডেমিক পড়াশোনা শেষে এক একজন এক এক পেশায় নিয়োজিত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সব পেশায় সম্মানী পাওয়া গেলেও সমান ভাবে সম্মান পাওয়া যায় না। একমাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছে শিক্ষকতা পেশা। শিক্ষকতা পেশায় সেবা বা শিক্ষা গ্রহণ করার পর ও ঐ শিক্ষককে আমৃত্যু সবাই সম্মান করে। অন্য পেশার ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণ করার পর আর সেবা দাতাকে তেমন সম্মান করে না। একজন শিক্ষককে সর্বস্তরের মানুষ সম্মান করে। শিক্ষকদেরই একমাত্র স্যার বলে সম্বোধন করা যায়। অন্য পেশাতে সেই সুযোগ নেই। একজন শিক্ষক একটি পরিবারের আলোর প্রদীপ এর মত,শিক্ষকের মাধ্যমে শত শত পরিবারের স্বপ্ন তৈরি হয়। একজন অভিভাবক তার স্বপ্ন গুলো শিক্ষকের হাতে তুলে দেন আর শিক্ষক সেই স্বপ্নকে লালন করে বড় করেন,ঐ পরিবারে আলোর প্রদীপ তৈরি করেন। তাদের স্বপ্ন গুলো বাস্তবায়ন করেন। আর পরিবার গুলোর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারলে শিক্ষক যে রকম তৃপ্তি ও আনন্দ লাভ করেন তা অন্য কোন পেশাতে পাওয়া যায় না।
একজন শিক্ষক তার শিক্ষকতা জীবনে অনেকের জীবনে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে পারেন,অনেকে শিক্ষকের আদর্শ ধারণ করে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে কিন্তু শিক্ষক তার ঐ জায়গাতে থেকে যান। বলা যায় শিক্ষক হচ্ছে রাস্তার মত,রাস্তা যেমন একই জায়গায় থেকে পথিকদের কে তার গন্তব্যে পোঁছিয়ে দেয়,তেমনি শিক্ষক ও একই অবস্থায় থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোর শিখা জ্বালিয়ে তার গন্তব্যে নিয়ে যায়। এতে শিক্ষকের আর্থিক কোন লাভ না হলেও এর মধ্যে কিন্তু শিক্ষকের একটা গর্ব বোধ কাজ করে। আমার শিক্ষকতা জীবনে এই অল্প সময়েও যখন দেখি আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা এসএসসি, এইচএসসি পরিক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পায়ে দেখা করতে আসে তখন আমাদের মন গর্বে ভরে উঠে। তখন শিক্ষকতা পেশার প্রতি নিজের ভালোবাসা বেড়ে যায়। এই সম্মান অন্য কোন পেশার মধ্যে দেখা যায় না।
একজন আদর্শ শিক্ষকের ধ্যান জ্ঞান হচ্ছে তার শিক্ষকতা, কিভাবে তিনি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন তার চিন্তা করা। তিনি তার সময় ও দায়িত্ব বোধ সম্পর্কে সচেতন থাকেন। অন্য পেশার বেশির ভাগ লোক প্রোডাক্ট তৈরি করে আর একজন শিক্ষক মানুষ তৈরি। এই জন্য শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগরি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ছোট ছোট কচি ফুলের মত শিশুদেরকে আগামীর সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে। যেখানে মা-বাবা, দাদা-দাদী বা অন্য আত্মীয় স্বজন মিলে একজন শিশুকে মানুষ করতে সময় দেয়,সেখানে একজন শিক্ষক ৪+ বা ৫+ বয়সী প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির ২০/৩০ জন শিক্ষার্থীকে এক সাথে গড়ে তুলে আপন স্নেহ ও ময়া মমতায়।
একজন শিক্ষক বেতন হিসাব করে কাজ করেন না। তিনি যে বেতন পান তার থেকে অনেক বেশি কাজ করেন। যে বেতন পান তাদিয়ে হয়তো নিজে ও সন্তানদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখাতে পারেন না, কিন্তু ঠিকই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উন্নত স্বপ্ন দর্শনে উদ্ভুদ্ধ করেন। তিনি পেশাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে কাজ করেন। তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে স্মার্ট ভাবে চলা সম্ভব না,তবুও তিনি নিজের মনের আনন্দে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো বিতরণ করেন। শিক্ষাকে যদি বলা মেরুদণ্ড,শিক্ষক হচ্ছেন সেই মেরুদণ্ড তৈরির হাতিয়ার।
