আজকের সময় রিপোর্ট :
সহকারি শিক্ষক মু. আবদুল্লাহ নয়ন উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় ফারুক ভূঞা মেমোরিয়াল (এফবিএম) ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে থানারহাট প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
হেডমাস্টার ফারুক ভূঞা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহান আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেনী সাংবাদিক ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এম শরীফ ভূঞা।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা: আনোয়ার হোসেন, থানারহাট মডেল মাদ্রাসার পরিচালক মিজানুর রহমান সবুজ, ইন্টার্নি চিকিৎসক আবদুস সবুর, সুফফা গার্লস মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসাইন, বামনী বাজার জামে মসজিদের ইমাম রাফি উদ্দিন রাফি, সুফফা মডেল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, মাষ্টার কাজল, ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ প্রমুখ।
শেষে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।
প্রাথমিক
মুহাম্মদ আবদুল্লাহ নয়ন :
পৃথিবীতে নানা ধরনের পেশা আছে, একাডেমিক পড়াশোনা শেষে এক একজন এক এক পেশায় নিয়োজিত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সব পেশায় সম্মানী পাওয়া গেলেও সমান ভাবে সম্মান পাওয়া যায় না। একমাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছে শিক্ষকতা পেশা। শিক্ষকতা পেশায় সেবা বা শিক্ষা গ্রহণ করার পর ও ঐ শিক্ষককে আমৃত্যু সবাই সম্মান করে। অন্য পেশার ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণ করার পর আর সেবা দাতাকে তেমন সম্মান করে না। একজন শিক্ষককে সর্বস্তরের মানুষ সম্মান করে। শিক্ষকদেরই একমাত্র স্যার বলে সম্বোধন করা যায়। অন্য পেশাতে সেই সুযোগ নেই। একজন শিক্ষক একটি পরিবারের আলোর প্রদীপ এর মত,শিক্ষকের মাধ্যমে শত শত পরিবারের স্বপ্ন তৈরি হয়। একজন অভিভাবক তার স্বপ্ন গুলো শিক্ষকের হাতে তুলে দেন আর শিক্ষক সেই স্বপ্নকে লালন করে বড় করেন,ঐ পরিবারে আলোর প্রদীপ তৈরি করেন। তাদের স্বপ্ন গুলো বাস্তবায়ন করেন। আর পরিবার গুলোর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারলে শিক্ষক যে রকম তৃপ্তি ও আনন্দ লাভ করেন তা অন্য কোন পেশাতে পাওয়া যায় না।
একজন শিক্ষক তার শিক্ষকতা জীবনে অনেকের জীবনে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে পারেন,অনেকে শিক্ষকের আদর্শ ধারণ করে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে কিন্তু শিক্ষক তার ঐ জায়গাতে থেকে যান। বলা যায় শিক্ষক হচ্ছে রাস্তার মত,রাস্তা যেমন একই জায়গায় থেকে পথিকদের কে তার গন্তব্যে পোঁছিয়ে দেয়,তেমনি শিক্ষক ও একই অবস্থায় থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোর শিখা জ্বালিয়ে তার গন্তব্যে নিয়ে যায়। এতে শিক্ষকের আর্থিক কোন লাভ না হলেও এর মধ্যে কিন্তু শিক্ষকের একটা গর্ব বোধ কাজ করে। আমার শিক্ষকতা জীবনে এই অল্প সময়েও যখন দেখি আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা এসএসসি, এইচএসসি পরিক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পায়ে দেখা করতে আসে তখন আমাদের মন গর্বে ভরে উঠে। তখন শিক্ষকতা পেশার প্রতি নিজের ভালোবাসা বেড়ে যায়। এই সম্মান অন্য কোন পেশার মধ্যে দেখা যায় না।
