জাতীয়
এম শরীফ ভূঞা, ফেনী :
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফেনীর মুহুরী নদীর ফুলগাজী ও পরশুরামের তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার গ্রামীণ সড়ক, কৃষি ও মৎস্যখাত। এতে প্লাবিত হয়েছে কমপক্ষে ২০টি গ্রাম।
পরশুরাম পয়েন্টে মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) নদীর পানি বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বাঁধের অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত আছে। এতে নতুন নতুন এলাকায় প্লাবিত হচ্ছে।
জানা গেছে, পরশুরাম-ফুলগাজী-ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে ফেনী-১ সংসদীয় এলাকা গঠিত। প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষের বাস এ জনপদে। প্রতিবেশী ভারত থেকে উৎস মুহুরী নদী প্রবাহিত হয়েছে এ তিন উপজেলার বুক চিরে। বর্ষায় চির যৌবনা এ নদীর করাল গ্রাসে বানভাসি মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সর্বনাশা বন্যায় সৃষ্ট নদীর ভাঙনে অবহেলিত এ জনপদের মানুষের ধান পানিতে তলিয়ে যায়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীকুলসহ কয়েকশ মৎস্য ঘের বন্যার পানিতে ডুবে অসীম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এসব এলাকার মানুষরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ফুলগাজীতে ৩০০ হেক্টর ও পরশুরামে ১৬৫ হেক্টর রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া তলিয়ে গেছে সবজি ক্ষেত। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বন্যার পানিতে দুই উপজেলার ৩৭৫ পুকুর ও ঘেরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ণয় ও ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সহযোগিতা করতে মাঠপর্যায়ে মৎস্য বিভাগ সচেষ্ট রয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার বলেন, প্রতিবছর বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়। এ এলাকার মানুষ স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী খনন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ চায়।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া ভূঁইয়া বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা আছি। প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তুত রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো।
বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ার ফলে জেলার সীমান্তবর্তী এ দুই উপজেলায় নদীর ভাঙন দেখা দিলে মানুষের দুর্ভোগ লাগামহীন হয় প্রতিবছর। টেকসই বাঁধ মেরামতের জন্য ৭৩১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে নিরীক্ষণ শেষে। নদীতে পানির প্রবাহ কিছুটা কমে এলে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত করা হবে বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.আরিফুর রহমান ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নদীর উভয়পাড়ের ১২২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তীরবর্তী এলাকার কয়েকশ পরিবারের হাজার হাজার মানুষের মানবেতর দিন কাটছে।
এমন দুর্দশার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফেলতিকে দায়ী করে স্থানীয় এনামুল হক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ প্রকল্পের পাইপ বাঁধের নিচ দিয়ে নেওয়ার সময় ভালো করে মাটি চাপ দেওয়া হয়নি। বাঁধ সংলগ্ন স্থানে বালু উত্তোলন, বড় ইঁদুরের গর্ত তৈরির কারণে বাঁধ ভেঙে যায়।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, মাটির বাঁধ এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর ইঁদুরসহ বিভিন্ন প্রাণী ফুটো করে ফেলে। আর ওই ফুটো পানির চাপে ভাঙন কবলিত হয়। এছাড়া নদীর ধারণ ক্ষমতাও কম। নদীর কয়েকটি স্থানে আছে ৯০ ডিগ্রির মতো বাঁক। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন।
তবে এমন আশ্বাসে স্বস্তি নেই এলাকাবাসীর। প্রতি বছর বর্ষা এলে বাঁধ ভাঙে, শুনতে হয় নতুন আশ্বাস। একদিকে বাঁধ সংস্কার করা হয় অন্য দিকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। স্থানীয়রা ত্রান চান না, তারা স্থায়ী সমাধান চান।
শহর প্রতিনিধি :
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিবন্ধিত এফবিএম ফাউন্ডেশন পরিচালিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ফেনী আইটি সেন্টার এন্ড কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে কোর্স শেষে সনদ বিতরন করা হয়।
শনিবার বিকেলে আইটি সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন (জানুয়ারি-জুন’২২) ব্যাচের ৬ মাস মেয়াদী কোর্সের সার্টিফিকেট প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
সনদ বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মিলন।
এফবিএম ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ফেনী আইটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক এম শরীফ ভূঞার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন স্পোকেন ইংলিশ প্রশিক্ষক আবদুল্যাহ রিয়াদ জয়, সানরাইজ যুব ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সদস্য মাষ্টার এটিএম আতিকুল ইসলাম (বাদল), জয় রয়, ইয়াছিন আরাফাত, ইয়ামিন সাকিব, জয় চক্রবর্তী, অমিত হাসান প্রমুখ।
