এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
দেশি মুরগির ডিম আর মাংস স্বাদ ও পুষ্টির জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। দেশি মুরগির চাহিদা থাকলেও সরবরাহ কম থাকায় বাড়তি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গ্রামীণ জনপদের গৃহস্থের দেশি জাতের মুরগি পালন কমে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে।
মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি মুরগি জোগানের সবটা গ্রামীণ জনপদের গৃহস্থের কাছ থেকে আসে। আগে গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে মুরগি পালন করলেও এখন কমে গেছে। দেশি মুরগি বংশবৃদ্ধি এবং বড় হওয়া সময়সাপেক্ষ। তবে দেশি মুরগির চাহিদা কিন্তু আছেই, দাম একটু বেশি হলেও ক্রেতারা কিনতে আগ্রহী।
জানা যায়, বাণিজ্যিকভাবে দেশি মুরগির লালন পালন নেই। গ্রামের গৃহস্থ বা চাষিরা নিজ বাড়িতে যেসব মুরগি লালন পালন করেন সেগুলো হাটবাজারে বিক্রির সূত্র ধরে ব্যাপারিদের (পাইকার) কাছে চলে আসে। পরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে চলে যায়। তবে তা সীমিত আকারে হওয়ায় চাহিদা পূরণ হয় না। গৃহস্থ থেকে পাইকাররা মুরগি পিস হিসেবে কম মূল্যে কিনে নিলেও পরে তা বাজারে বিক্রি হয় কেজি দরে।
শহরের বড় বাজার, পৌর হাকর্স মার্কেট ও মহিপালের বাজার ঘুরে জানা যায়, দেশি জাতের বড় মোরগ (রাতা) প্রতিকেজি ৬শ টাকা থেকে ৭শ টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। পাশাপাশি মুরগির কেজি ৪৫০টাকা থেকে ৫০০টাকা দরে বিক্রি করছেন।
গ্রামে দেশি মুরগি পালন আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এলেও প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য বলেছে ভিন্ন কথা। প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, ২০০৬ সালের হালনাগাদে ফেনীতে ১১ লাখ ৩ হাজার ৮০৯টি মুরগি পালন করা হলেও ২০১৯ সালের ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯৮টি মুরগি পালন করেছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। অর্থাৎ একযুগে পালন বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তার এক বছর পর ২০২০ সালের সর্বশেষ হালনাগাদের তথ্যে মুরগি পালনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ দেখা যায়।
তবে বাস্তবে গৃহস্থে দেশি মুরগি পালনের সংখ্যার সঙ্গে এ তথ্যের কোনো ধরনের মিল পাওয়া যায়নি। ২০২০ সালে সেই তথ্য অনুসারে দেশি জাতের মুরগি পালন হয় ২৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৮৯টি।
শহরের অলিগলিতে হেঁটে মুরগি বিক্রি করেন সামসুউদ্দিন বশর। দেশি মুরগির দাম জানতে চাইলে বলেন, দেশি মুরগির সংকট সারা বছরই থাকে, ব্যাপারি থেকে পাইকারি বেশি কেনা পড়ছে। তিন-চার বছর আগেও মুরগির দাম ছিল ২৫০-৩০০ টাকার মধ্যে। এখন যা অবস্থা, ৪৫০-৫০০ টাকার কমে মুরগি বিক্রি করলে পোষায় না।
দাম শুনে মুরগি ক্রেতা মো. হারুন বলেন, আর অল্প কিছু টাকা যোগ করলেই ১ কেজি গরুর মাংস কেনা যাবে। এখন দেশি মুরগি আর গরু মাংসের দাম তো প্রায় সমান হয়ে গেল। সানরাইজ যুব ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সদস্য মিনহাজ উদ্দিন জানান, ব্যবসার পাশাপাশি নিজস্ব জায়গায় মৎস্য ও হাঁস-মুরগি পালন করার উদ্যোগ নিয়েছি।
সোনাগাজী মতিগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা হোসনা আরা বেগম দীর্ঘ ২৬ বছরের সংসার জীবনের শুরু থেকে হাঁস-মুরগি পালন করে আসছেন। তিনি জানান, হাঁস-মুরগি পালন করলেও ছোট থেকে বড় হয়ে উঠতে অর্ধেক নষ্ট হয়ে যায়। বাড়ি আশেপাশে থাকলেও কিছু মুরগি কাক ও শিয়াল নিয়ে যায়। আবার রোগ-ব্যাধির কারণে কিছু মুরগি মারা যায়। মুরগি বড় করতে বাচ্চা থেকে টিকিয়ে তোলা অনেক কষ্টকর। সব মিলিয়ে লোকসানে এখন আর হাঁস-মুরগি পালতে ইচ্ছে নেই হোছনার।