শিক্ষক হলেন জাতির আলোকবর্তিকাবাহী এবং মানব জাতির ভবিষ্যতের রূপকার। শিক্ষক সম্পর্কে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) বলেছেন আমাকে শিক্ষক হিসেবেই পেরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্ব নবী (স:) ও একজন শিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও অনেক মনিষী ও দার্শনিক শিক্ষকতা করেছেন ও এই পেশাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন- নোবেল বিজয়ী পাকিস্তানি মানবাধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজায় বলেন- ” আমাদের মনে রাখতে হবে: একটি বই,একটি কলম,একটি শিশু এবং একজন শিক্ষক বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। একজন শিক্ষক সমাজের সর্বত্র প্রভাব পেলতে পারেন,কেউ বলতে পারে না তার প্রভাব কোথায় গিয়ে শেষ হিয়। উইলয়াম আর্থার ওয়ার্ড শিক্ষকতা সম্পর্কে বলেন মাঝারি মানের শিক্ষক বুঝিয়ে দেন,শ্রেষ্ঠ শিক্ষক করে দেখান ও মহান শিক্ষক অনুপ্রাণিত করেন। আমাদের শিক্ষকরা আমাদের বন্ধু,দার্শনিক এবং পথপ্রদর্শক। শুধু পুঁথিগত বিদ্যাই নয়, শিক্ষকদের থেকে যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা অর্জন করি, তা জীবনের বাকি দিনগুলোতে বহন করে থাকি আমরা।
এত অর্জন ও সম্মান থাকার পর ও শিক্ষাতা পেশায় কিছু বৈষম্য রয়েছে। বেতনের বৈষম্য, পদের বৈষম্য, পদোন্নতির বৈষম্য। একজন চাকুরীজীবি পেশাগত জীবনে ধাপে ধাপে পদোন্নতির ব্যাবস্থা থাকলে তার কর্মস্পীহা ও আত্মমর্যাদা বাড়ে। সরকারের বিভিন্ন সেক্টর তা বিদ্যামান থাকলে তা প্রাথমিকে বন্ধ রয়েছে। একজন শিক্ষক ২৮/৩০ বছর চাকুরী করে ও একই পদ থেকে বিদায় নেন। একই যোগ্যতা, একই সিলেবাস, একই কারিকুলাম, একই শিক্ষার্থীদের কাজ করা পিটিআই সংলগ্ন পরিক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেড আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ১৩ তম গ্রেড। এ সকল বৈষম্যের কারণে শিক্ষকদের কর্ম জীবন উপেক্ষিত, মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না,আসলে ও আরো ভালো সুযোগ পেলে চলে যায়।
শিক্ষকদের এই সকল বৈষম্য নিরসনে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোন অভাব নেই,অভাব শুধু এর প্রতিফলন ও বাস্তবায়নে। এ সকল সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে। মেধাবীদের শিক্ষতার মত মহান পেশায় আকৃষ্ট করতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই একজন আদর্শ শিক্ষকের স্পর্শে এসে প্রতিটি শিক্ষার্থী আলোকিত করুক তার জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে।
লেখক: মুহাম্মদ আবদুল্যাহ নয়ন।
শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন দাগনভূঞা ইয়ুথ সোসাইটির উদ্যোগে ২০২৩ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৫ (এ+) প্রাপ্তদের সংবর্ধনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দাগনভূঞা উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সংবর্ধনা দেয়া হবে বলে জানান সোসাইটির সভাপতি গোলাম সরওয়ার।
এসএসসি মার্কশীট ও ছবি জমা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন ফরম পূরন করার আহবান জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ।
২০ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জেলা প্রশাসককে প্রধান অতিথি করে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হবে বলে জানান অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক আবদুল্লাহ আল মারুফ।
সোনাগাজী প্রতিনিধি :
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি ভবন ছিল। একটি ৩১ শয্যা ও অন্যটি ১৯ শয্যাবিশিষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালে ভর্তি ও আগত রোগীদের জন্য শয্যার সংকট সৃষ্টি হয়।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৯ কোটি ৬৭ লাখ ৯৯ হাজার ৫২৫ টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণে মনি অ্যান্ড জেএইচএন জেবি এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৭ জুন ভবন নির্মাণের জন্য তাদের ১১ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর চলতি মাসের গত সপ্তাহ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে।