শেষে অতিথিবৃন্দ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ তুলে দেন।
ফেনী প্রতিনিধি :
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কোনো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশকে দাবায়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
বাংলাদেশ এখন শিক্ষা, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। কোনো নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করে না বাংলাদেশ।
রোববার (২১ মে) বিকেলে ফেনীর বিলোনীয়া স্থল বন্দরের উদ্ভোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হয়ে বন্দরের শুভ উদ্বোধন করেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, বিএনপি ভুল স্বপ্ন দেখছে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটানো যাবে না৷ লন্ডন থেকে বাংলাদেশ জ্বালিয়ে দিওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এ ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে।
বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, ফেনী -১ আসনের সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান, পুলিশ সুপার জাকির হাসান।
অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারমান কামাল উদ্দিন মজুমদার, পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল।
বিলোনীয়া স্থল বন্দরটি জেলার পরশুরাম উপজেলার বিলোনীয়া সীমান্তে অবস্থিত। এ বন্দরের বিপরীতে ভারতরে ত্রিপুরা রাজ্যের মুহুরী ঘাট শুল্ক স্টেশন অবস্থিত।
এ অঞ্চলের সঙ্গে দুই দেশের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করার জন্য ২০০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিলোনীয়া শুল্ক স্টেশনকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ একর জমির ওপর এ বন্দর নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর আপত্তির কারণে তিন একর জমির মধ্যে অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
গেল ২০১৮ সালে বিলোনিয়া স্থল বন্দর একনেকে ৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার অনুমতি মিললে ২০২০ সালে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
দশ একর জায়গার ওপর বন্দর নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেবি টপ লাইনের ফয়সাল আহমেদ কাজ শুরু করতে গেলে ভারতের সীমান্ত ফোর্স (বিএসএফ) নির্মাণ কাজে বাধা দেয়।
বেশ কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকার পর নোম্যান্স ল্যান্ডের বিতর্ক থাকায় ১০ একরের মধ্যে ৭ একর বাদ দিয়ে ৩ একরে বরাদ্দ কমিয়ে ১১ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে শেষ হয়ে আজ বন্দর উদ্ভোধন করেছে কর্তৃপক্ষ।
এক বছরের মধ্যে কাজটি শেষ করার চুক্তি থাকলেও বিএসএফের বাধা ও করোনায় দুই বছর বন্ধ থাকায় ৪ বছরে লোকশান দিয়ে কাজটি করতে হয় বলে ঠিকাদার ফয়সাল জানান।
বিলোনিয়া স্থল বন্দর কর্তপক্ষের প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো: সাহাবুদ্দিন জানান, বিএসএফের বাধার কারণে ৮০ হাজার স্কয়ার ফুটের গাড়ি পার্কিং ইয়ার্ড, ওয়ার্চ টাওয়ার, মসজিদ, ড্রেন, বাউন্ডার নির্মাণ বন্ধ রয়েছে।
সংকুচিত ৩ একরের মধ্যে নির্মিত বন্দরের ভেতর ৫০টি গাডি রাখার ইয়ার্ড, ওজন স্কেল, কয়েকটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সীমিত আকারে সাময়িক কাজ শুরু করতে আজ এর উদ্ভোধন করা হচ্ছে। সমস্যার সমাধান হলে বাকি ৭ একরের মধ্যে অন্য স্থাপনাগুলো নির্মাণ করে পুরোদমে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু করা হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান আলী জানান, এই স্থল বন্দর দিয়ে বাংলদেশসহ ভারত,নেপাল,ভুটানের মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত পণ্যগুলো আমদানি-রপ্তানি হবে।

আজকের সময় প্রতিবেদক :
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের সব মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাংলার মানুষের জনযুদ্ধ। সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলার মানুষ বর্বর হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম চলেছে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বে। নিয়মিত বাঙালি সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা গঠিত মুক্তিফৌজ মুজিবনগরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দ্বারা সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে। গণমানুষের জনআকাঙ্ক্ষার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জনকে অর্থবহ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের মানবতাবিরোধী ভূমিকাকে যেন আমরা একটুও ভুলে না যাই। পাকিস্তানি হানাদারদের প্রেতাত্মারা আজও স্বাধীন বাংলাদেশে ছদ্মবেশে সক্রিয় দেশবিরোধী অপকর্মে, তাদের চিহ্নিত করে সতর্ক থাকাটাও বিশেষ জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করি।