ফেনী সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ হেলালুদ্দিন জানান, বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশিক্ষণ সেন্টারে থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ তিনমাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। যারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের পুষ্টিগুণ চাহিদা মেটানো সম্ভব।
পুরোনো শুল্কহারে বৈষম্য থাকায় কাঁচা কাজুবাদাম আমদানি হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, বাজেটে বৈষম্য রোধ করা হবে। কৃষিমন্ত্রীও বৈষম্য রোধ করতে অনেক চেষ্টা করেছেন।
বাজেট ঘোষণার দিন (গত ৯ জুন) থেকেই নতুন শুল্কহার কার্যকর হয়েছে। এমন সময়ে শুল্কহার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে যখন এই খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করছেন। সিটি গ্রুপ, বিএসআরএম গ্রুপ, জেএমআই গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাজ্জাক অ্যাগ্রো বিজনেসের মতো অনেকেই এগিয়ে এসেছে এই খাতে। পাশাপাশি আছেন পুরোনো উদ্যোক্তারাও।
হতাশ উদ্যোক্তারা
পার্বত্য এলাকায় স্থানীয়ভাবে কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে অনেক দিন ধরে। তবে এই খাতে কারখানার সূচনা হয় গ্রিনগ্রেইন কেশিও প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাকিল আহমেদের হাত ধরে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুরোনো শুল্কহারে বৈষম্য থাকায় কাঁচা কাজুবাদাম আমদানি হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, বাজেটে বৈষম্য রোধ করা হবে। কৃষিমন্ত্রীও বৈষম্য রোধ করতে অনেক চেষ্টা করেছেন। প্রস্তাবিত নতুন শুল্কহারে আমরা হতাশ। এতে কারখানা চালু করা যাবে না। নতুন উদ্যোক্তারাও পিছিয়ে যাবেন। কারণ, কাঁচামাল এনে এক কেজি কাজুবাদাম তৈরিতে এখন মানভেদে খরচ পড়বে ৭৭০–৮৫০ টাকা। আর আমদানি করা কাজুবাদাম ঢাকার বাজারে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০–৭৭০ টাকা।’
কাঁচা কাজুবাদাম ও প্রস্তুত কাজুবাদামে আগে শুল্কহার একই ছিল। শুধু মূসক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ শতাংশ কাস্টমস শুল্কে ছাড় পেত। এই বৈষম্যের কারণেই কাঁচা কাজুবাদাম তেমন আমদানি হচ্ছে না। দেশে কাঁচা কাজুবাদামের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলন কম হওয়ায় ছোট উদ্যোক্তারা এবার কাজুবাদাম কিনতে পারেননি। তাই অনেক কারখানা চালু হচ্ছে না। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে বৈষম্য রোধ হবে বলে আশায় ছিলেন উদ্যোক্তারা। শেষ পর্যন্ত তাঁদের আশা পূরণ হয়নি।
প্রস্তুত কাজুবাদাম আমদানি শুরু হওয়ার পর থেকে মূল্য ফাঁকি দিচ্ছে আমদানিকারকেরা। ভিয়েতনামের কাজুবাদাম রপ্তানিকারকদের সংগঠন ‘ভিয়েতনাম ক্যাশো অ্যাসোসিয়েশন’ এ মাসে এক প্রকাশনায় বলেছে, বাংলাদেশে তারা গড়ে ৬ দশমিক ৮৫ ডলার দরে কাজুবাদাম রপ্তানি করেছে। অথচ বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর আমদানিকারকেরা প্রতি কেজি ১ দশমিক ৮৫ ডলার দরে আমদানির তথ্য দিচ্ছেন। এই দরেই শুল্কায়ন করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
(আজকের সময়/এস এইচ/জুন ১৫, ২০২২)
এম শরীফ ভূঞা :
এখানে মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ জলকপাট, বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মৎস্য ঘের, জোয়ার-ভাটার পানি এবং ফেনী নদীর দু’কূল বেয়ে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতেই ছুটে আসছেন পর্যটকরা। দেশের সর্ববৃহৎ নির্মাণাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর’। এখানে গড়ে উঠছে অসংখ্য শিল্প কারখানা। নয়নাভিরাম এই শিল্পাঞ্চল দেখতে ছুটে আসছেন দেশী-বিদেশী পর্যটকদের দল। ছোট ফেনী নদীর উপকণ্ঠে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় নির্মাণ করা হয়েছে মুছাপুর ক্লোজার। অর্থাৎ বন্যা ও জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। গড়ে তোলা হয়েছে কৃত্রিম লেক।
মোঃ মহি উদ্দিন :
এম শরীফ ভূঞা, আজকের সময় :