টিনশেডের ঘরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের। বারান্দা, সিঁড়ি ও মেঝেতে চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন রোগীরা। হাসপাতালের ১৯ শয্যায় ভর্তি রয়েছেন ৮৫ জন রোগী। এর মধ্যে ৪২টি শিশু রয়েছে। মাত্র ১৯টি শয্যা নিয়ে এভাবেই চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
পুরনো ভবন ভেঙে ফেলার পর অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে ১৯ শয্যা ভবনের ছাদে একটি ২০ শয্যার শেড নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেড নির্মাণ না করায় রোগীদেরকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।
১৯৬৫ সালে সোনাগাজী পৌরশহরের জিরো পয়েন্টে একটি পল্লী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ১৯৭৭ সালে সেটিকে ৩১ শয্যার থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা হয়। ২০০৭ সালে ১৯ শয্যার একটি নতুন তিনতলা ভবনের কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন ভবন কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিলেও এখনো তা উদ্বোধন করা হয়নি। তারপরও দুটি ভবন মিলে ৫০ শয্যায় রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় পুরোনো ভবনটি অপসারণ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯ শয্যার ভবনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।
এছাড়া উপজেলার মঙ্গলকান্দি ২০ শয্যা হাসপাতালটি ২০১৪ সালে নির্মাণ শেষে কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিলেও এখনও পর্যন্ত ওই হাসপাতালে চিকিৎসক-কর্মচারীসহ জনবলের পদই সৃষ্টি হয়নি। এতে করে ওই হাসপাতালটিতে শুধুমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সেবা চালু রয়েছে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এক কক্ষে দুই-তিনজন করে বসে রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা। নার্সরাও বারান্দায় ও মেঝেতে বসে সেবা দিচ্ছেন। ডেলিভারি ওয়ার্ডেও থাকতে দেওয়া হয়েছে অনেক রোগীকে। এতে করে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শয্যা না থাকায় রোগীদেরকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার রেজিয়া বেগম বলেন, প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। জায়গা না পেয়ে দূর থেকে আসা অনেক রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতালে। এছাড়া রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে গণশৌচাগারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন শয্যার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। নতুন ভবনে শয্যার সংখ্যা বাড়ালে রোগীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।
উপজেলার চর খোয়াজ এলাকার ফাতেমা আক্তার বলেন, রাত থেকে তার ডায়রিয়া শুরু হয়। গতকাল সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। কোনো শয্যা খালি না থাকায় মেঝেতে রেখে তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আবদুল্লাহ নামে এক শিশুর মা বলেন, তার ছেলেকে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। শয্যা খালি না থাকায় দোতলার সিঁড়ির ওপর রাখা শয্যায় থাকতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ বলেন, হাসপাতালটি ৫০ শয্যার কথা বলা হলেও এখনও পর্যন্ত ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে। এখানে চিকিৎসক-নার্সসহ সব ধরনের জনবলের সংকট রয়েছে। শয্যা ও কক্ষ সংকটে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে দাপ্তরিক কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হলেও কাজের কোনো গতি দেখা যাচ্ছে না।