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী উদযাপন করছি আমরা, এ এক আনন্দঘন অনুভূতি। আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনি বেদনারও। এই দিনটিকে ঘিরে রয়েছে অনেক দুঃখ-কষ্ট-বেদনা, রয়েছে অনেক উচ্ছ্বাস, আবেগ, অনুভূতি আর আনন্দ-বেদনার মিশ্রণ। অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগ, অনেক সংগ্রাম, অনেক বেদনার বিনিময়ে এসেছে এ স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই সব জানা-অজানা শহীদকে, যাঁরা তাঁদের বর্তমানকে বিসর্জন দিয়ে গেছেন এ দেশের ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার জন্য। এ দেশের বীর যোদ্ধা যারা দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করেছেন, সম্ভ্রম হারিয়েছেন যে সকল মা-বোন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সেসব বীর সূর্যসৈনিকদের জানাই অজস্র সালাম আর শ্রদ্ধা। ঐতিহাসিক এই দিনে জাতীয় চার নেতাসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা শ্রদ্ধাবনত মস্তকে স্মরণ করি। তিনি শুধু বাংলাদেশের নন, বিশ্বের মহান নেতা ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে (ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ২০১২: ৪৮) লিখেছেন, সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি…। তবুও ওরা [বাঙ্গালি জাতি] গরিব, কারণ যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজের দোষে। নিজকে এরা চেনে না, আর যত দিন চিনবে না এবং বুঝবে না তত দিন এদের মুক্তি আসবে না।
নিজেকে চেনার এই দিবসটি আমাদের কাছে মুক্তির প্রতিজ্ঞায় উদ্দীপ্ত হওয়ার ইতিহাস জানান দেয়। কারণ স্বাধীনতার অর্থ শুধু রাষ্ট্রীয় স্বাতন্ত্র্য নয়, স্বাধীনতা মানে সব ধরনের বৈষম্য থেকে মুক্তি ও সুশাসনের নিশ্চয়তাও। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির ঘোষণা একই বাক্যে উচ্চারণ করেন। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে তিনি শুধু আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির ঘোষণাই দেননি, এতে নানা বিষয়ে তাঁর মৌলিক চিন্তার প্রকাশও ঘটে। তাঁর যাপিত জীবন, কর্ম ও আদর্শের অনুসন্ধানকালে তেমনইটাই দৃশ্যমান হয়।
আমাদের সময় এসেছে ফিরে দেখার, যে মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সেদিন আমরা চেয়েছিলাম একটি স্বাধীন পুণ্যভূমি, বীর শহীদেরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে, এ দেশ কি তা দিতে পেরেছে? কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে আমরা কি পৌঁছাতে পেরেছি? এ ক্ষেত্রে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মতামতও প্রণিধানযোগ্য। তাঁরা বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকেই দেশমাতৃকাকে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষার জন্যে কলম ছেড়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছিলেন। বর্তমান প্রজন্মকে অস্ত্র ধরতে হবে না। তাদের কলম যুদ্ধ করতে হবে, মেধার যুদ্ধ করতে হবে। সেই যুদ্ধ হবে দেশের ভিতরে এবং দেশের বাইরে। আর সেই যুদ্ধের মাধ্যমে গৌরব ছিনিয়ে আনতে হবে।
আমাদের দেশের নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেখি তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা, উৎকর্ষের প্রমাণ। আমার মতো শিক্ষকদের জীবনে প্রায়ই দেখা মেলে, তরুণ প্রজন্মের মাঝে যে সৃষ্টিশীলতা আছে, যে উদ্যম আছে, যে প্রত্যাশা তাদের মাঝে কাজ করে, তা যদি আমরা কিছুটা তাদেরকে প্রাণিত, প্রভাবিত করতে পারি, দেখা যায় যে তারা বড় বড় অর্জন নিয়ে আসতে পারবে। তরুণ প্রজন্ম সব সময় সৃষ্টিশীল কাজ করে। তাদের মাঝে নিত্যনতুন আবিষ্কারের প্রবণতা আমরা নিশ্চয় লক্ষ করে থাকি। আমরা যে সীমাবদ্ধতা নিয়ে বড় হয়েছি, তা ছাড়িয়ে যাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। কারণ তাদের মাঝে সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে করোনা-উত্তর যে পৃথিবী, এখানে আমাদের তরুণদের ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ, করোনার মাঝে আমরা যে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এসেছি, করোনা-উত্তর পৃথিবী কিন্তু একেবারেই নতুন হবে। কাজেই এই নতুন পৃথিবীতে তরুণ প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তাই তাদের প্রস্তুত করতে হবে এবং তারাই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেবে। এটিই প্রত্যাশা করি। নিশ্চয়ই আমরা আমাদের দেশমাতৃকার প্রতি প্রকৃত দায়িত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।
স্টাফ রিপোর্টার :ফেনী প্রতিনিধি :
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলনের নামে মাঠে সংঘাত করে লাভ নেই। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে। নির্বাচনে সরকারের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ থাকবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হটানোর জন্য অতি বাম, অতি ডান মিলে মিশে একাকার হয়েছে। তাদের লক্ষ্য একটাই হটাও শেখ হাসিনা।
তারা এক হয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেও অতি বাম অতি ডান ইকুয়েল টু শূন্য।
