Home » কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসায় সংবাদ সংগ্রহে বাধা, সাংবাদিকের উপর হামলা

কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসায় সংবাদ সংগ্রহে বাধা, সাংবাদিকের উপর হামলা

by wp_500elo

নিজস্ব প্রতিবেদক :

‎নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিক ও তার ক্যামেরাম্যানের ওপর হামলা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মঈনুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচার চালানোরও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎এ ঘটনায় জাতীয় দৈনিক লাখোকণ্ঠের কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

‎অভিযোগে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন উল্লেখ করেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি তার ক্যামেরাম্যান মো. জাকেরকে সঙ্গে নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কামলারপুল /গোয়ালের পুল এলাকায় অবস্থিত মঈনুল উলুম মাদ্রাসায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে যান।

‎তার দাবি, স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়া এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা সেখানে যান।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার প্রধান মুহতামিম মুসলিম উদ্দিন তখন সেখানে উপস্থিত না থাকায় তারা অপেক্ষাকক্ষে অপেক্ষা করেন এবং এক অভিভাবকের সাক্ষাৎকার ভিডিও ধারণ করেন। পরে প্রধান মুহতামিম মাদ্রাসায় আসার পর শিক্ষার্থী নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

‎সাংবাদিকের অভিযোগ, একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তার ক্যামেরাম্যানের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন এবং সেটির গ্লাস ভেঙে ফেলেন। পরে তাদের জামার কলার ধরে ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ এবং ঘেরাও করে রাখার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

‎অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ও ‘হলুদ সাংবাদিক’ বলে অপপ্রচার করা হয়। তিনি সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। একপর্যায়ে তাকে ও তার ক্যামেরাম্যানকে সংবাদ প্রকাশ বা থানায় অভিযোগ করলে সুযোগ বুঝে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎পরে স্থানীয় জনতা ও অভিভাবকরা তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

উল্লেখ থাকে যে, মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা যাচাই করতে গেলে এই ঘটনা ঘটেছে।

‎এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানার কাছে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ইনচাজ নুরুল হাকিম জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

‎তবে অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আরো খবর