শহর প্রতিনিধি, আজকের সময় :
ফেনীর সবচেয়ে প্রাচীন সাহিত্য পত্রিকা “সোনার হরিণ”
কর্তৃক আয়োজিত সাহিত্য আড্ডা শনিবার বিকালে শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ্ কায়ছার সড়কের মিল্লাত কনফারেন্স হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সোনার হরিন নির্বাহী সম্পাদক কবি সাইরাস চৌধুরী উপস্থাপনায়
এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক গীতিকার,সোনার হরিণ প্রধান সম্পাদক কবি মুহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, সোনার হরিণ নিয়ে স্মৃতি চারণ করেন প্রকাশক সাইদুল মিল্লাত মুক্তা, সম্পাদক শাহীন হায়দার, সোনার হরিণ সহযোগী সম্পাদক রাজীব খগেশ দত্ত,একাল সেকালের সাহিত্য চর্চা নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন বল পয়েন্ট সাধারন সম্পাদক কবি ইকবাল আলম, কবিতা পাঠ করেন কবি মনজুর তাজিম, শিখা সেন গুপ্তা, স্বদেশপত্র সম্পাদক এন এন জীবন,নাসরিন জেরিন সুলতানা, জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি উত্তম দেবনাথ, ফেনীর আচঁল সম্পাদক সাহিদা সাম্য লীনা,কবি ইসহাক মজুমদার, কবি শাহ আলম, মাসিক সপ্তনীল সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, কবি সাইফ ফরহাদী, কবি আবদুল ওয়াদুদ ,সহ ফেনীর নবীন প্রবীন কবি সাহিত্যিক ও সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রবাসী ব্যবসায়ী নেতা এ.কে আজাদ ফেনী-৩ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী
বিশেষ প্রতিনিধি, আজকের সময় :
সংযুক্তআরব আমিরাতের দুবাইয়ে একজন বাংলাদেশীর মালিকানাধীন কোম্পানী “নেফলেক্স গ্রুপ” সুপরিচিত একটি নাম। আর এই বিজনেস গ্রপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী এ.কে আজাদের পরিচিতিও স্ব-মহিমায় উজ্বল। তিনি শুধু দুবাইয়ের ব্যাবসায়ীগণের মাঝে পরিচিতিপ্রাপ্ত একজন ব্যাক্তি বিষয়টি এমন নয়। তিনি এখানকার ব্যাবসায়ী সমাজের কাছে যেমনি সুনামের কারনে খ্যাতি পেয়েছেন তেমনি এখানকার বাংলাদেশী কমিউনিটিরও তিনি একজন নেতা। দুবাইয়ের আরব ব্যাবসায়ীগণও তাঁকে চিনেন জানেন এবং সম্মানের চোখে দেখেন। এ.কে আজাদের সফলতার গল্প প্রবাসী ব্যাবসায়ী ও বাংলদেশ কমিউনিটির গন্ডি পেরিয়ে আজকাল চলে গেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়াঙ্গনেও। আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘সামা টিভি’ তাঁর বর্ণাঢ্য-ব্যাবসা সফলতার আদ্যপান্ত নিয়ে সাত মিনিটের একটি প্রতিবেদন প্রচার করেছিলো। যার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বড় বড় ব্যাবসায়ীগণের কাছে যে নাম দুটি অতি দ্রুত পৌঁছে যায় তাহলো ‘নেফলেক্স গ্রুপ’ এবং এর সফল কর্ণধার এ.কে আজাদ। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায় এ.কে আজাদের মালিকানাধীন ‘নেফলেক্স গ্রুপ’ এর রয়েছে বেশ কয়েকটি সিস্টার কনসার্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ মিলিয়ে নয়টি দেশের নাগরিকরা। নেফলেক্স গ্রুপ মুলত: অটো ইন্ডাস্ট্রি বেইজড কোম্পানী। বিশ্ববিখ্যাত দামী দামী মোটর গাড়ীর কালেকশানের জন্যে দুবাইতে নেফলেক্স গ্রুপ সমাদৃত একটি নাম। যে কোম্পানীর শো-রুমগুলোতে শোভা পাচ্ছে রোলস রয়েস, মার্সিডিজ বেন্জ, ফোর্ডসহ অন্যান্য ব্রান্ডের বিলাসী গাড়ীর সমারোহ। তাই আমিরাতের ধনী আরব নাগরিক ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের গাড়ী ক্রয়-বিক্রয় ও আন্তর্জাতিক মানের অটো সার্ভিসের একটি বিশ্বস্ত নাম মানেই নেফলেক্স গ্রুপ।
দুবাইয়ের এ তারকা ব্যাবসায়ী এ.কে আজাদ বলেন; তাঁর ব্যাবসায়ীক বিশাল স্বপ্ন-সাম্রাজ্য একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি তাঁর তিলতিল করে সন্নিবেশ করা শ্রম মেধা ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের সম্মিলিত এক সাফল্যগাঁথা। এ সফলতার পেছনেও রয়েছে জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই। অনেক পাওয়া নাপাওয়ার অতীত গ্লানি এবং ছোট ছোট ব্যর্থতা দেখে শিক্ষা নিয়ে এগুনোর অদম্য স্পৃহা মিশ্রিত আছে এ সাফল্য-সূধায়।