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর)ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের উসকানিমূলক অপতৎপরতা, সরকার পতনের দিবা স্বপ্ন সফল হবে না। আমরা বিশ্বাস করি বিশ্বাস করি তারা নির্বাচনে আসবে সব নিবন্ধিত দলকে আমরা স্বাগত জানাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ার সম্পর্কে বলেছি। সম্পদকে সম্ভাবনার রূপ দিতে কাজ করছি। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব সংকটকালে জ্বালানি, ডলার, রিজার্ভ নিয়ে আমরা ভাবছি।
তিনি বলেন, পাকিস্তানে রিজার্ভ ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। সে তুলনায় আল্লাহর রহমতে ভালো আছি সংকটেও দিশেহারা হইনি আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি।
লোডশেডিংয়ের সংকট সরকার সুন্দরভাবে কাটিয়ে উঠেছে। তার প্রমাণ মানুষ নির্বিঘ্নে বিশ্বকাপ দেখেছে কোনো ধরনের প্রতিবাদ দেখিনি। জ্বালানি সংকট মিটছে। অনেক উন্নত দেশ থেকেও আমরা ভালো আছি৷ অনেক দেশ জীবন-জীবিকার কঠিন লড়াই করছে। সে হিসেবে বাংলাদেশ খুব ভালো আছে।
বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলা করছি ঠান্ডা মাথায়। আমরা অশান্তি চাই না। খারাপ পরিস্থিতি উসকানি দিতে চাই না। যারা আন্দোলনের নামে সংঘাত করতে চেয়েছে তাদের প্রতিরোধের জন্য আমরা সতর্ক পাহারায় ছিলাম।
আমরা আক্রমণ করবো না, আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি বলে দিবে কি করতে হবে। গতকালের বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের গণমিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন ৩৩ দল গণমিছিল করেছে। বেশির ভাগের ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার বিষয়ে মাথা ব্যথার কারণ নেই। ঠিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনেই হবে। আমরা পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল করেছি। এগুলোর উপকারভোগী দেশের জনগণ। দেশ বিরোধী অপশক্তি এতেও অখুশি। তারা উন্নয়নের এসব যজ্ঞেও দুর্নীতির কথা বলছে। কাদের বলেন, কালো মেঘ কেটে যাবে, সবার শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
কূটনৈতিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, জেনেভা কনভেনশনের আলোকে কূটনৈতিকরা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা ঘামাতে পারেন না। আমরাতো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা ঘামাই না। আমাদের দেশের বিষযে বলার আগে তারা নিজেদের দিকে তাকানো উচিত।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্র পৃথিবীর কোথাও ত্রুটিমুক্ত নয়, তবে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করছে। বিএনপিতো এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি করেছিলো। তারা কিভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।
হঠাৎ মাঠে জামায়াতের সক্রিয়তার বিষয়ে তিনি বলেন, সহিংসতা হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জবাব দেবে। তারা চুপ করে বসে থাকবে না।
সর্বশেষ ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন সরকারের এজেন্ডা একটাই মানুষকে বাঁচানো। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান হাসান, পুলিশ সুপার জাকির হাসান, ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী ও ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওবায়দুল কাদের হেলিকপ্টারযোগে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে অবতরণ করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা নিয়ে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা করেন।
আজকের সময় রিপোর্ট :
ফেনীর কৃতিসন্তান বিচারপতি কাজী এবাদুল হক চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাইহে রাজিউন।
ভাষা সংগ্রামের জন্য একুশে পদকপ্রাপ্ত, সাবেক বিচারপতি ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলা ভাষায় প্রথম রায় প্রদানকারী ও আইন বিষয়ক বহু মূল্যবান গ্রন্থের প্রণেতা কাজী এবাদুল হক ১৪ জুলাই’২২ রাত ১২.৪৫ মিনিটে ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।
কাজী এবাদুল হক ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারী ফেনী জেলার বালীগাঁও গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৫১ সালে মেট্রিক পাস করেন, ১৯৫৩ সালে ফেনী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৫৫ সালে স্নাতক ও ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে ফেনী ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (এফডিসি)র কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব গোলাম মাওলা চৌধুরী, ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী এবং সদস্য সচিব জনাব আ,ন,ম নঈমুল হক রাসেল গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আল্লাহ পাক মরহুমকে বেহেস্তবাসী করুন।
এছাড়া সানরাইজ ফাউন্ডেশন, আজকের সময় পাঠক ফোরাম , বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম নেতৃবৃন্দ শোক জ্ঞাপন করেছেন।