একজন আদর্শ শিক্ষকের ধ্যান জ্ঞান হচ্ছে তার শিক্ষকতা, কিভাবে তিনি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন তার চিন্তা করা। তিনি তার সময় ও দায়িত্ব বোধ সম্পর্কে সচেতন থাকেন। অন্য পেশার বেশির ভাগ লোক প্রোডাক্ট তৈরি করে আর একজন শিক্ষক মানুষ তৈরি। এই জন্য শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগরি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ছোট ছোট কচি ফুলের মত শিশুদেরকে আগামীর সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে। যেখানে মা-বাবা, দাদা-দাদী বা অন্য আত্মীয় স্বজন মিলে একজন শিশুকে মানুষ করতে সময় দেয়,সেখানে একজন শিক্ষক ৪+ বা ৫+ বয়সী প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির ২০/৩০ জন শিক্ষার্থীকে এক সাথে গড়ে তুলে আপন স্নেহ ও ময়া মমতায়।
একজন শিক্ষক বেতন হিসাব করে কাজ করেন না। তিনি যে বেতন পান তার থেকে অনেক বেশি কাজ করেন। যে বেতন পান তাদিয়ে হয়তো নিজে ও সন্তানদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখাতে পারেন না, কিন্তু ঠিকই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উন্নত স্বপ্ন দর্শনে উদ্ভুদ্ধ করেন। তিনি পেশাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে কাজ করেন। তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে স্মার্ট ভাবে চলা সম্ভব না,তবুও তিনি নিজের মনের আনন্দে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো বিতরণ করেন। শিক্ষাকে যদি বলা মেরুদণ্ড,শিক্ষক হচ্ছেন সেই মেরুদণ্ড তৈরির হাতিয়ার।
শিক্ষক হলেন জাতির আলোকবর্তিকাবাহী এবং মানব জাতির ভবিষ্যতের রূপকার। শিক্ষক সম্পর্কে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) বলেছেন আমাকে শিক্ষক হিসেবেই পেরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্ব নবী (স:) ও একজন শিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও অনেক মনিষী ও দার্শনিক শিক্ষকতা করেছেন ও এই পেশাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন- নোবেল বিজয়ী পাকিস্তানি মানবাধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজায় বলেন- ” আমাদের মনে রাখতে হবে: একটি বই,একটি কলম,একটি শিশু এবং একজন শিক্ষক বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। একজন শিক্ষক সমাজের সর্বত্র প্রভাব পেলতে পারেন,কেউ বলতে পারে না তার প্রভাব কোথায় গিয়ে শেষ হিয়। উইলয়াম আর্থার ওয়ার্ড শিক্ষকতা সম্পর্কে বলেন মাঝারি মানের শিক্ষক বুঝিয়ে দেন,শ্রেষ্ঠ শিক্ষক করে দেখান ও মহান শিক্ষক অনুপ্রাণিত করেন। আমাদের শিক্ষকরা আমাদের বন্ধু,দার্শনিক এবং পথপ্রদর্শক। শুধু পুঁথিগত বিদ্যাই নয়, শিক্ষকদের থেকে যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা অর্জন করি, তা জীবনের বাকি দিনগুলোতে বহন করে থাকি আমরা।
এত অর্জন ও সম্মান থাকার পর ও শিক্ষাতা পেশায় কিছু বৈষম্য রয়েছে। বেতনের বৈষম্য, পদের বৈষম্য, পদোন্নতির বৈষম্য। একজন চাকুরীজীবি পেশাগত জীবনে ধাপে ধাপে পদোন্নতির ব্যাবস্থা থাকলে তার কর্মস্পীহা ও আত্মমর্যাদা বাড়ে। সরকারের বিভিন্ন সেক্টর তা বিদ্যামান থাকলে তা প্রাথমিকে বন্ধ রয়েছে। একজন শিক্ষক ২৮/৩০ বছর চাকুরী করে ও একই পদ থেকে বিদায় নেন। একই যোগ্যতা, একই সিলেবাস, একই কারিকুলাম, একই শিক্ষার্থীদের কাজ করা পিটিআই সংলগ্ন পরিক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেড আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ১৩ তম গ্রেড। এ সকল বৈষম্যের কারণে শিক্ষকদের কর্ম জীবন উপেক্ষিত, মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না,আসলে ও আরো ভালো সুযোগ পেলে চলে যায়।