দেখতে শুনতে মনে হয়না বয়স তাঁর সাতচল্লিশের কোঠায়! মনে হয় যেনো দুরন্ত কৈশোর পার হলেন মাত্র। অত্যন্ত পরিশ্রমী ও আত্মপ্রত্যয়ী এ.কে আজাদ বলেন “তিনি এখনো দৈনিক ষোল ঘন্টা একাধারে ব্যাবসায়ীক কাজে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন। যেহেতু পরিশ্রমই ছিলো তাঁর সফল হওয়ার মুলমন্ত্রের একটি, তাই তিনি এই মন্ত্র প্রতিদিন ছায়ার মতো সাথে রাখতে চান। একটু প্রাণবন্ত হাসি দিয়ে জানালেন তাঁর প্রবাসে কর্মজীবন দুই যুগের বেশি সময়কাল ধরে তাই জীবনের গল্পটাও একদম ছোট নয়। ছাত্রজীবনে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই লক্ষ্য ছিলো বিদেশে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করবো। সে লালিত স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৯৫ সালে এইচএসসি পাশের পর ১৯৯৬ সালে আমি পড়াশুনা করতে পাড়ি জমিয়েছি ইংল্যান্ডে।”
সেখানকার মিডল সেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে ভারতের জয়পুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৯৯ সালে তিনি আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আসেন। তিনি প্রত্যক্ষ করেন মধ্যপ্রাচ্যের ইউরোপ খ্যাত দুবাইয়ে অটো ইন্ডাস্ট্রি খাতের ভবিষ্যতে রয়েছে একটি বিশাল সম্ভাবনা। তাঁর মাথায় তখন থেকেই
অটো ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন বুনন শুরু হয়। তারপর তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে নিয়োজিত করেন তাঁর স্বপ্ন বিনির্মানের ইস্পাত কঠিন যুদ্ধে। মনিষীর স্মরনীয় বাণী আছে ; মানুষ ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখে তা স্বপ্ন নয়, যে স্বপ্ন মানুষকে ঘুমুতে দেয়না সেটিই সত্যিকারের স্বপ্ন। কর্মজীবনে তেমনি এক নির্ঘুম স্বপ্ন দেখেছিলেন এ.কে আজাদ। তাঁর দেখা আত্ববিশ্বাসের সেই সোনালী স্বপ্নরেখা আজ পরিনত হয়েছে ব্যাবসার আলোকিত তারকাপুন্জে। একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় বাংলাদেশে জন্ম নেয়া তারকাটি আজ পুন্জিভুত আলো ছড়াচ্ছে আরবের ব্যাবসায়ীক আকাশজুড়ে। সফল ব্যাবসায়ী হিসেবে তিনি দেশে বিদেশে পেয়েছেন অনেক সম্মাননা। সফলতার মুকুটে পালক হিসেবে যুক্ত হয়েছে সিআইপি’র সম্মান। প্রবাস থেকে রেমিটেন্স পাঠানোর স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার থেকেও পেয়েছেন এওয়ার্ড।
এ.কে আজাদের পুরো নাম আবদুল কাশেম আজাদ। তার জন্ম ফেনী জেলার দাগনভুঞা উপজেলার সিন্দুরপুরের সেকান্তর পুর গ্রামে। তার বাবার নাম আলহাজ্ব ইসরাফিল মিয়া।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী এ.কে আজাদকে নিয়ে গর্ব করেন তাঁর এলাকার মানুষজন। স্থানীয়রা তাঁকে জানেন একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে। এমনকি এলাকার দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষজন তাঁকে পরম আত্মীয় মনে করেন। কারণ এ.কে আজাদ তাদের বিপদে আপদে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন অত্যন্ত গোপনে। এছাড়াও তিনি প্রকাশ্যে এলাকার নানাবিধ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এলাকার প্রবীনগণ তাঁকে যেমন স্নেহ করেন তেমনি যুবসমাজের মাঝেও তুমুল জনপ্রিয় এ মানুষটি। এলাকার তরুন সমাজ যখনি তাকে পাশে পান অন্যরকম এক ভালোবাসা ও আন্তরিক সম্মানে জড়িয়ে রাখেন। এলাকার অধিবাসীগণ এ.কে আজাদের মানবীয় গুনাবলী দেখে, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ দেখে ও সামাজের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে তাঁর আন্তরিক অবদানকে মুল্যায়ন করে তাঁর প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান স্বরুপ তাঁদের আগামীর জন-প্রতিনিধি করার ইচ্ছা রেখেছেন। সেকান্তরপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা তাঁদের এ আশা-আকাংখার কথা জানিয়ে বলেন। রাজনীতির চলমান এ দূঃসময়ে এ.কে আজাদের মতো একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মীকে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ জনগণ খুশি হবে। প্রিয় নেত্রীর কাছে আমাদের প্রাণের দাবি এটি।
