সংবাদদাতা :
গার্মেন্টস কর্মি আয়েশার কুঁড়ে ঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগে ডুপ্লেক্স বাড়ির মালিকের বাঁধা ও হয়রানি বিষয়ে নিউজ করায়, দৈনিক ডেসটিনি, গ্রীন টেলিভিশনের ফেনী প্রতিনিধি ও ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মো: ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার কারন অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেনী, দাগনভূঞা উপজেলা ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন আবদুল নবী গ্রামের বাসিন্দা বিবি আয়েশা ও আবদুর রব সামনা সামনি বসবাস করে। একই মালিক থেকে উভয়েই জায়গা ক্রয় করে, কিন্তু আয়েশা যে দাগে ঘর নির্মান করেছে সেই দাগে আবদুর রব কোন জায়গা ক্রয় করেন নি।
স্থানীয় এলাকাবাসীর, তথ্যমতে, মূলত আয়েশা একজন গার্মেন্টস কর্মি হয়ে আবদুর রবের আলীশান বাড়ির সামনে বসবাস করলে তার সম্মানের হানি হবে চিন্তা করে আয়েশার ঘর তার জায়গায় নির্মান করেছে বলে বানোয়াট অজুহাতে বার বার তার ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের মিটার লাগাতে বাঁধা প্রদান করে আসছিল।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৫, “রবের ডুপ্লেক্স ভবনের সামনে গার্মেন্টস কর্মি আয়েশার কুঁড়ে ঘর হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগে বাঁধা ও এসিড নিক্ষেপের হুমকি শিরোনামে” দৈনিক ডেসটিনি ও অন্যান্য পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।
এতে নড়ে চড়ে বসে ফেনী বিদ্যুৎ পল্লি বিদ্যুৎ অফিস। ফেনী পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম বিষয়টি আমলে নিয়ে, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংশার লক্ষে লিগ্যাল এডভাইজারের কাছে উভয়ের জায়গার মালিকীয় স্বপক্ষে কাগজ পত্র জমা দিতে বলেন।
দীর্ঘ এক মাস পল্লি বিদ্যুতের লিগ্যাল এডভাইজার বিষয়টি যাচাই বাচাই করে আয়েশার ঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে কোন বাঁধা নেই মর্মে রায় দেন।
গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫, পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন আয়েশার ঘরে ৩য় বার মিটার সংযোগ দিতে আসলে পূর্বের ন্যায় আবারও আবদুর রবের পরিবার বাঁধা প্রদান করে। আয়েশা ও রাজাপুর পল্লি বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম পূনরায় বাঁধা দেয়ার বিষয়টি পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মিদের জানালে ফখরুল ইসলাম তার ক্যামেরাম্যান কে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়।
গণমাধ্যম কর্মি দেখেই আবদুর রবের পরিবার বিশ্রী ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে। এবং বিদ্যুতের খুঁটির ঘোড়ায় রবের মেয়ে ও ছেলে দাড়িয়ে থাকে, পল্লি বিদ্যুতের লোকেরা খুঁটিতে সংযোগ দিতে উঠতে চাইলেই রবের ছেলে মেয়ে তার টান দিয়ে ছিড়ে পেলে।
এক পর্যায়ে ফখরুল পুলিশ কে বিস্তারিত জানালে কোরাইশ মুন্সি ফাড়ি থানার ইনচার্জ মোতালেব ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে আসতে বলে। ঘটনাস্থল থেকে শাখা রাস্তা অতিক্রম করে কোরাইশ মুন্সি দরবেশ হাট সড়কে উঠতেই আবদুর রব হন্তদন্ত হয়ে এসে ফখরুলের উপর হামলা করে, মোবাইল চিনতাই করে নিয়ে যায়। আক্রান্ত অবস্থায় ফখরুল কোরাইশ মুন্সি পুলিশ ফাঁড়িতে এসে বিস্তারিত জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে আবদুর রব সহ তার পরিবার আয়েশার উপর হামলা করছে।
পুলিশ আবদুর রবকে নিয়ে থানায় আসে এবং বিদ্যুতের লোকজন মিটার সংযোগ দিতে না পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গণমাধ্যম কর্মির উপর হামলা ও মোবাইল চিন্তাইয়ের দায়ে থানায় মামলা দায়ের করলে, আবদুর রবকে আটক করে পুলিশ জেলে পাঠায়।
৬ ডিসেম্বর পল্লি বিদ্যুতের লোকজন পূনরায় গিয়ে আয়েশার ঘরে মিটার সংযোগ দিয়ে আসে, অন্ধকার থেকে মুক্তি পায় আয়েশা।
এদিকে, ১০ ডিসেম্বর আবদুর রব জেল থেকে জামিন নিয়ে স্ত্রী ফরিদা আক্তার পারভীনকে বাদি করে গণমাধ্যম কর্মি মো: ফখরুল ইসলাম কে ০৩ নং আসামী করে, ৩২৩/৩৫৪/৩৭৯/ ৫০৬ ধারায় দাগনভূঞা আমলী আদালতে একটি সি আর মামলা করেন, যার নং ৮৩৩/২৫ ইং।
মামলার বিষয়ে ফখরুল বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশ করাতে যদি মামলা মাথায় নিতে হয় তাহলে এ দেশে দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার কোনদিন বন্ধ হবে না। গণমাধ্যম কর্মিরাও মামলার ভয়ে অন্যায় অবিচার ও সত্যের পক্ষে লিখতে তাদের হাত গুটিয়ে নিতে পারে। তবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে আমার যদি ফাঁসিও হয় আমি পিছপা হব না। তিনি এই মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।