শিক্ষকদের এই সকল বৈষম্য নিরসনে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোন অভাব নেই,অভাব শুধু এর প্রতিফলন ও বাস্তবায়নে। এ সকল সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে। মেধাবীদের শিক্ষতার মত মহান পেশায় আকৃষ্ট করতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই একজন আদর্শ শিক্ষকের স্পর্শে এসে প্রতিটি শিক্ষার্থী আলোকিত করুক তার জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে।
লেখক: মুহাম্মদ আবদুল্যাহ নয়ন।
শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা।
মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব :
শিশুদেরকে আমরা ছোট মানুষ এবং চিন্তা-চেতনায় আমাদের চেয়ে অনুর্বর
মনে করি। শিশুদের আমরা দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যথোপযুক্ত মনে করি না। শিশুরা
কি সাদা কাগজ? আসলেই না। আমরা মনে করি শিশুরা কিছু বুঝে না।
কিন্তু আমাদের এ ধারণা সঠিক নয়। একটি শিশুকে যদি আপনি একটা আপেল
আর অর্ধেকটা আপেল দেন,শিশু কিন্তু অর্ধেকটা নিবে না । তার মানে সে
কিছুটা বুঝে। ধমক দিলে তার মন খারাপ হয়,আবার একটা সময় সেও আপনাকে
ধমক দিবে। চোখের ভাষাও কিন্তু শিশু বোঝে, আপনি কি ভয় দেখাচ্ছেন নাকি
ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন। কোন বিষয় তার অপছন্দ হলে সে কান্না বা
রাগের মাধ্যমে তার অনুভূতি প্রকাশ করে। অপরিচিত ব্যক্তির কাছে শিশু যেতে
চায় না কারণ তাকে সে নিরাপদ মনে করে না। মায়ের হাসিতে শিশু হাসে,
আবার মায়ের কান্নায় শিশু কাঁদে। শিশুরাও আমাদের মতই একটি দেহ ও মন
নিয়ে গঠিত। সে প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার মাধ্যমে নিজেকে পরিবেশে
খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করে। শিশুর মধ্যেও অপমানবোধ কাজ করে। তাইতো পড়ে গেলে
বা কোন ভাবে ব্যথা পেলে কেউ না দেখলে সে কান্না করে না। শিশু কোন কাজ
করার পর আপনার কাছ থেকে প্রশংসা প্রত্যাশা করে। আপনার প্রশংসা তাকে আরও
উজ্জীবিত করে। শিশুরা জন্মের পর থেকে শিক্ষা গ্রহণ শুরু করে এটাই ছিল
আমাদের ধারণা। কিন্তু ইসলাসের ইতিহাস থেকে অন্য কথা জানা যায়। বর্তমান
সময়ে বিজ্ঞানও যা সমর্থন দিচ্ছে। ইসলাম ধর্ম মতে শিশু মাতৃগর্ভ থেকেই
শেখা শুরু করে। তার উদাহরণ- হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রঃ)। তিনি মায়ের
গর্ভে থেকেই আঠার পারা কুরআন মাজীদ মুখস্থ করে ছিলেন বলে বিভিন্ন
বর্ণনায় জানা যায়। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলামে শিশুরা মাতৃগর্ভ
থেকে শেখা শুরু করে বলে বর্ণনা করা হয়েছে এবং শিশুর শূন্য থেকে পাঁচ বছর
সময়কালকে প্রারম্ভিক শৈশব ধরা হয়। এই সময়টা শিশুর শিখনের জন্য খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। এই জন্য গর্ভকালীন মায়েদের পরিচর্যার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মায়ের সুস্থতা ও মানসিক অবস্থার উপর শিশুর মানসিক বিকাশ নির্ভর করে। এই
জন্য জন্ম পূর্ববর্তী সময়ে মায়ের প্রতি এবং জন্ম পরবর্তী সময়ে শিশুর
প্রতি যথাযথ যতœবান হতে হবে। এই সময় শিশুর প্রতি যতœ না নিলে তার
বিকাশ বাধাগ্রস্থ হতে পারে। সময়মত কাজ না করলে
সুযোগটি সারা জীবনের জন্য হারিয়ে যাবে।
প্রতিটি শিশুরই নিজস্ব একটি সত্তা, আত্ম-মর্যাদা ও সম্মানবোধ আছে।
শিশুর আত্ম-মর্যাদায় আঘাত হানে এমন কাজ করা অনুচিত। আমরা অনেক সময়