সাবেক স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা দুবাই প্রবাসী ইকবাল হোসেন বলেন; “এ.কে আজাদ ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। মুজিব আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্যে যুক্তরাজ্য যান। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি দুবাইয়ে ব্যাবসা বাণিজ্য শুরু করে এখানেই তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি পৃথিবীর যেখানেই গেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেছেন হৃদয় দিয়ে। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ,দুবাই-এর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আওয়ামীলীগের সকল দলীয় কর্মসূচী ও বাংলাদেশের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানগুলো প্রবাসের মাটিতে সুন্দরভাবে আয়োজনে তিনি অগ্রনী ভুমিকা রাখেন। এছাড়াও এখানকার প্রবাসী বাঙালীদের সুখ দূঃখে যে কোনো প্রয়োজনে তিনি পাশে থাকেন। বাঙালী কমিউনিটির মাঝে সৌহার্দ্য, ভাতৃত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগরুক রাখার লক্ষ্যে প্রবাসীদেরকে সাথে নিয়ে নিজ শ্রম-ঘাম ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে তিনি সবসময় আন্তরিকভাবে নিবেদিত থাকেন।
ইকবাল হোসেন আরো জানান
“শুধু প্রবাসে নয় একজন নিভৃতচারী ও প্রচার বিমুখ ব্যাক্তিত্ব এ.কে আজাদ বাংলাদেশে তাঁর নিজ এলাকায় দলীয় ও সাংগঠনিক যেকোনো কর্মকান্ডে পরামর্শ প্রদান ও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজ অবদান রেখে চলেছেন। ভবিষ্যতেও তিনি তাঁর এসব অবদান অব্যাহত রাখবেন এ বিশ্বাস রাখি।”
এলাকার মানুষের মধ্যে আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা ও গুন্জনের বিষয়ে প্রবাসী শিল্পপতি এ.কে আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করে বলেন; “এলাকার মানুষজন আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন এটি আমার জীবনের অন্যান্য অর্জনগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আমার এলাকার সাধারণ মানুষ আমাকে ভালোবাসেন বিধায় আমিও যতোদিন বাঁচি তাদের ভালোবাসার বৃত্তবন্ধি থাকবো এ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। তাঁদের স্বত:স্ফুর্ত আকাংখার প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। আমার প্রিয় এলাকাবাসীর এ আশা পুরণ করতে আমার দল তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন এবং আমার প্রিয় জেলা ফেনীর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ আমার পাশে থাকেন তবে ফেনী-৩ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্যে আমিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করবো ইনশাআল্লাহ।
ফেনী প্রতিনিধি :
মহান আল্লাহ তায়ালার পরম রহমত হিসেবে সমগ্র মানবমন্ডলী ও দোজাহানের সর্বকল্যাণ এবং মুক্তি সাধনায় দুনিয়ায় প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমনই ঈদে আজম।
ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্ট ও ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি রেভুলুশন ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে ১২ই রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর মিজান ময়দানে এক বিশাল ঐতিহাসিক ঈদে আজম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, একুশে পদক প্রাপ্ত ওলীয়ে রাব্বানী হাফেজ আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ। সভাপতিত্ব ও দিক নির্দেশনামূলক মূল বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড সুন্নী মুভমেন্ট ও ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি রেভুলুশনের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত।