শিশুকে বকাঝকা করি বা গালমন্দ করি,যা শিশুর মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্থ
করে। অনেক সময় আমরা শিশুর পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠাট্টা করি। সব শিশুর বোঝার
ক্ষমতা ও শেখার ধরন এক নয়। কোনো কোনো শিশু খুব ধীরে শেখে, আবার
কোনো কোনো শিশু দ্রুত শেখে । পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কিন্তু
ছোট বেলায় ভাল ছাত্র ছিলেন না। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জগৎ বিখ্যাত
বিজ্ঞানী হয়েছেন। তাই “তোর মাথা গোবরে ভর্তি, তোর দ্বারা কিছুই হবে
না” – শিশুর সাথে এমন নেতিবাচক আচরণ করা ঠিক নয়। এমন আচরণে শিশু
হীনমন্যতায় ভোগে। ফলে, সে বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হয়।
কঠিন শাসন-বারণও শিশু পছন্দ করে না । আপনি যা বলেছেন তাকে তা-ই করতে
হবে। অর্থাৎ আপনার কর্তৃত্ব তাকে মানতেই হবে। এমন নীতি থেকে আপনাকে
বেরিয়ে আসতে হবে। কখনও কখনও তাকেও প্রাধান্য দিন। অর্থাৎ শিশুর সাথে
নমনীয় নীতি গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয়। তাকে তার মত করেই বেড়ে ওঠার সুযোগ
দিন । অনেক সময় আমাদের সিদ্ধান্তগুলো শিশুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায় যা তার সাথে
কখনোই করা উচিত নয়। ভয়, একঘেঁয়েমিতা এবং দি¦ধা এই তিনটি কারণ
একটি শিশুকে ব্যর্থতার দিকে ধাবিত করে । ভয় শিশুদের আগ্রহকে সংকুচিত
করে। শেখার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। অথচ আমরা প্রায়ই শিশুদের পড়া শিখানোর
ক্ষেত্রে শারীরিক শাস্তির ভয় দেখাই। মানসিক আঘাত করি, যা থেকে শিশুর মধ্যে
ভয়ের সঞ্চার হয়। একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তিতে তার একঘেঁয়েমিতা আসে। আবার
পাঠে যদি রস না থাকে, বিষয়ের প্রতি তখন সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং
তার একঘেঁয়েমিতা আসে। তাই আপনার উচিত অনেকক্ষণ পর্যন্ত একই বিষয়
না পড়ানো। কোন বিষয়ে যদি তার আগ্রহ না থাকে ঐ বিষয়ের প্রতি আগ্রহ
সৃষ্টি করতে হবে । আবার কোন বিষয়ে যদি তার ধারণা স্পষ্ট না হয়, তাহলেও তার
শিখন ব্যর্থ হয়। যে কোন বিষয় শিশুর নিকট সহজ-সরল ভাবে উপস্থাপন করুন।
আমাদের ভাবনা আর শিশুর ভাবনা একরকম নয়। যে কোন বিষয়কে শিশুর নিকট তার
মত করেই উপস্থাপন করুন। কোন বিষয় তার বুঝতে সমস্যা হলে বিভিন্নভাবে তা
উপস্থাপন করুন যাতে তার ধারণা সুস্পষ্ট হয় নতুবা শিশুর শিখন ব্যর্থ হবে। শিশু
ভুল বা শুদ্ধ যাই করুক আপনি যদি খুশি হন, তাহলে সেও খুশি হয়। শিশু
কৌতূহল প্রিয়, তার কৌতূহল মেটাতে হবে। বেশি বেশি প্রশ্ন করে, তার
প্রশ্ন শুনতে হবে এবং উত্তর দিলে সে খুশি হয়। আপনি কি তাকে গুরুত্ব
দিচ্ছেন, নাকি দিচ্ছেন না তা সে বুঝে। সে চায় আপনি তাকে গুরুত্ব দেন,
তার কথা মত কাজ করেন। সব সময়ই সে আপনার কাছে আদর-¯েœহ প্রত্যাশা
করে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তার বায়না পূরণ করবেন এটি সে আপনার
কাছে প্রত্যাশা করে। তার সাথে খেলবেন, গল্প করবেন, তাকে নিয়ে ঘুরতে
যাবেন, এমন আচরণ সব সময়ই সে প্রত্যাশা করে। আপনার কাজে তাকে
সাহায্য করতে দিবেন, তার কাজে সাহায্য করবেন, প্রত্যেকটি শিশুই এমনটি
আশা করে। আপনি তাকে সাহায্য করতে পারেন ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনের
মাধ্যমে। একমাত্র আপনার ইতিবাচক মনোভাব ও সহযোগিতাই পারে শিশুর
শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে তরান্বিত করতে। শিশুকে তার কাজে উৎসাহ দিতে
চেষ্টা করুন। উৎসাহ-উদ্দীপনা দিলে শিশু সফল হবে। সবসময় শিশুর প্রতি
মনোযোগী হতে হবে, তাহলে শিশু কোন কিছু করতে বা বলতে উৎসাহিত হবে।
শিশুকে তার কাজের জন্য প্রশংসা করতে হবে। বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের
সুযোগ দিতে হবে। আমরা অনেক সময় কিছু কিছু কাজে শিশুদেরকে
অংশগ্রহণ করতে দিই না, তারা পারবে না এই ভেবে। যা শিশুদেরকে
আত্মবিশ^াসী হয়ে উঠতে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। শিশুর প্রতি
আপনার বিশ^াস ও আস্থা তাকে বহুদূর এগিয়ে দিতে পারে। ইতিবাচক আচরণ
তার সফলতায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিশুকে কৃতকাজের পুরস্কার দিতে হবে,
যা তাকে আনন্দিত করে এবং কাজের প্রতি তার স্পৃহাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
শিশুরা কর্মচঞ্চল, তার কর্মচঞ্চলতাকে পছন্দ করুন,যা তার সফলতাকে ত্বরান্বিত
করবে। তুমি অনেক ভালো করেছ, খুব সুন্দর হয়েছে, তোমাকে ধন্যবাদ, এ ধরনের
প্রশংসাসূচক বাক্য শিশুর ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
প্রশংসাসূচক একটি বাক্য অথবা ছোট্ট একটি পুরস্কার তাকে অনেক
আনন্দিত করে। আনন্দের সংমিশ্রণে শিখন সফল হয়। প্রত্যেক শিশু শেখার ধরনে
তার নিজস্বতা থাকে। তারা কখন কি শিখছে তা বুঝা মুশকিল। কারণ চলার পথে
প্রত্যেকটা অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিখে। শিশুরা দেখে, শুনে, অনুকরণ করে,
অনুসরণ এর মাধ্যমে শেখে, কেউ আবার বার বার চেষ্টার মাধ্যমে শেখে। আপনি
হয়তো ভাবতে পারেন, আপনি বেশি কিছু জানেন না কি শেখাবেন। তারপরও সে
আপনার কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখে। শিশুরা অনুকরণ প্রিয় তাই সে বড়দের
কথা ও কাজকে অনুকরণ করে। পরিবারের কে কিভাবে কথা বলে, কিভাবে হাঁটে তা
শিশু বলতে পারে। আর শিশু যখন আনন্দ পায় তখনই তার শিখনটা দ্রুত ঘটে।
উৎসাহ পেলে তাদের শেখার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। পরিবার এবং আশপাশের
অভিজ্ঞতাই শিশুর শিখনের মূলভিত্তি। এজন্য পরিবারের সদস্যদেরকে সতর্কভাবে
পারিবারিক কাজকর্ম পরিচালনা এবং রীতিনীতি মেনে চলা উচিত। ভালো বা
খারাপ যাই করুক আপনি তার পাশে থাকুন। সব সময় তার উপর বিশ^াস রাখুন।
আমরা যা করি শিশুরা কিন্তু তাই করে। যা বলি তা অনেক সময়ই শুনতে চায় না।
তাই শিশুর নিকট নিজেকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করুন। কোন কাজে
কিছু অর্জন হোক বা না হোক তাকে প্রশংসা করুন। প্রশংসা করার মাধ্যমে
তাকে বিকশিত হতে সাহায্য করতে পারেন। শিশুর শেখার ধরন অনুযায়ী তাকে
শিখতে সাহায্য করুন, আপনি যে রকম পছন্দ করেন সেরকম নয়। কারণ প্রত্যেক
ব্যক্তিরই শেখার ধরন আলাদা। শিশুদের পছন্দ ও অপছন্দকে আপনি প্রাধান্য দিন। এটি
তাদের আত্ম-সম্মান ও আত্মবিশ^াস তৈরি করবে। শিশুদের একটা নিয়মের মধ্যে
রাখুন, তাহলে তারা নিয়মানুবর্তিতা শিখবে। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল
হোন, এতে তারা সহানুভূতি শিখবে। এটি পরবর্তী জীবনে তাকে
অসাম্প্রদায়িক করে তুলবে। শিশুর সাথে মিথ্যা বলা পরিহার করুন এবং নীতি
কথা শুনান, যা ভবিষ্যতে তাকে নীতিবান করে তুলবে। শিশুকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে
সাহায্য করুন, এটি তাকে সফল হতে সাহায্য করবে। নিজেকে অভিভাবক নয়
শিশুর সহায়ক ভাবুন, বন্ধু ভাবুন।
-মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব
সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার
ফেনী সদর, ফেনী।
০১৭৪৩৭৭৪১৭৫
ঊ-সধরষ ঃ স.ধ.সড়ঃধষবন৮১@মসধরষ.পড়স
ফেনী প্রতিনিধি :
শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল, প্রতি ঘর হবে একটি স্কুল এ স্লোগানকে সামনে রেখে জেলায় প্রথম বারের মত সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের আরবিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাদার্স ক্লাব উদ্বোধন করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন আহমেদ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া আচার্যীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার পাল, উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম, সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবদুল গণি, মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, কানিজ ফাতেমা, পরিচালনা কমিটির সভাপতি এস এম আলা উদ্দিন ভূঁইয়া, পিটিএ সভাপতি আইয়ুব আহাম্মদ, সহকারি শিক্ষক সালমা, মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, বিশুদেব দাস, আবু জাফর সালেহ্ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারি শিক্ষক কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সহকারি শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব এর অনুপ্রেরণায় মাদার্স ক্লাব ও মনের আয়না কর্নার প্রতিষ্ঠিত হয়। শেষে সেরা ৫ জন মা কে সংবর্ধনা দেয়া হয় এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়।
স্টাফ রিপোটারঃ
দাগনভূঞার বেকের বাজারস্থ দারুস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা উসমান গণির সঞ্চালনায় বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। জয়নগর আলিম মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শিহাব উদ্দিন, মাওলানা ইউছুপ, মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ সাদ্দাম হোসেন, মমারিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাংবাদিক এটিএম আতিকুল ইসলাম, মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা জামাল উদ্দিন।
দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুশাররফ হোসেন। মনোজ্ঞ ইসলামি সংস্কৃতির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
মঙ্গলকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয় : তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান চার শ্রেণিকক্ষে
এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
১১০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মঙ্গলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে পাশের হাইস্কুলের পুকুর পাড়ের দুটি কক্ষ সাময়িক অনুমতি নিয়ে চলছে পাঠদান। তাতেও সংকুলান না হওয়ায় ছাদের সিঁড়িঘরে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনের চাহিদার কথা জানানো হলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
শতর্বষ পেরোনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো ভুগছে নানা সংকটে। ফেনী জেলার প্রাচীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান অগ্রগামী। স্কুলে মূল আঙ্গিনা থেকে পৃথক পুকুর পাড়ে হাইস্কুলের পরিত্যক্ত ভবনে নির্জন স্থানে পাঠদান নিয়ে শঙ্কিত থাকে অভিভাবকরা। তারা বলছেন এভাবে স্কুলের আঙ্গিনার বাইরে ক্লাস করা তাদের মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরম। কাঠের অবকাঠামো নড়বড়ে হওয়ায় ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বৈদ্যুতিক পাখাও চালানো যায় না। অসহনীয় গরমে কষ্ট করে কচিকাচা শিক্ষার্থীরা। আবার বর্ষায়ও দেখা দেয় বিপত্তি। টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। সেই পানিতে ভিজে যায় বø্যাকবোর্ড। নষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের বই খাতাও।
৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জয়িতা জানায়, আমাদের এই রুমে ক্লাস করতে খুবই কষ্ট হয়। স্কুলের মেইন বিল্ডিংয়ের বাইরে হওয়ায় আমরা পানি খাওয়ার জন্য টয়লেটে যাওয়ার জন্য স্কুলের ভেতর যেতে হয় যা আমাদের জন্য দূরে হয়ে যায়।
অভিভাবকরা বলছেন, শঙ্কার মধ্যে তারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হয়, স্কুলের আর কয়েকটি কক্ষ বর্ধিত করলেও সমস্যাটির কিছুটা সমাধান মিলতো। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরাও স্বস্তি পেতাম।
বিদ্যালয়টির অভিভাবক মাষ্টার মীর হোসেন বলেন, শ্রেণীকক্ষের সংকটে এ স্কুলটিতে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না। পুকুরের পাড়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের দুটি ভবনে শিক্ষাথীরা ক্লাস করে। পুকুর পাড়ের এই জায়গা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদও না। উচ্চ বিদ্যালয় এ কক্ষ দুটি আপাতত দিয়েছে। দরকার হলে নিয়েও নিতে পারে। তখন শ্রেণীকক্ষ সংকট আরও প্রকট হবে।
নুরুল হুদা মিজান নামের আরেক অভিভাবক বলেন, প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আজ করুণ অবস্থা। কক্ষ সংকটে মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ৪টি শ্রেণীকক্ষ আছে, যা বর্তমান শিশু ও শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন পরিপন্থি। প্রচন্ড গরমে ভেঙে পড়ার ভয়ে পাখাগুলো চালানো যায় না।
স্কুল কমিটির সভাপতি ও মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বাহার বলেন, আমরা বারবার শিক্ষা অফিস, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। প্রতি বছর ভবনের জন্য চাহিদা দেওয়া হলেও ভবন অনুমোদন হয়ে আসছে না। পর্যাপ্ত ভবন না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিদারুণ কষ্ট করে।
কর্মরত শিক্ষকরা বলেন, পিডিপি ৩ এর যে ভবনটা রয়েছে। সেটি ৪ তলা ফাউন্ডেশনের। এখন সেখানে একতলা ভবন রয়েছে। সে ভবনটিতে আরেক তলা বর্ধিত করলেও শ্রেণীকক্ষ সংকট অনেকটাই মিটবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক (চ.দা) মো. নুরুল হুদা জানান, বছর বছর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে জানিয়েও এ বিষয়ে কোনো সুরাহা হয় না। পিডিপি ৩ এর যে ভবনটি আছে তা বর্ধিত করার জন্যও বারবার আবেদন করা হয়েছে। তাতেও কোনো সমাধান মিলছে না। সিঁড়িরুমেও ক্লাস করাতে হয় আমাদের। স্কুলে শ্রেণীকক্ষ আছে সাকুল্যে ৪টি, শিক্ষার্থী আছে তিন শতাধিক। দুই শিফট করেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে ঠিকমতো জায়গা দেওয়া যায় না। স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে শির্ক্ষাথীদের পাঠদানেও বিঘœ ঘটে। কক্ষগুলো আকারে ছোট।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুর রহমানের জানান, বিদ্যালয়ের ভবন অনুমোদন দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আমরা চাহিদা চাইতে পারি অধিদপ্তরের কাছে। এর চাইতে বেশী কিছু করার আমাদের নেই।
শহিদুল ইসলাম, ফেনী :