সমাবেশে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত বক্তব্যে বলেন, দয়াময় আল্লাহ তায়ালা সর্বোচ্চ রহমত রূপে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য সত্যের আলো ও মুক্তির উৎস এবং সকল গুন-জ্ঞান সকল কল্যাণের মূল হিসেবে দুনিয়ায় প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমন দয়াময় আল্লাহতাআলাকে পাওয়ার পরম শোকরিয়া সর্বোচ্চ ঈদ ঈদে আজম। দয়াময় আল্লাহতাআলার সর্বোচ্চ রহমত রূপে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য সত্যের আলো ও মুক্তির উৎস এবং সকল গুন জ্ঞান সকল কল্যাণের মূল হিসেবে দুনিয়ায় প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমন দয়াময় আল্লাহতাআলাকে পাওয়ার পরম শোকরিয়া সর্বোচ্চ ঈদ ঈদে আজম।
তিনি আরো বলেন, দয়াময় স্রষ্টার মহান রাসুল ই সর্বসৃষ্টির জন্য স্রষ্টার আলো ও বন্ধন এবং সর্বোচ্চ অনুগ্রহ স্রষ্টার পক্ষ থেকে মহান রাসুল ই সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য সকল জ্ঞান-বিজ্ঞান,সকল গুন,সকল কল্যাণের উৎস। মহান রাসুলই জীবনের জ্ঞান ও মানবতার প্রাণ,সত্য ও মানবতার মহান রাসুলের দিশা ব্যতীত স্রষ্টার বন্ধন যেমন হয় না,তেমনি মহান রাসুলের দিশা ব্যতীত মানবিক অস্তিত্ব মানবজীবন, জীবনের রাষ্ট্র ও জীবনের দুনিয়াও হয় না। মহান রাসুলের দিশা ব্যতীত জীবন ও জগত মিথ্যা-অবিচার-শোষন-সন্ত্রাস-পাশবতা-দস্যুতা-স্বৈরতার শিকারে রুদ্ধ ও ধ্বংস হয়ে যায়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা মুফতি রেজাউল কায়সারের সঞ্চালনায় বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দরবারে খাজা বারাহিগুনী দরবার শরীফের চেরাগ-ই-চিশতী মঞ্জিলের সাহেবজাদা খাজা মাসুদুল হক চিশতী। সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা শেখ রায়হান রাহবার, কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা আরেফ সারতাজ, আল্লামা খাজা রাশেদ, আল্লামা শেখ নঈমুদ্দীন, আল্লামা হাফেজ ইলিয়াছ শাহ, আল্লামা এমদাদুল হক সাইফ।
বক্তব্য রাখেন, ফেনীর পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, সংগঠনের ফেনী জেলার প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা নুরুল হক ভূঞা, জেলার সহ-সভাপতি গোলাম সরওয়ার, সাধারন সম্পাদক হাসান আবরার সহ নেতৃবৃন্দ। শতাধিক সম্মানিত পীর মাশায়েখ ওলামায়ে কেরাম, চিন্তাবিদ, গবেষক, দার্শনিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদবৃন্দ ও ব্যাপক সংখ্যক ধর্মপ্রাণ জনসাধারণ এতে অংশগ্রহন করেন।
এম শরীফ ভূঞা
ফেনী প্রতিনিধি
০১৮১৯৭৮৫৫০৯
২৮.০৯.২০২৩ ইং
মোহাম্মদ হোসাইন, পর্তুগাল প্রতিনিধি :
মহাগ্রন্থ আল কোরআন তেলাওয়াত ও অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের নবগঠিত ৩য় কমিটি (২০২৩-২০২৪) এর অভিষেক অনুষ্ঠান।
রবিবার বিকেল ৪ টায় পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে লিসবনের অভিজাত হোটেল মুন্ডিয়ালের মিলনায়তনে এ জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি রাসেল আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রনি মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ প্রিন্সের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মো: আলমগীর হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগাল আওয়ামীলীগের সভাপতি জহিরুল আলম জসিম, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সভাপতি শাহ আলম কাজল, পর্তুগাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম, আব্দুল আলিম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো, পর্তুগাল আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসাইন, মুকিতুর রহমান সেলিম সভাপতি সেচ্ছাসেবক দল পর্তুগাল, মোশারফ হোসেন কিরন উপদেষ্টা বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আলমগীর হোসেন পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি পর্তুগিজ গণমাধ্যম গুলোতে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুখ দুঃখে পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
উক্ত অভিষেক অনুষ্ঠানে পর্তুগাল আওয়ামী লীগ, পর্তুগাল বিএনপি, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো, বাংলাদেশ কমিউনিটি অব মিলফন্তেস, পর্তুগাল যুবলীগ, পর্তুগাল সেচ্ছাসেবক দল, পর্তুগাল ছাএলীগ, পর্তুগাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন, বৃহওর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন, বৃহত্তর ফরিদপুর অ্যাসোসিয়েশন, বৃহত্তর বরিশাল অ্যাসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন পর্তুগাল, পোর্তো আওয়ামী লীগ, সেতুবাল আওয়ামী লীগ, বিশ্বো সুন্নী আন্দোলন পর্তুগাল, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগাল, ফেনী অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগাল, পর্তুগাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, স্বজন ফাউন্ডেশন পর্তুগালের নেতৃবৃন্দ সহ পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দগন উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সংঙ্গীত পরিবেশন করেন পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাব এর সিনিয়র সহ সভাপতি এফ আই রনি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।
আজকের সময় প্রতিবেদক :
আশির দশক থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানেুষের পাশে থেকে নিরলস সেবা করেছেন ফেনী-০১ আসনের সকল বয়সের প্রিয় মুখ কামাল উদ্দিন মজুমদার। ফেনীর পরশুরাম-ফুলগাজি ও ছাগলনাইয়া নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন। এই আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদার।
জানা যায়, রাজনৈতিক জীবনী ও জনপ্রতিনিধির প্রথম শুরু হয় ১৯৮৮ সালে পরশুরাম কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য পদ দিয়ে।
এরপর ০৪ মার্চ ১৯৯০ সালে পরশুরাম থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালের ২৫ই এপ্রিল পরশুরাম সদর ইউনিয়নের চেয়ার প্রতীকে নির্বাচন করে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সে থেকে জনপ্রতিনিধির অধ্যায় শুরু হয়। এরপর তিনি ১৯৯৪ সালে পরশুরাম থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে ২৭ই ফেব্রুয়ারী চেয়ার প্রতীকের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ২য় দফায় নির্বাচিত হন কামাল উদ্দিন মজুমদার।
তৎকালীন আওয়ামী ক্ষমতা থাকাকালীন ১৯৯৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কতৃক শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি পরশুরাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরশুরাম পৌরসভা গঠনের পর ২৫ই এপ্রিল প্রথম পৌর প্রশাসক নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত দ্বিতীয় বারের মত।
২০০৯ সালে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে প্রথম পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তৃতীয় বারের মত পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বারের মত আনারস প্রতীকে পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় তৃতীয় বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
চেয়ারম্যান কামাল মজুমদার আজকের সময়‘কে জানান, তিনি দলীয় মনোনয়নে আশাবাদী এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমৃত্যু দল ও জনগনের সেবা করায় জীবনের শেষ ইচ্ছে।